রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চা-দোকানি ফারুক শেখ (৪৬) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বড় ভাইকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আপন ছোট ভাই বারেক শেখ। এ ঘটনায় বারেকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা দা, পোশাক ও মাস্ক।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন-দৌলতদিয়া এলাকার আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখ। তারা বারেকের ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সামসুল হক জানান, গত ২২ আগস্ট দুপুরে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় খুন হন ফারুক শেখ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবি। সন্দেহভাজন হিসেবে ছোট ভাই বারেককে আটকের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ, মাকে মারধরের প্রতিশোধ এবং বড় ভাইয়ের সম্পত্তি ও টাকা আত্মসাতের লোভে ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করেন বারেক। এই কাজে সহায়তার জন্য মাত্র তিন হাজার টাকায় ভাড়া করেন আলমগীর ও রুবেলকে। ঘটনার দিন বারেক নিজে দা সংগ্রহ করে দিয়ে বাইরে চলে যান এবং ভাড়াটে খুনিরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বারেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতদিয়ার হোসেন মণ্ডলপাড়া থেকে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেখানো মতে পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে রক্তমাখা দুটি দা ও খুনিদের পোশাক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন