সংবাদ

জলবায়ুর প্রভাবে মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

জলবায়ুর প্রভাবে মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল ও সম্মুখসারির মানুষদের মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত নজরদারির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেমিনারে এই দাবি তোলা হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে, যেখানে সরকারের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার (ইউপিআর) সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘাটতিগুলো দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
​অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা ২০১৮ সালের তৃতীয় ইউপিআর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের চতুর্থ চক্রে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ গ্রহণ করেছে। এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ঘাটতি পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "এই অঙ্গীকারগুলো কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে পথও চিহ্নিত করতে হবে।"
সেমিনারে সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জলবায়ুজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও সুপারিশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
​আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সংকটের সুষ্ঠু সমাধানের প্রাতিষ্ঠানিক অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলার জন্য এখনো যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের।"
​সরকারি সংস্থাগুলোর আন্তঃসমন্বয় ও আধুনিক তথ্যানুসন্ধানের ওপর জোর দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ। এর পাশাপাশি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এমবিই জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অধিকার রক্ষায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার তাগিদ দেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।"
বিশেষজ্ঞদের উন্মুক্ত প্যানেল আলোচনা শেষে মানবাধিকার সুরক্ষায় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও নীতিগত জনমত গঠনে নাগরিক সমাজের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জলবায়ুর প্রভাবে মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূল ও সম্মুখসারির মানুষদের মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত নজরদারির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেমিনারে এই দাবি তোলা হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে, যেখানে সরকারের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার (ইউপিআর) সুপারিশ বাস্তবায়নের ঘাটতিগুলো দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
​অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা ২০১৮ সালের তৃতীয় ইউপিআর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের চতুর্থ চক্রে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
তিনি জানান, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ গ্রহণ করেছে। এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ঘাটতি পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "এই অঙ্গীকারগুলো কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে পথও চিহ্নিত করতে হবে।"
সেমিনারে সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে জলবায়ুজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও সুপারিশের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
​আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ সংকটের সুষ্ঠু সমাধানের প্রাতিষ্ঠানিক অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলার জন্য এখনো যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের।"
​সরকারি সংস্থাগুলোর আন্তঃসমন্বয় ও আধুনিক তথ্যানুসন্ধানের ওপর জোর দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ। এর পাশাপাশি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এমবিই জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের অধিকার রক্ষায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার তাগিদ দেন।
আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।"
বিশেষজ্ঞদের উন্মুক্ত প্যানেল আলোচনা শেষে মানবাধিকার সুরক্ষায় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও নীতিগত জনমত গঠনে নাগরিক সমাজের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত