কবি সুফি আকবরের কাব্যগ্রন্থ ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’ ২০২৫ সালের বইমেলায় পাঠকের হাতে পৌঁছায়। বুনন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটি সম্প্রতি হাতে এসেছে। বইটি পড়তে গিয়ে এক ধরনের অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। বলতে গেলে, বইটি এখন সবসময় হাতের কাছেই রাখি। বারবার পড়ি, আবারও পড়তে ইচ্ছে করে।
কিছু কিছু কবিতা পড়ার সময় অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। মনের কোনো এক গোপন অনুভূতি, কোনো এক অনুচ্চারিত কথাই যেন কবিতার শব্দ হয়ে সামনে আসে।
“জানিনা কখন কোন দিন কোন স্থানে/ দেখা হবে কথা হবে ফের/ মনে নেই কতদিন দেখা নেই/ কথা নেই আমাদের” (স্মরণ)
কবিতায় স্মরণ হয়, ক্ষরণ হয়। স্মৃতিতে প্রীতিতে একাকার থাকে ফেলে আসা সময়। কবিতাযাপন কবির সেই সকল অচেনা মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দী করে যা কেবল কবির ভেতরের বোধে জাগ্রত থাকে। এই কবিতা ব্যক্তিসময়ের কাছেও যেন সমর্পিত। কবি লিখছেন, তার কবিতা বইয়ে, অথচ পাঠক হৃদয় হাহাকার করছে দীর্ঘ নয় হাজার মাইল দূরত্বে দাঁড়িয়েও: ‘জানি না কখন কোন দিন কোন স্থানে/ দেখা হবে কথা হবে ফের’...
কবির কবিতা নানা কথা বলে। প্রেমের কথা বলে, গেমের কথা বলে, শ্যামের কথা বলে। কথা বলে গানের, প্রাণের, দানের। কথা বলে উড়ালের, আড়ালের। কথা বলে সম্পর্কেরও। তী স্পষ্ট ভাষায়, অতি সহজিয়ায় বলেন— “আমাদের সম্পর্ক হতে পারতো/ সুঁই-সুতো সমবেত সঙ্গীত/ ...পরস্পর থাকতাম মুখোমুখি/ মাখামাখি প্রণয়ে” (আমাদের সম্পর্ক হতে পারতো)
কিন্তু কবির এই সম্পর্ক মুখোমুখি প্রণয়ে না থেকে ঝুলে থাকে বঙ্গাই মিয়ার গোসতের দোকানে। রশিদ আলীর গ্রামীণ ছোট্ট সেই লজেন্স দোকানদারের বেড়ার দেয়ালে। উড়ে যায় বিবিয়ানার ঢেউয়ের তালে। স্বপ্ন ডুবতে থাকে...
এই ডুবে থাকা স্বপ্নের ভেতরও কবির মনযোগ যায় বয়সের ভারে নতজানু মায়ের দিকে। সেখানে মাকে কবি কল্পনা করেন ক্যামেলিয়া ফুলের মাঝে। কবি বলেন, চৈত্রের ঝড়ে ক্যামেলিয়া ঝরে যায়। শুকিয়ে যাওয়া ক্যামেলিয়া ফুল: ‘ক্যামেলিয়া ফুলটা শুকিয়ে আছে/এখনো শাখা-প্রশাখার শীর্ষে/আমার মায়ের মত’ (ভয়)
নেতার চরিত্রকে কবি কাব্যসুষমায় অলংকৃত করেছেন। এত সুন্দর নান্দনিক বয়ান বিরল, নেতার জন্য।
এই স্লোগানটাই একমাত্র সত্য স্লোগান— ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র’। ভাই যদিও খুশি হন স্লোগানে স্লোগানে। কিন্তু ফুল-ই জানে না তার আসল তথ্য— কত ভ্রমর তাকে খেয়ে গেছে।
সুফির কবিতাগুলো বেশ সহজসরল। আগেই বলেছি, তার কবিতা স্মৃতি ও প্রীতির সম্মিলন। নায়কোচিত, গায়কের সুরেলা টান একেকটা কবিতা। কবির ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’ কবিতাবই সকল পাঠকের হৃদয় জয় করুক। প্রিয় সব শহরের পাঠকেরা আরেকবার খোঁজ করুন এটিই প্রত্যাশা।
কবির ‘সৌন্দর্য’ কবিতার ভাষায় বলি... ‘তুমি আমার গল্পে থাকো আমি থাকি লেখায়/ তোমার আমার দূরত্বটা ভীষণ খারাপ দেখায়’।
মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য। সুফি আকবর। প্রকাশক: বুনন। প্রচ্ছদ: উবাইদুল্লাহ উমর। মূল্য: ২০০ টাকা।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কবি সুফি আকবরের কাব্যগ্রন্থ ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’ ২০২৫ সালের বইমেলায় পাঠকের হাতে পৌঁছায়। বুনন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটি সম্প্রতি হাতে এসেছে। বইটি পড়তে গিয়ে এক ধরনের অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। বলতে গেলে, বইটি এখন সবসময় হাতের কাছেই রাখি। বারবার পড়ি, আবারও পড়তে ইচ্ছে করে।
কিছু কিছু কবিতা পড়ার সময় অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। মনের কোনো এক গোপন অনুভূতি, কোনো এক অনুচ্চারিত কথাই যেন কবিতার শব্দ হয়ে সামনে আসে।
“জানিনা কখন কোন দিন কোন স্থানে/ দেখা হবে কথা হবে ফের/ মনে নেই কতদিন দেখা নেই/ কথা নেই আমাদের” (স্মরণ)
কবিতায় স্মরণ হয়, ক্ষরণ হয়। স্মৃতিতে প্রীতিতে একাকার থাকে ফেলে আসা সময়। কবিতাযাপন কবির সেই সকল অচেনা মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দী করে যা কেবল কবির ভেতরের বোধে জাগ্রত থাকে। এই কবিতা ব্যক্তিসময়ের কাছেও যেন সমর্পিত। কবি লিখছেন, তার কবিতা বইয়ে, অথচ পাঠক হৃদয় হাহাকার করছে দীর্ঘ নয় হাজার মাইল দূরত্বে দাঁড়িয়েও: ‘জানি না কখন কোন দিন কোন স্থানে/ দেখা হবে কথা হবে ফের’...
কবির কবিতা নানা কথা বলে। প্রেমের কথা বলে, গেমের কথা বলে, শ্যামের কথা বলে। কথা বলে গানের, প্রাণের, দানের। কথা বলে উড়ালের, আড়ালের। কথা বলে সম্পর্কেরও। তী স্পষ্ট ভাষায়, অতি সহজিয়ায় বলেন— “আমাদের সম্পর্ক হতে পারতো/ সুঁই-সুতো সমবেত সঙ্গীত/ ...পরস্পর থাকতাম মুখোমুখি/ মাখামাখি প্রণয়ে” (আমাদের সম্পর্ক হতে পারতো)
কিন্তু কবির এই সম্পর্ক মুখোমুখি প্রণয়ে না থেকে ঝুলে থাকে বঙ্গাই মিয়ার গোসতের দোকানে। রশিদ আলীর গ্রামীণ ছোট্ট সেই লজেন্স দোকানদারের বেড়ার দেয়ালে। উড়ে যায় বিবিয়ানার ঢেউয়ের তালে। স্বপ্ন ডুবতে থাকে...
এই ডুবে থাকা স্বপ্নের ভেতরও কবির মনযোগ যায় বয়সের ভারে নতজানু মায়ের দিকে। সেখানে মাকে কবি কল্পনা করেন ক্যামেলিয়া ফুলের মাঝে। কবি বলেন, চৈত্রের ঝড়ে ক্যামেলিয়া ঝরে যায়। শুকিয়ে যাওয়া ক্যামেলিয়া ফুল: ‘ক্যামেলিয়া ফুলটা শুকিয়ে আছে/এখনো শাখা-প্রশাখার শীর্ষে/আমার মায়ের মত’ (ভয়)
নেতার চরিত্রকে কবি কাব্যসুষমায় অলংকৃত করেছেন। এত সুন্দর নান্দনিক বয়ান বিরল, নেতার জন্য।
এই স্লোগানটাই একমাত্র সত্য স্লোগান— ‘অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র’। ভাই যদিও খুশি হন স্লোগানে স্লোগানে। কিন্তু ফুল-ই জানে না তার আসল তথ্য— কত ভ্রমর তাকে খেয়ে গেছে।
সুফির কবিতাগুলো বেশ সহজসরল। আগেই বলেছি, তার কবিতা স্মৃতি ও প্রীতির সম্মিলন। নায়কোচিত, গায়কের সুরেলা টান একেকটা কবিতা। কবির ‘মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য’ কবিতাবই সকল পাঠকের হৃদয় জয় করুক। প্রিয় সব শহরের পাঠকেরা আরেকবার খোঁজ করুন এটিই প্রত্যাশা।
কবির ‘সৌন্দর্য’ কবিতার ভাষায় বলি... ‘তুমি আমার গল্পে থাকো আমি থাকি লেখায়/ তোমার আমার দূরত্বটা ভীষণ খারাপ দেখায়’।
মাতাল রাতের চূর্ণকথা ও অন্যান্য। সুফি আকবর। প্রকাশক: বুনন। প্রচ্ছদ: উবাইদুল্লাহ উমর। মূল্য: ২০০ টাকা।

আপনার মতামত লিখুন