বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (বিএসএইচআই) হাম আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যত শিশু মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশই জন্মের পর মায়ের দুধ পায়নি। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত অন্য শিশুদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ পুরোপুরি মায়ের দুধ পায়নি। আর হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল—যার মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ও ৫৩ শতাংশ মাঝারি ধরনের অপুষ্টিতে ছিল।
বিএসএইচআই এবং আইসিডিডিআর,বি-এর একদল গবেষক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ শিশু হামে মারা যায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএসএইচআই অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএইচআই পরিচালক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে গবেষকদের মধ্যে অর্থ সম্মানির চেক তুলে দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
গবেষকরা জানান, ১১ শিশু মারা যাওয়ার পর বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করা হয়। দেখা যায়, নয় মাসের কম বয়সি নিয়মিত টিকার বয়স হয়নি এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, টিকা নেওয়ার পর কিছু শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্যান্য কারণ হাম আক্রান্তের পেছনে থাকতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি সংক্রমণে ভূমিকা রেখেছে, তা নির্ধারণ করা বর্তমান গবেষণার উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল না।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৫৪ জন শিশুর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজন ছিল ১৮ জনের এবং বাকি ৩৩৬ জনের আইসিইউ প্রয়োজন হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৫৪ জনের শরীরে জ্বর, ৩৪৫ জনের ফুসকুড়ি, ৩০৪ জনের কাশি, ৬০ জনের সর্দি-কাশি, ৫৪ জনের ডায়রিয়া ছিল এবং ২১ জন বমি করেছে। এসব রোগীদের মধ্যে পরিবারের মাধ্যমে হাসপাতালে এসেছে ২৫২ জন এবং রেফারেন্সে এসেছে ১০২ জন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন সুস্থ হয়েছে এবং ১১ জন মারা গেছে।
অনুষ্ঠানে এক প্রেজেন্টশনে দেখানো হয়, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশেই হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে হাম ও উপসর্গ থাকা রোগী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। অন্যদিকে ভারতে ২২ হাজার ৪৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ২১ হাজার ১৪১ জন, মেক্সিকোতে ১১ হাজার ৩৯৮ জন, ইয়েমেনে ৯ হাজার ৭৩৬ জন, ক্যামেরুনে ৮ হাজার ৫৪০ জন, পাকিস্তানে ৮ হাজার ৪৫ জন, অ্যাঙ্গোলায় ৫ হাজার ৮৮৭ জন, মাদাগাস্কারে ৫ হাজার ৬১০ জন, নাইজেরিয়ায় ২ হাজার ৯২৩ জন, সুদানে ২ হাজার ৭৫৪ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ১৩৪ জন, কানাডায় ১ হাজার ৭৯ জন এবং নেপালে সবচেয়ে কম ৪৫৬ জন।
হামের জিনোম সিকোয়েন্সের বিষয়ে প্রেজেন্টশনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী হামের ২৮ ভিন্ন ধরন রয়েছে; যার মধ্যে ডি-৮ এবং বি-৩ গত বছর ছড়িয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ছড়িয়েছে বি-৩ ধরন। গবেষকরা বলেন, হামের বি-৩ ধরনের ১৮টি সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন এতে চারটি মিউটেশন হয়েছে। তবে এই মিউটেশনে গুরুতর পরিবর্তন হয়নি। ফলে দেশে চলমান টিকা সে ক্ষেত্রে কার্যকরী থাকবে।
বিএসএইচআই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সবকিছু ঠিকঠাক করতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই কাজ করতে হবে, মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা এক দিনে বা সামনের সপ্তাহে সমাধান হয়ে যাবে—এমন কোনো অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা যাবে না।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এই খাত নানা সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি বা বারডেমের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করেছে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশু স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল কাজ শুরু করবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স এবং ১ লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯২২ জনে- যার মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৮২৩ জন ও নিশ্চিত হামে ৯৯ জন। এ সময় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৯৩১ জন ও নিশ্চিত হামে ৮৭ জন। বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৩৯ জন ও নিশ্চিত হামে ৭৭ জন। সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১১৩ জন।
রাজশাহী বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৯ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৫ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে সন্দেহজনক হামে ২০৯ জন। বরিশাল বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১৩৪ জন ও নিশ্চিত হামে ৮ জন। খুলনা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৫১ জন এবং রংপুর বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন এবং নিশ্চিত হামে ১৮ হাজার ৭৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে (বিএসএইচআই) হাম আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত যত শিশু মারা গেছে, তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশই জন্মের পর মায়ের দুধ পায়নি। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত অন্য শিশুদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ পুরোপুরি মায়ের দুধ পায়নি। আর হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল—যার মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ও ৫৩ শতাংশ মাঝারি ধরনের অপুষ্টিতে ছিল।
বিএসএইচআই এবং আইসিডিডিআর,বি-এর একদল গবেষক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ জন হাম আক্রান্ত শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ শিশু হামে মারা যায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএসএইচআই অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএইচআই পরিচালক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে গবেষকদের মধ্যে অর্থ সম্মানির চেক তুলে দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
গবেষকরা জানান, ১১ শিশু মারা যাওয়ার পর বয়স ও টিকা নেওয়ার ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করা হয়। দেখা যায়, নয় মাসের কম বয়সি নিয়মিত টিকার বয়স হয়নি এমন ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, টিকা নেওয়ার পর কিছু শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্যান্য কারণ হাম আক্রান্তের পেছনে থাকতে পারে। তবে এসব কারণের কোনটি সংক্রমণে ভূমিকা রেখেছে, তা নির্ধারণ করা বর্তমান গবেষণার উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল না।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৫৪ জন শিশুর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজন ছিল ১৮ জনের এবং বাকি ৩৩৬ জনের আইসিইউ প্রয়োজন হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৩৫৪ জনের শরীরে জ্বর, ৩৪৫ জনের ফুসকুড়ি, ৩০৪ জনের কাশি, ৬০ জনের সর্দি-কাশি, ৫৪ জনের ডায়রিয়া ছিল এবং ২১ জন বমি করেছে। এসব রোগীদের মধ্যে পরিবারের মাধ্যমে হাসপাতালে এসেছে ২৫২ জন এবং রেফারেন্সে এসেছে ১০২ জন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন সুস্থ হয়েছে এবং ১১ জন মারা গেছে।
অনুষ্ঠানে এক প্রেজেন্টশনে দেখানো হয়, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশেই হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে হাম ও উপসর্গ থাকা রোগী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন। অন্যদিকে ভারতে ২২ হাজার ৪৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ২১ হাজার ১৪১ জন, মেক্সিকোতে ১১ হাজার ৩৯৮ জন, ইয়েমেনে ৯ হাজার ৭৩৬ জন, ক্যামেরুনে ৮ হাজার ৫৪০ জন, পাকিস্তানে ৮ হাজার ৪৫ জন, অ্যাঙ্গোলায় ৫ হাজার ৮৮৭ জন, মাদাগাস্কারে ৫ হাজার ৬১০ জন, নাইজেরিয়ায় ২ হাজার ৯২৩ জন, সুদানে ২ হাজার ৭৫৪ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ১৩৪ জন, কানাডায় ১ হাজার ৭৯ জন এবং নেপালে সবচেয়ে কম ৪৫৬ জন।
হামের জিনোম সিকোয়েন্সের বিষয়ে প্রেজেন্টশনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী হামের ২৮ ভিন্ন ধরন রয়েছে; যার মধ্যে ডি-৮ এবং বি-৩ গত বছর ছড়িয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ছড়িয়েছে বি-৩ ধরন। গবেষকরা বলেন, হামের বি-৩ ধরনের ১৮টি সিকোয়েন্স পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন এতে চারটি মিউটেশন হয়েছে। তবে এই মিউটেশনে গুরুতর পরিবর্তন হয়নি। ফলে দেশে চলমান টিকা সে ক্ষেত্রে কার্যকরী থাকবে।
বিএসএইচআই পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সবকিছু ঠিকঠাক করতে অন্তত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যেই কাজ করতে হবে, মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা এক দিনে বা সামনের সপ্তাহে সমাধান হয়ে যাবে—এমন কোনো অবাস্তব প্রত্যাশা রাখা যাবে না।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এই খাত নানা সংকটের মুখে পড়েছিল। তবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি বা বারডেমের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করেছে।
শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিশু স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল কাজ শুরু করবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে খুব দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স এবং ১ লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯২২ জনে- যার মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৮২৩ জন ও নিশ্চিত হামে ৯৯ জন। এ সময় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ৯৩১ জন ও নিশ্চিত হামে ৮৭ জন। বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৩৯ জন ও নিশ্চিত হামে ৭৭ জন। সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১১৩ জন।
রাজশাহী বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৯ জন ও নিশ্চিত হামে ২ জন। ময়মনসিংহ বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৩৫ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে সন্দেহজনক হামে ২০৯ জন। বরিশাল বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১৩৪ জন ও নিশ্চিত হামে ৮ জন। খুলনা বিভাগে সন্দেহজনক হামে ৫১ জন এবং রংপুর বিভাগে সন্দেহজনক হামে ১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১ জন এবং নিশ্চিত হামে ১৮ হাজার ৭৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন।

আপনার মতামত লিখুন