সংবাদ

‘প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনেছি’, আয়নাঘরের স্মৃতিতে আজও শিহরিত সালাহউদ্দিন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ এএম

‘প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনেছি’, আয়নাঘরের স্মৃতিতে আজও শিহরিত সালাহউদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

নিজের গুম হওয়ার ১১ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি মনে পড়লে আজও শরীরে শিহরণ জাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। তার ভাষায়, সেই সময়কার কথা মনে এলে আজও মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার এক স্মৃতিচারণায় তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে। ৬৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার খোঁজ মেলে। দীর্ঘ ৯ বছর সেখানে আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরানো দিনের কথা মনে করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চোখ বাঁধা কালো কাপড়ে, হাত বাঁধা স্টিলের হ্যান্ডকাফে। এক নয়, দুই নয়, টানা ৩২ ঘণ্টা এই অবস্থায় ছিলাম। উত্তরার একটি বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর আমাকে রাখা হয়েছিল মাত্র ৫ ফুটের একটি অন্ধকার কুঠরিতে। দীর্ঘ ৬১ দিন আমি জানতাম না কখন রাত হচ্ছে আর কখন দিন।’

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমে আসা ‘আয়নাঘরের’ বর্ণনা থেকেও নিজের বন্দিজীবন অনেক বেশি কঠিন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রুমের বাইরে ফ্যানের বিকট আওয়াজ হতো। প্রতি মুহূর্তে আমি কেবল মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেওয়ার একটি ছোট জায়গা ছিল, কেবল রুম পরিষ্কারের সময় কয়েক মিনিটের জন্য বের করা হতো।’

শিলংয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিন চোখ ও হাত বেঁধে দীর্ঘ যাত্রা শেষে আমাকে একটি গলফ মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, “ইউ আর ফ্রি নাউ”। এরপর ৯ বছর সেখানে আইনি জটিলতায় কাটাতে হয়েছে।’

নিজে ফিরে আসলেও সহকর্মী ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অনেকের আজও খোঁজ না মেলায় দুঃখ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে পরিবার কবর জিয়ারত করার সুযোগ পায়। কিন্তু গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের বেদনা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে। যারা ভিন্নমত দমনে আয়নাঘরের মতো বন্দিশালা তৈরি করেছে, তাদের আদালতের মাধ্যমে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


‘প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনেছি’, আয়নাঘরের স্মৃতিতে আজও শিহরিত সালাহউদ্দিন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নিজের গুম হওয়ার ১১ বছর আগের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি মনে পড়লে আজও শরীরে শিহরণ জাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। তার ভাষায়, সেই সময়কার কথা মনে এলে আজও মনের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার এক স্মৃতিচারণায় তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে। ৬৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার খোঁজ মেলে। দীর্ঘ ৯ বছর সেখানে আইনি লড়াই শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরানো দিনের কথা মনে করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চোখ বাঁধা কালো কাপড়ে, হাত বাঁধা স্টিলের হ্যান্ডকাফে। এক নয়, দুই নয়, টানা ৩২ ঘণ্টা এই অবস্থায় ছিলাম। উত্তরার একটি বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর আমাকে রাখা হয়েছিল মাত্র ৫ ফুটের একটি অন্ধকার কুঠরিতে। দীর্ঘ ৬১ দিন আমি জানতাম না কখন রাত হচ্ছে আর কখন দিন।’

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমে আসা ‘আয়নাঘরের’ বর্ণনা থেকেও নিজের বন্দিজীবন অনেক বেশি কঠিন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রুমের বাইরে ফ্যানের বিকট আওয়াজ হতো। প্রতি মুহূর্তে আমি কেবল মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। দরজার নিচ দিয়ে খাবার দেওয়ার একটি ছোট জায়গা ছিল, কেবল রুম পরিষ্কারের সময় কয়েক মিনিটের জন্য বের করা হতো।’

শিলংয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিন চোখ ও হাত বেঁধে দীর্ঘ যাত্রা শেষে আমাকে একটি গলফ মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, “ইউ আর ফ্রি নাউ”। এরপর ৯ বছর সেখানে আইনি জটিলতায় কাটাতে হয়েছে।’

নিজে ফিরে আসলেও সহকর্মী ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অনেকের আজও খোঁজ না মেলায় দুঃখ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হলে পরিবার কবর জিয়ারত করার সুযোগ পায়। কিন্তু গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের বেদনা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার এই দেশের মাটিতেই হবে। যারা ভিন্নমত দমনে আয়নাঘরের মতো বন্দিশালা তৈরি করেছে, তাদের আদালতের মাধ্যমে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত