পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ। উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
১৪৫ দশমিক ৪৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৯ জন বাসিন্দার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসকের ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে যান।
উপজেলায় মূলত দুটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের মূল চাপ সামলানো হতো। তবে সম্প্রতি 'আল-মদিনা' নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা একাধিক রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ওই ক্লিনিকের সব ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর উপজেলার অপর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্বল্প শয্যার হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর উপস্থিতির কারণে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাবনা জেলা সদর কিংবা পাশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও চিকিৎসা বাবদ বাড়তি খরচের পাশাপাশি স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আল-মদিনা হাসপাতালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IEDCR) একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি ক্লিিনকে অস্ত্রোপচারের পর যক্ষ্মা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আইইডিসিআরের তদন্ত দল একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সার্বিক অবস্থা দেখে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা ও চিকিৎসক বাড়ানো এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে চিকিৎসাসেবার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ কমবে বলে মনে করছেন তারা।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ। উপজেলার একমাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
১৪৫ দশমিক ৪৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৯ জন বাসিন্দার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে শয্যা ও চিকিৎসকের ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে যান।
উপজেলায় মূলত দুটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতিসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের মূল চাপ সামলানো হতো। তবে সম্প্রতি 'আল-মদিনা' নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা একাধিক রোগীর ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এরপর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে ওই ক্লিনিকের সব ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর উপজেলার অপর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। স্বল্প শয্যার হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর উপস্থিতির কারণে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে অনেক রোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাবনা জেলা সদর কিংবা পাশের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও চিকিৎসা বাবদ বাড়তি খরচের পাশাপাশি স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আল-মদিনা হাসপাতালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IEDCR) একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি ক্লিিনকে অস্ত্রোপচারের পর যক্ষ্মা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আইইডিসিআরের তদন্ত দল একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সার্বিক অবস্থা দেখে আল-মদিনা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা ও চিকিৎসক বাড়ানো এবং বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে চিকিৎসাসেবার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ কমবে বলে মনে করছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন