সংবাদ

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, সংসদে প্রতিবাদ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, সংসদে প্রতিবাদ
বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ, কঠোর ব্যবস্থা দাবি সংসদে

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কোল্ড ড্রিংকস ও পানি ছুড়ে মারা এবং শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী।

একই সঙ্গে এই ঘটনায় ইতালি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি হয়তো পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন গুণী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন চলচ্চিত্রসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতালির ভেনিসে গিয়েছিলেন। গতকাল তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

সংসদ সদস্য জানান, ‘বাঁধন পরিবারের সদস্য ও ছোট সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ ও মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। অত্যন্ত খারাপ ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এর পেছনে একমাত্র কারণ, তিনি একজন “জুলাই যোদ্ধা” এবং ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।’

জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘একজন নারী ও দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে না থাকলেও পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবে এবং একজন নারীর ওপর হামলা চালাতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি জানতে চান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাউকে সংসদে দেখা যাচ্ছে না। তারা এলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। এটা অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ। অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

তিনি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের একজন বা দুজন যখনই সংসদে আসবেন, তাদের বক্তব্য শোনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা, সংসদে প্রতিবাদ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কোল্ড ড্রিংকস ও পানি ছুড়ে মারা এবং শারীরিক ও মৌখিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় সংসদে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী।

একই সঙ্গে এই ঘটনায় ইতালি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। বিকেল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি হয়তো পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একজন গুণী অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন চলচ্চিত্রসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতালির ভেনিসে গিয়েছিলেন। গতকাল তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

সংসদ সদস্য জানান, ‘বাঁধন পরিবারের সদস্য ও ছোট সন্তানকে নিয়ে একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ ও মৌখিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। অত্যন্ত খারাপ ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এর পেছনে একমাত্র কারণ, তিনি একজন “জুলাই যোদ্ধা” এবং ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।’

জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, ‘একজন নারী ও দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন শিল্পীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে না থাকলেও পৃথিবীর যেকোনও জায়গায় তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবে এবং একজন নারীর ওপর হামলা চালাতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি জানতে চান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কাউকে সংসদে দেখা যাচ্ছে না। তারা এলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। এটা অত্যন্ত অমার্জনীয় ও নিন্দনীয় অপরাধ। অপরাধের নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’

তিনি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীদের একজন বা দুজন যখনই সংসদে আসবেন, তাদের বক্তব্য শোনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই সংসদ জানতে চায়, এই জাতি জানতে চায়।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত