সংবাদ

কটিয়াদীতে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জনের


প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১১ পিএম

কটিয়াদীতে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জনের
ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন–হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) এবং মিলনের পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তান যারা মনি। নিহত মিলন মিয়া সম্পর্কে রাবেয়া খাতুনের জামাতা। অর্থাৎ একই দুর্ঘটনায় শাশুড়ি, জামাতা ও নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন–নিহত মিলনের স্ত্রী বন্যা আক্তার (২৫), অটোরিকশা চালক কাজল মিয়া (৩০), রাবেয়ার স্বামী বদিউল আলম (৫৫), তাঁর নাতনি প্রিয়া আক্তার (২০) ও নাতি সাকিদুল হাসান (৮)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে অটোরিকশায় করে যাত্রীরা কিশোরগঞ্জ থেকে নরসিংদীর মনোহরদীর দিকে যাচ্ছিলেন। তেভাগা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি সামনে থাকা একটি পিকআপ কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের চোটে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত বদিউল আলম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মেয়ের অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে সপরিবারে তাড়াইলের কলাপাড়া গ্রামে এসেছিলাম। দুপুরে সবাই মিলে কর্মস্থল মনোহরদীতে ফিরছিলাম। কিন্তু পথে দ্রুতগতির এক কাভার্ড ভ্যান সব শেষ করে দিল। চোখের সামনেই জামাতা শেষ হয়ে গেল। হাসপাতালে আসার পর শুনলাম আমার স্ত্রী আর নাতনিও নেই।’

নিহতদের স্বজন আল আমিন বলেন, ‘একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। এই শোক সইবার শক্তি আমাদের নেই। আমরা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চাই।’

এদিকে দুর্ঘটনার পর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্বজনদের। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় একজনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল এবং অন্যদের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, নিহতদের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নবীনূর জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


কটিয়াদীতে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জনের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর দুইটার দিকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন–হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদিউল আলমের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন (৫০), কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিলন মিয়া (৩০) এবং মিলনের পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তান যারা মনি। নিহত মিলন মিয়া সম্পর্কে রাবেয়া খাতুনের জামাতা। অর্থাৎ একই দুর্ঘটনায় শাশুড়ি, জামাতা ও নাতনি প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন–নিহত মিলনের স্ত্রী বন্যা আক্তার (২৫), অটোরিকশা চালক কাজল মিয়া (৩০), রাবেয়ার স্বামী বদিউল আলম (৫৫), তাঁর নাতনি প্রিয়া আক্তার (২০) ও নাতি সাকিদুল হাসান (৮)।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে অটোরিকশায় করে যাত্রীরা কিশোরগঞ্জ থেকে নরসিংদীর মনোহরদীর দিকে যাচ্ছিলেন। তেভাগা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি সামনে থাকা একটি পিকআপ কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের চোটে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।

দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত বদিউল আলম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মেয়ের অসুস্থ শ্বশুরকে দেখতে সপরিবারে তাড়াইলের কলাপাড়া গ্রামে এসেছিলাম। দুপুরে সবাই মিলে কর্মস্থল মনোহরদীতে ফিরছিলাম। কিন্তু পথে দ্রুতগতির এক কাভার্ড ভ্যান সব শেষ করে দিল। চোখের সামনেই জামাতা শেষ হয়ে গেল। হাসপাতালে আসার পর শুনলাম আমার স্ত্রী আর নাতনিও নেই।’

নিহতদের স্বজন আল আমিন বলেন, ‘একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। এই শোক সইবার শক্তি আমাদের নেই। আমরা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চাই।’

এদিকে দুর্ঘটনার পর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্বজনদের। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় একজনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল এবং অন্যদের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আনিসুর রহমান বলেন, নিহতদের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নবীনূর জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত