সংবাদ

নেপালে স্থলবন্দর ধ্বংস, ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম

নেপালে স্থলবন্দর ধ্বংস, ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন
নেপালে স্থলবন্দর ধ্বংস, ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন। ছবি : সংগৃহীত

নেপালের ভোতেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যায় রাসুওয়াগড়ি স্থলবন্দর ও কাস্টমস অফিস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যায় শতশত ব্যবসায়ী, কনটেইনার চালক ও কাস্টমসকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েক শ কনটেইনার ও কোটি কোটি টাকার পণ্য ভেসে গেছে বা পলি পড়ে চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর দিয়ে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হতো নেপালে। সম্প্রতি তাতোপানি স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আনার জন্য এই পথ ব্যবহার করতেন বেশি। গত ১৫ জুন থেকে তাতোপানি বন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাসুওয়াগড়ি দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

নেপাল ট্রান্স হিমালয় বর্ডার কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রাম চন্দ্র পারাজুলি জানান, এখনো কয়টি কনটেইনার কাস্টমস এলাকায় ছিল, তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কাস্টমস এলাকায় কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০টি লোডেড কনটেইনার ছিল। এ ছাড়া আরও শতাধিক খালি কনটেইনার চীনে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

বন্যার আগের দিন ৭০ থেকে ৭৫টি কনটেইনার কাস্টমস ক্লিয়ার করে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এসব কনটেইনারে ছিল আগামী উৎসব মৌসুমের জন্য তৈরি পোশাক, জুতা, চপ্পল, ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, সব কনটেইনারই বন্যায় ভেসে গেছে।

রাসুয়া কাস্টমস অফিসের প্রধান রাজেন্দ্র প্রসাদ ধুঙ্গানা, যিনি বন্যা থেকে বেঁচে গেছেন, তিনি জানান, কাস্টমস এলাকায় ১০০টির বেশি লোডেড কনটেইনার ছিল। চীন থেকে আসা কনটেইনারগুলোর তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত আছে, তাই সঠিক সংখ্যা কয়েক দিনের মধ্যে জানা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বন্যার আগের ৯ দিনে কাস্টমস অফিস ৯০ কোটি রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল।

সিন্ধুপালচোক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বুদ্ধ রাজ বাসনেত জানান, সিন্ধুপালচোক জেলা থেকে ২৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের তালিকা অনুযায়ী, সিন্ধুপালচোকের ২৩৪ জন ব্যবসায়ী, ট্রেকিং কর্মী ও কনটেইনার চালক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই তাতোপানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাসুয়ায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।

ভোতেকোশী গ্রামীণ পৌরসভা থেকে একা ৭৩ জন শ্রমিক ও চালক নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ জনের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।

অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাম হরি কার্কি বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন রুপি, কিন্তু এখনো সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। আমরা এখন মানবিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি।’

রাসুয়া স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে আসার অপেক্ষায় চীনের কেরুংয়ে প্রায় ১৭০টি কনটেইনার আটকে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এসব কনটেইনার এখন তাতোপানি বা কোরালা স্থলবন্দর দিয়ে রুট পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে ফল আমদানিকারকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত চেয়েছেন, কারণ পঁচে যাওয়ার আগেই এই পণ্য নেপালে পৌঁছানো জরুরি।

ফল আমদানিকারক রাজেশ ভাণ্ডারি জানান, কেরুংয়ে আটকে থাকা ১৭০ কনটেইনারের মধ্যে ৩০টিতে ফল ছিল। যেসব ফল ইতিমধ্যে কাস্টমস এলাকায় পৌঁছেছিল এবং বন্যায় আটকে পড়েছিল, সেগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসুওয়াগড়ি স্থলবন্দর দীর্ঘদিনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্য রুটে বিরাট সংকট তৈরি হবে। তাতোপানি ইতিমধ্যে বন্ধ, রাসুয়া ধ্বংস, এখন কেবল কোরালা রুট খোলা রয়েছে–যা দূরবর্তী ও দুর্গম। ফলে আগামী কয়েক মাস চীন থেকে পণ্য আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নেপালের বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ–বন্যায় নিখোঁজ শতশত মানুষের খোঁজ পাওয়া এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র পুনর্গঠন করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপালে স্থলবন্দর ধ্বংস, ক্ষতি কয়েক বিলিয়ন

