বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদী মতাদর্শ আর সন্ত্রাসবাদের বলি হওয়া হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের অধিকার রক্ষা ও তাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, প্রতিবছর সন্ত্রাসবাদ হাজারো মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হামলার তাৎক্ষণিক রেশ কেটে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা অবহেলিত হয়ে পড়েন। তাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যায়। অনেক সদস্য রাষ্ট্রেরই ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।
২০১৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক প্রস্তাবে (৭২/১৬৫) প্রতিবছর ২১ আগস্ট দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদের শিকার ব্যক্তিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে ‘ভিকটিমস অব টেরোরিজম অ্যাসোসিয়েশন নেটওয়ার্ক’ (VoTAN) যাত্রা শুরু করেছে। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মটি ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিশ্চিতে কাজ করবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের শিকার নারী, শিশু এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সহায়তা পরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেরোরিজম অফিস (ইউএনওসিটি) এই কার্যক্রমে কৌশলগত নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটি মনে করে, কেবল প্রতীকী সংহতি নয়, বরং শক্তিশালী আইনি ও সামাজিক কাঠামোর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আপনার মতামত লিখুন