চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হলেও চরম লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬টি বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও ৭টি কেন্দ্র বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কাগজে-কলমে লোডশেডিং ‘শূন্য’ দাবি করলেও বাস্তবে চট্টগ্রামে দৈনিক ২০০ মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকছে। ফলে বন্দরনগরীসহ জেলাজুড়ে চলছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১২০০ থেকে ১৩০০ মেগাওয়াট। বিপরীতে এই অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩৫০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতা চাহিদার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। অথচ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কারণে স্থানীয়রা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রাউজান-১ ও ২, হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, কাপ্তাই সোলার, টেকনাফ সোলার ও ইউনাইটেড পাওয়ার। এ ছাড়া আনলিমা এনার্জি, আনোয়ারা ইউনাইটেড ও বারাকাসহ ৭টি কেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মূলত গ্যাস সংকটের কারণেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুতের এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নগরীর বালুচরা এলাকার বাসিন্দা জুবায়েত আরেফিন বলেন, ‘দিনে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। একবার গেলে আসার নাম নেই। একদিকে গ্যাসের সমস্যা, তার ওপর লোডশেডিং-খুবই বাজে অবস্থায় আছি।’ হালিশহরের মোক্তার হোসেন জানান, দিনে কাজ শেষে রাতেও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের সুযোগ নেই।
তীব্র গরমে বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে বাসাবাড়িতে পানির সংকট প্রকট হয়েছে। শিল্পাঞ্চলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাথরঘাটা, কালুরঘাট ও বায়েজিদ এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পিডিবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে গ্যাস সংকট চলছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় আমাদের রেশনিং করতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট কাটলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
আপনার মতামত লিখুন