বাগেরহাটের চিতলমারীতে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ পাটের সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফেরাতে জমিতে নতুন উদ্যোমে পাটচাষে মেতে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বন্ধ হওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা এবং পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়লে আবারও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিতলমারীর বিভিন্ন আবাদি ও অনাবাদী মিলে ৮৮১ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। এলাকার কৃষকেরা বর্তমানে ক্ষেত থেকে পাট কাটা, পানিতে জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাজারদর অনুকূলে থাকায় এবার বেশ ভালো লাভের আশা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় শিবপুর গ্রামের প্রবীণ পাটচাষি বাদশা শেখ জানান, একসময় মধুমতী ও বলেশ্বর নদীর চর এবং ধানের জমিতে প্রচুর পাটের আবাদ হতো। পাটকলগুলো সচল থাকায় মিলত ভালো বাজারদর। মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা খারাপ হলেও এখন আবার চিত্র পাল্টাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে পাটচাষে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ পাট পাওয়া যায়। বাজারে এখন প্রতি মণ পাট ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি বিঘার পাটখড়ি বিক্রি করেই পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলে ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাটচাষ অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে পরিবেশকর্মী বাবলু মন্ডল জানান, পরিবেশ রক্ষায় এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে পাটজাত পণ্যের সুদিন ফেরানো জরুরি।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, পাটচাষ অত্যন্ত লাভজনক এবং এতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। কম খরচে বেশি লাভের কারণে চাষিদের আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সরকারি প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে। ন্যায্য মূল্য ও সরকারি সহযোগিতা বজায় থাকলে চিতলমারীর কৃষি অর্থনীতিতে পাট আবারও প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন