আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড হলো এমন এক ধরনের বন্যা যা কোনো পূর্ব প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংগঠিত হয়। আকষ্মিক বন্যা সংগঠিত হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে হিমবাহ ধস ও পাথরে শিলার ধস অন্যতম কারণ। এছাড়া মুশলধারায় ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধস, নদীর উপর থাকা বাঁধ বা স্লুইস গেইট ভেঙে পড়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ইত্যাদি কারণে আকষ্মিক বন্যা হয়ে থাকে।
নেপালে আকষ্মিক যে বন্যা সংগঠিত হয়েছে সেটা হিমবাহ ধস ও পাথরে শিলা ধসের কারণে সংগঠিত হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের উত্তরে যে ভূকম্পন শনাক্ত হয়েছে সেটি আসলে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ। আর এ কারণেই হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বোঝা গেলো এটা আসলে ডাউনস্ট্রিম বিপর্যয়।
নেপাল-চীন সীমান্তের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে বরফ ও পাথুরে শিলার বড় ধরনের ধস হয়। এতে আশপাশের নদীতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষসহ পানির ঢল ও প্রবাহ তৈরি হয়। যার আঘাতে নেপালে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হয়। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংবাদ মাধ্যম থেকে যতটুকু জানা যায়, এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় শত জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। বন্যায় তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ ভেসে গেছে। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)। বাড়িঘর, প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতি বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। পরিবার ও স্বজন হারানো মানুষগুলোর অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের ক্ষত থাকবে দীর্ঘদিন।
আমাদের বাংলাদেশেও মাঝে মাঝে এ ধরনের ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে। গত বছরের বন্যা এ কারণেই সংগঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশের উত্তরে মেঘালয়ের পাহাড় সমূহ, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ও পর্বত থাকায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মূলত ফ্ল্যাশ ফ্লাড সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে যে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয় সেটা হয়তো আর দশটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সহনীয় হিসাবেই মনে করা হয়। কেননা, ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে ধরেই নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবন দেশ। এগুলো হয় এবং আমাদের মোকাবিলা করেই জীবন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু নেপালে ঘটে যাওয়া হিমবাহ ধস এবং এর ফলে সৃষ্ট ফ্ল্যাশ ফ্লাড আমাদেরও বিপদের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।
ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে আমাদের বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পর্বতমালা হিমালয়ের দক্ষিণদিকে অবস্থিত। হিমালয় থেকে সৃষ্ট নদীর প্রবাহ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন পললভূমির। নদী বাহিত পলি বালি কাঁদার স্তর জমে এ ভূমি গঠিত হয়েছে। এখনও হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে হিমালয়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়। হিমালয় অঞ্চলে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বাংলাদেশ থেকে হিমালয় পর্বতমালা ও এর প্রধান শৃঙ্গগুলোর দূরত্ব স্থানভেদে হয়তো ভিন্ন ভিন্ন। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দূরত্ব সবচেয়ে কম। তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। মাউন্ট এভারেস্ট এর দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্থান কমবেশি ১০০ কিলোমিটার এর মধ্যে অবস্থিত। তেঁতুলিয়া থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬২ কিলোমিটার। এতে বোঝাই যায়, বড় ধরনের হিমবাহ ধস হলে বাংলাদেশের এই রকম আকষ্মিক বন্যা হয়ে যেতে পারে। এর কারণও আছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি হিমালয়ের বরফের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবছর বরফ কমছে বাড়ছে হিমবাহ প্রবাহ। বরফ গলে গিয়ে যে পানি বের হয়ে আসছে সেগুলো জমা হচ্ছে- হিমালয় অঞ্চলের লেকগুলোতে। বড় ধরনের