সংবাদ

স্বামীর সাথে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ


প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

স্বামীর সাথে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ
ছবি : সংবাদ

সংসার জীবনের মাত্র তিন বছর। ঘরে রয়েছে দুই বছরের ছোট এক কন্যাসন্তান। কিন্তু শাশুড়ির সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন। শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সাদিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূ।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে সাদিয়ার মরদেহ পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সাদিয়ার স্বামী খাইরুল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে মানিকদী পুরানগাঁও এলাকার পাদুকা ব্যবসায়ী খাইরুল মিয়ার সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও দেবর-ভাসুরদের নিয়ে যৌথ পরিবারে থাকতে আপত্তি ছিল সাদিয়ার। তিনি স্বামীর কাছে বারবার আলাদা সংসার পাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে মাসখানেক আগে রাগ করে ঢাকার বাসাবোয় মায়ের কাছে চলেও যান তিনি। এক সপ্তাহ আগে স্বামী খাইরুল তাকে বুঝিয়ে এবং আলাদা সংসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

সাদিয়ার মামি নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আলাদা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও খাইরুল তা পালন করেনি। এ নিয়ে শুক্রবার দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। গতকাল সন্ধ্যায় সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের জানানো হয় সে স্ট্রোক করেছে। গিয়ে দেখি ওর গলায় দাগ। পরে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

স্থানীয়রা জানান, আত্মহত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা এড়াতে সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে রফাদফা করার চেষ্টা চালান। সাদিয়ার মামা নবী হোসেন বলেন, ‘দুই বছরের বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


স্বামীর সাথে অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সংসার জীবনের মাত্র তিন বছর। ঘরে রয়েছে দুই বছরের ছোট এক কন্যাসন্তান। কিন্তু শাশুড়ির সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন। শেষ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সাদিয়া বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূ।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে সাদিয়ার মরদেহ পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পুরানগাঁও এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সাদিয়ার স্বামী খাইরুল মিয়া পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে মানিকদী পুরানগাঁও এলাকার পাদুকা ব্যবসায়ী খাইরুল মিয়ার সঙ্গে সাদিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও দেবর-ভাসুরদের নিয়ে যৌথ পরিবারে থাকতে আপত্তি ছিল সাদিয়ার। তিনি স্বামীর কাছে বারবার আলাদা সংসার পাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে মাসখানেক আগে রাগ করে ঢাকার বাসাবোয় মায়ের কাছে চলেও যান তিনি। এক সপ্তাহ আগে স্বামী খাইরুল তাকে বুঝিয়ে এবং আলাদা সংসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

সাদিয়ার মামি নাসিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আলাদা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও খাইরুল তা পালন করেনি। এ নিয়ে শুক্রবার দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। গতকাল সন্ধ্যায় সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের জানানো হয় সে স্ট্রোক করেছে। গিয়ে দেখি ওর গলায় দাগ। পরে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

স্থানীয়রা জানান, আত্মহত্যার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মামলা এড়াতে সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিহতের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে রফাদফা করার চেষ্টা চালান। সাদিয়ার মামা নবী হোসেন বলেন, ‘দুই বছরের বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত