মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া এলাকা থেকে একটি বিশালাকৃতির সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে পাহারাদারদের নজরদারির মধ্যেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র গাছটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগ জানায়, সোমবার ভোররাত চারটার দিকে জানকিছড়া স্টিল ব্রিজ এলাকার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছটি কাটা হয়। গাছটির পরিধি ছিল প্রায় ৭ ফুট এবং বর্তমান বাজারে এর আনুমানিক মূল্য লক্ষাধিক টাকা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন গাছটি কাটা ও ট্রাকে তোলা হচ্ছিল, তখন জানকিছড়া গেটে বনকর্মী ও স্থানীয় বন টহল দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সময়ে জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকেও বন বিভাগের একজন কর্মকর্তাসহ টহল পুলিশের অবস্থান ছিল। এত নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে বিশালাকৃতির একটি গাছ পাচার হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ত্রিপল ঢাকা হলুদ রঙের একটি ‘ডায়না’ ট্রাক দ্রুতগতিতে উপজেলার চৌমুহনীর দিকে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রাকে করেই চুরি হওয়া গাছটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান বলেন,'ভোররাতে চোরচক্র সড়কের পাশ থেকে গাছটি কেটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। কারও দায়িত্বে অবহেলা বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউয়াছড়ায় গাছ চুরি ও বনভূমি দখল দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাঝেমধ্যেই বনের মূল্যবান গাছ সাবাড় করা হয়। বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যসংকট প্রকট হচ্ছে। অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় বা মানুষের হাতে মারা পড়ছে। শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত পাঁচ দশকে তারা দুই হাজারের বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে এমন চুরির ঘটনায় বনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া এলাকা থেকে একটি বিশালাকৃতির সেগুনগাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে পাহারাদারদের নজরদারির মধ্যেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র গাছটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বন বিভাগ জানায়, সোমবার ভোররাত চারটার দিকে জানকিছড়া স্টিল ব্রিজ এলাকার শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে গাছটি কাটা হয়। গাছটির পরিধি ছিল প্রায় ৭ ফুট এবং বর্তমান বাজারে এর আনুমানিক মূল্য লক্ষাধিক টাকা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন গাছটি কাটা ও ট্রাকে তোলা হচ্ছিল, তখন জানকিছড়া গেটে বনকর্মী ও স্থানীয় বন টহল দলের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সময়ে জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটকেও বন বিভাগের একজন কর্মকর্তাসহ টহল পুলিশের অবস্থান ছিল। এত নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে বিশালাকৃতির একটি গাছ পাচার হলো, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ত্রিপল ঢাকা হলুদ রঙের একটি ‘ডায়না’ ট্রাক দ্রুতগতিতে উপজেলার চৌমুহনীর দিকে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রাকে করেই চুরি হওয়া গাছটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হাসান বলেন,'ভোররাতে চোরচক্র সড়কের পাশ থেকে গাছটি কেটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই সময় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে। কারও দায়িত্বে অবহেলা বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউয়াছড়ায় গাছ চুরি ও বনভূমি দখল দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাঝেমধ্যেই বনের মূল্যবান গাছ সাবাড় করা হয়। বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যসংকট প্রকট হচ্ছে। অনেক সময় খাদ্যের সন্ধানে প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় বা মানুষের হাতে মারা পড়ছে। শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত পাঁচ দশকে তারা দুই হাজারের বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে এমন চুরির ঘটনায় বনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন