বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের
সচিব আবদুল খালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বেসরকারি
শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের
(এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক
ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায়
অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,
শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষা
এখন থেকে সম্পূর্ণ আগের
নিয়মে অর্থাৎ প্রিলিমিনারি, লিখিত ও এমসিকিউ পরীক্ষার
মাধ্যমেই পরিচালিত হবে এবং এ
সংক্রান্ত আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বা রেজুলেশন বাতিল
করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে
পরিপত্র জারি করা হবে
বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৩
আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন
ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত
হয়েছিল, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না
এবং শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির
হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ওই সভার কার্যবিবরণী সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই
দেশজুড়ে চরম তোলপাড় শুরু
হয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের
বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র
প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পাশাপাশি
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর
রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন
রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন
এই রেজুলেশনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়।
এছাড়া
দেশের শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এমপিওভুক্ত
শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট সারা দেশে
৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে
নিয়ে তীব্র আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ
করে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ
জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তা
বাতিলের দাবি জানান।
তীব্র
সমালোচনা ও ছাত্র-শিক্ষকদের
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত
পিছু হটল সরকার। কোনো
ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই পূর্বের সেই বিতর্কিত রেজুলেশন
বাতিল করা হলো।
এর ফলে আগের মতো
এনটিআরসিএর অধীনেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং তারাই
যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ করবে।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ অর্জন এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের
সচিব আবদুল খালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বেসরকারি
শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের
(এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মাধ্যমিক
ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায়
অংশ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,
শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন পরীক্ষা
এখন থেকে সম্পূর্ণ আগের
নিয়মে অর্থাৎ প্রিলিমিনারি, লিখিত ও এমসিকিউ পরীক্ষার
মাধ্যমেই পরিচালিত হবে এবং এ
সংক্রান্ত আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বা রেজুলেশন বাতিল
করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে
পরিপত্র জারি করা হবে
বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ৩
আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন
ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত
হয়েছিল, এনটিআরসিএ আর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না
এবং শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির
হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ওই সভার কার্যবিবরণী সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই
দেশজুড়ে চরম তোলপাড় শুরু
হয়। ঢাকা, জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের
বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র
প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
পাশাপাশি
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর
রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন
রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠন
এই রেজুলেশনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়।
এছাড়া
দেশের শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এমপিওভুক্ত
শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট সারা দেশে
৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে
নিয়ে তীব্র আন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ
করে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ
জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তা
বাতিলের দাবি জানান।
তীব্র
সমালোচনা ও ছাত্র-শিক্ষকদের
ব্যাপক আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত
পিছু হটল সরকার। কোনো
ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই পূর্বের সেই বিতর্কিত রেজুলেশন
বাতিল করা হলো।
এর ফলে আগের মতো
এনটিআরসিএর অধীনেই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং তারাই
যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ করবে।

আপনার মতামত লিখুন