শিলা চ্যুতি বা হিমবাহ ধস হলে জমে থাকা পানি নিচে নেমে আসবে একযোগে। সঙ্গে পাহাড়ি ভারী বর্ষণ যোগ হলে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হবেই। আর এর প্রভাব আমাদের বাংলাদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হঠাৎ অস্বাভাবিক মাত্রায় পানির প্রবাহ হলে বাংলাদেশের নদনদীগুলো পানি বহন করতে মোটেও সক্ষম হবে না। কারণ বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর নাব্যতা অনেক আগেই হ্রাস পেয়েছে। নেপালের বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তারচেয়েও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে বাংলাদেশে। হিমালয় থেকে সৃষ্ট বাংলাদেশে প্রবাহিত নদী হচ্ছে - গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা।
গঙ্গা (পদ্মা) ভারতের উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে এর উৎপত্তি। এটি ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র তিব্বতের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে উৎপন্ন লাভ করে। তিব্বতে এর নাম সাংপো এবং এটি ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যমুনা নদী হিমালয়ের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে গঙ্গার অন্যতম প্রধান শাখায় পরিণত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। হিমালয় অঞ্চল থেকে প্রবাহিত নদীর পানির প্রায় ৮০ ভাগ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে হিমালয় অঞ্চলে বড় ধরনের হিমবাহ ধস হলে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়তে পারে।
ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষার জন্য আগাম প্রস্তুতি অবলম্বন করা অপ্রয়োজনীয় নয়। এর জন্য নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হতে পারে প্রধান কাজ ও সতর্কতার পূর্ব প্রস্তুতি। ফ্ল্যাশ ফ্লাড এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার আগাম সতর্কতা জারি করাও সম্ভব হয় না।
প্রকৃতি শুধু হেয়ালি নয় প্রকৃতি অনেক সময় অপ্রতিরোধ্য। প্রকৃতি আমাদের যেমন উজাড় করে দেয় তেমনি প্রকৃতি আমাদের নিঃস্ব করে। প্রকৃতির খেয়াল বোঝা বড় দায়। প্রকৃতি আমাদের শিখায়। প্রকৃতির শিক্ষাই হচ্ছে বড় শিক্ষা।
[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড হলো এমন এক ধরনের বন্যা যা কোনো পূর্ব প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংগঠিত হয়। আকষ্মিক বন্যা সংগঠিত হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে হিমবাহ ধস ও পাথরে শিলার ধস অন্যতম কারণ। এছাড়া মুশলধারায় ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধস, নদীর উপর থাকা বাঁধ বা স্লুইস গেইট ভেঙে পড়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন ইত্যাদি কারণে আকষ্মিক বন্যা হয়ে থাকে।
নেপালে আকষ্মিক যে বন্যা সংগঠিত হয়েছে সেটা হিমবাহ ধস ও পাথরে শিলা ধসের কারণে সংগঠিত হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের উত্তরে যে ভূকম্পন শনাক্ত হয়েছে সেটি আসলে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ। আর এ কারণেই হঠাৎ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বোঝা গেলো এটা আসলে ডাউনস্ট্রিম বিপর্যয়।
নেপাল-চীন সীমান্তের প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলে বরফ ও পাথুরে শিলার বড় ধরনের ধস হয়। এতে আশপাশের নদীতে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষসহ পানির ঢল ও প্রবাহ তৈরি হয়। যার আঘাতে নেপালে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি সংগঠিত হয়। নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংবাদ মাধ্যম থেকে যতটুকু জানা যায়, এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় শত জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। বন্যায় তীব্র স্রোতে অনেক মরদেহ ভেসে গেছে। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় নেপালে আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)। বাড়িঘর, প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষয়ক্ষতি বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। পরিবার ও স্বজন হারানো মানুষগুলোর অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের ক্ষত থাকবে দীর্ঘদিন।
আমাদের বাংলাদেশেও মাঝে মাঝে এ ধরনের ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে। গত বছরের বন্যা এ কারণেই সংগঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশের উত্তরে মেঘালয়ের পাহাড় সমূহ, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড় ও পর্বত থাকায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মূলত ফ্ল্যাশ ফ্লাড সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশে যে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয় সেটা হয়তো আর দশটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে সহনীয় হিসাবেই মনে করা হয়। কেননা, ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে ধরেই নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবন দেশ। এগুলো হয় এবং আমাদের মোকাবিলা করেই জীবন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু নেপালে ঘটে যাওয়া হিমবাহ ধস এবং এর ফলে সৃষ্ট ফ্ল্যাশ ফ্লাড আমাদেরও বিপদের কথা স্বরণ করিয়ে দেয়।
ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে আমাদের বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পর্বতমালা হিমালয়ের দক্ষিণদিকে অবস্থিত। হিমালয় থেকে সৃষ্ট নদীর প্রবাহ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন পললভূমির। নদী বাহিত পলি বালি কাঁদার স্তর জমে এ ভূমি গঠিত হয়েছে। এখনও হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে হিমালয়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়। হিমালয় অঞ্চলে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বাংলাদেশ থেকে হিমালয় পর্বতমালা ও এর প্রধান শৃঙ্গগুলোর দূরত্ব স্থানভেদে হয়তো ভিন্ন ভিন্ন। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দূরত্ব সবচেয়ে কম। তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার। মাউন্ট এভারেস্ট এর দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্থান কমবেশি ১০০ কিলোমিটার এর মধ্যে অবস্থিত। তেঁতুলিয়া থেকে নেপালের দূরত্ব মাত্র ৬২ কিলোমিটার। এতে বোঝাই যায়, বড় ধরনের হিমবাহ ধস হলে বাংলাদেশের এই রকম আকষ্মিক বন্যা হয়ে যেতে পারে। এর কারণও আছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি হিমালয়ের বরফের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবছর বরফ কমছে বাড়ছে হিমবাহ প্রবাহ। বরফ গলে গিয়ে যে পানি বের হয়ে আসছে সেগুলো জমা হচ্ছে- হিমালয় অঞ্চলের লেকগুলোতে। বড় ধরনের শিলা চ্যুতি বা হিমবাহ ধস হলে জমে থাকা পানি নিচে নেমে আসবে একযোগে। সঙ্গে পাহাড়ি ভারী বর্ষণ যোগ হলে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হবেই। আর এর প্রভাব আমাদের বাংলাদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হঠাৎ অস্বাভাবিক মাত্রায় পানির প্রবাহ হলে বাংলাদেশের নদনদীগুলো পানি বহন করতে মোটেও সক্ষম হবে না। কারণ বাংলাদেশের নদ-নদীগুলোর নাব্যতা অনেক আগেই হ্রাস পেয়েছে। নেপালের বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছে তারচেয়েও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে বাংলাদেশে। হিমালয় থেকে সৃষ্ট বাংলাদেশে প্রবাহিত নদী হচ্ছে - গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা।
গঙ্গা (পদ্মা) ভারতের উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে এর উৎপত্তি। এটি ভারত ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র তিব্বতের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে উৎপন্ন লাভ করে। তিব্বতে এর নাম সাংপো এবং এটি ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যমুনা নদী হিমালয়ের যমুনোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে গঙ্গার অন্যতম প্রধান শাখায় পরিণত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। হিমালয় অঞ্চল থেকে প্রবাহিত নদীর পানির প্রায় ৮০ ভাগ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে হিমালয় অঞ্চলে বড় ধরনের হিমবাহ ধস হলে বাংলাদেশেও প্রভাব পড়তে পারে।
ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষার জন্য আগাম প্রস্তুতি অবলম্বন করা অপ্রয়োজনীয় নয়। এর জন্য নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হতে পারে প্রধান কাজ ও সতর্কতার পূর্ব প্রস্তুতি। ফ্ল্যাশ ফ্লাড এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার আগাম সতর্কতা জারি করাও সম্ভব হয় না।
প্রকৃতি শুধু হেয়ালি নয় প্রকৃতি অনেক সময় অপ্রতিরোধ্য। প্রকৃতি আমাদের যেমন উজাড় করে দেয় তেমনি প্রকৃতি আমাদের নিঃস্ব করে। প্রকৃতির খেয়াল বোঝা বড় দায়। প্রকৃতি আমাদের শিখায়। প্রকৃতির শিক্ষাই হচ্ছে বড় শিক্ষা।
[লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, গাজীপুর]

আপনার মতামত লিখুন