সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তার বাড়িতে ছুটে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তিনি গভীর সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
নিহত কবিকা মন্ডল (৩৫) ওই গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর কবিকার পেটে প্রায় দেড় কেজি ওজনের গজ পাওয়া গিয়েছিল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে নিহত কবিকার বাড়িতে পৌঁছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘খবরটি দেখে আমি নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থায় কোনো অবহেলার কারণে যদি একজন মায়ের অকালমৃত্যু হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখব এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি নবজাতক পৃথিবীতে এল, অথচ সে তার মায়ের মুখটাও দেখতে পারল না - এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। এই পরিবারের প্রতি সরকারের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন প্রসববেদনা নিয়ে ফরিদপুরের ‘সমরিতা হাসপাতাল’–এ ভর্তি হন কবিকা। ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার কন্যাসন্তান প্রসব করান। পরদিন থেকেই কবিকার পেট ফুলতে শুরু করে। অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ বের করা হয়। দীর্ঘদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে তিনি মারা যান।
নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল বলেন, ‘দুই মাসের নবজাতকসহ আমার তিন সন্তান এখন মাতৃহারা। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’ তিনি আরও দাবি করেন, অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তার মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন