নেপালের উত্তরাঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার উৎপত্তিস্থল রসুয়া জেলার ভাটিতে থাকা আটটি জেলা থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতবন জেলায় সর্বোচ্চ ৩২১ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি পূর্বে ২১৬ জন, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৭০ জন, নুয়াকোটে ৯৫ জন এবং গোর্খায় ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ২৭৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১১ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২১ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যে বিদেশি পর্যটকসহ এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৮০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ রসুয়া জেলার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ৮৬৫ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩৯ জন কর্মী এবং ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। মূলত নদীর স্রোত ও ধ্বংসস্তূপে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকেরা আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের দুর্গম ভূখণ্ড এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ায় হেলিকপ্টারের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ আসা ঢল ও ধ্বংসস্তূপে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সীমান্ত অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
\

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালের উত্তরাঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার উৎপত্তিস্থল রসুয়া জেলার ভাটিতে থাকা আটটি জেলা থেকে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতবন জেলায় সর্বোচ্চ ৩২১ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি পূর্বে ২১৬ জন, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৭০ জন, নুয়াকোটে ৯৫ জন এবং গোর্খায় ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ২৭৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১১ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
নেপাল সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২১ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যে বিদেশি পর্যটকসহ এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৮০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ রসুয়া জেলার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ৮৬৫ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩৯ জন কর্মী এবং ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। মূলত নদীর স্রোত ও ধ্বংসস্তূপে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকেরা আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের দুর্গম ভূখণ্ড এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হওয়ায় হেলিকপ্টারের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ আসা ঢল ও ধ্বংসস্তূপে এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সীমান্ত অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
\

আপনার মতামত লিখুন