প্রায় দেড় দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতে এখনো কোনো স্থায়ী ঠিকানা পায়নি বিএনপি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অস্থায়ী কার্যালয় বা নেতাদের ব্যক্তিগত বাসভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম। ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পার হলেও স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের দিকে শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে জেলা বিএনপির একটি কার্যালয় তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে মালিকানা জটিলতার অজুহাতে সেনাবাহিনী সেটি ভেঙে ফেলে। এরপর থেকে ফেনী বিএনপি আর কোনো স্থায়ী কার্যালয় গড়তে পারেনি। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শহরের ইসলামপুর রোডে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত কার্যালয়টিই দলীয় ঠিকানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে নতুন কমিটি গঠনের পর তাকিয়া রোডের একটি হোটেল এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের বাসভবনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই অস্থায়ী কার্যালয়টিও আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। বর্তমানে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ভাষা শহীদ সালাম কমিউনিটি সেন্টার, হোটেল মিডটাউন কিংবা নিজেদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে নেতাকর্মীদের সময় দিচ্ছেন।
একই দশা সহযোগী সংগঠনগুলোরও। জেলা যুবদলের কার্যক্রম চলে আহ্বায়কের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে, স্বেচ্ছাসেবক দলের আড্ডা জমে রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আর ছাত্রদল নেতারা বসেন স্থানীয় একটি হোটেলে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘ইসলামপুর রোডে আমাদের একটি অফিস আছে, তবে তা খুবই ছোট। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন অফিস নেওয়ার চেষ্টা করছি, জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’
তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের কণ্ঠে কিছুটা আক্ষেপের সুর। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলেও মূল ক্ষমতায় রয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। দলীয় কার্যালয় গড়ার দায়িত্বও তাদের। আমরা যারা বর্তমানে সাংগঠনিক দায়িত্বে আছি, আমাদের দল চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
আপনার মতামত লিখুন