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেপালের ভোতেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যায় রাসুওয়াগড়ি স্থলবন্দর ও কাস্টমস অফিস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্যায় শতশত ব্যবসায়ী, কনটেইনার চালক ও কাস্টমসকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েক শ কনটেইনার ও কোটি কোটি টাকার পণ্য ভেসে গেছে বা পলি পড়ে চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দর দিয়ে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হতো নেপালে। সম্প্রতি তাতোপানি স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আনার জন্য এই পথ ব্যবহার করতেন বেশি। গত ১৫ জুন থেকে তাতোপানি বন্দর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাসুওয়াগড়ি দিয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

নেপাল ট্রান্স হিমালয় বর্ডার কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রাম চন্দ্র পারাজুলি জানান, এখনো কয়টি কনটেইনার কাস্টমস এলাকায় ছিল, তার সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কাস্টমস এলাকায় কমপক্ষে ১০০ থেকে ২০০টি লোডেড কনটেইনার ছিল। এ ছাড়া আরও শতাধিক খালি কনটেইনার চীনে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

বন্যার আগের দিন ৭০ থেকে ৭৫টি কনটেইনার কাস্টমস ক্লিয়ার করে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এসব কনটেইনারে ছিল আগামী উৎসব মৌসুমের জন্য তৈরি পোশাক, জুতা, চপ্পল, ব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, সব কনটেইনারই বন্যায় ভেসে গেছে।

রাসুয়া কাস্টমস অফিসের প্রধান রাজেন্দ্র প্রসাদ ধুঙ্গানা, যিনি বন্যা থেকে বেঁচে গেছেন, তিনি জানান, কাস্টমস এলাকায় ১০০টির বেশি লোডেড কনটেইনার ছিল। চীন থেকে আসা কনটেইনারগুলোর তথ্য কম্পিউটারে সংরক্ষিত আছে, তাই সঠিক সংখ্যা কয়েক দিনের মধ্যে জানা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বন্যার আগের ৯ দিনে কাস্টমস অফিস ৯০ কোটি রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল।

সিন্ধুপালচোক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বুদ্ধ রাজ বাসনেত জানান, সিন্ধুপালচোক জেলা থেকে ২৬৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের তালিকা অনুযায়ী, সিন্ধুপালচোকের ২৩৪ জন ব্যবসায়ী, ট্রেকিং কর্মী ও কনটেইনার চালক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই তাতোপানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাসুয়ায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।

ভোতেকোশী গ্রামীণ পৌরসভা থেকে একা ৭৩ জন শ্রমিক ও চালক নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ৩০০ জনের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।

অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাম হরি কার্কি বলেন, ‘ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন রুপি, কিন্তু এখনো সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। আমরা এখন মানবিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছি।’

রাসুয়া স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে আসার অপেক্ষায় চীনের কেরুংয়ে প্রায় ১৭০টি কনটেইনার আটকে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এসব কনটেইনার এখন তাতোপানি বা কোরালা স্থলবন্দর দিয়ে রুট পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে ফল আমদানিকারকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত চেয়েছেন, কারণ পঁচে যাওয়ার আগেই এই পণ্য নেপালে পৌঁছানো জরুরি।

ফল আমদানিকারক রাজেশ ভাণ্ডারি জানান, কেরুংয়ে আটকে থাকা ১৭০ কনটেইনারের মধ্যে ৩০টিতে ফল ছিল। যেসব ফল ইতিমধ্যে কাস্টমস এলাকায় পৌঁছেছিল এবং বন্যায় আটকে পড়েছিল, সেগুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসুওয়াগড়ি স্থলবন্দর দীর্ঘদিনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ায় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্য রুটে বিরাট সংকট তৈরি হবে। তাতোপানি ইতিমধ্যে বন্ধ, রাসুয়া ধ্বংস, এখন কেবল কোরালা রুট খোলা রয়েছে–যা দূরবর্তী ও দুর্গম। ফলে আগামী কয়েক মাস চীন থেকে পণ্য আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নেপালের বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ–বন্যায় নিখোঁজ শতশত মানুষের খোঁজ পাওয়া এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র পুনর্গঠন করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত