নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে। প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের (১ থেকে ২০) কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য এই সুবিধা সীমিত থাকলেও এখন থেকে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য এই মাসিক ভাতা পাবেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিজিটাল যোগাযোগে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার পরিধি বাড়ানো হলেও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় ভাতার হারে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। উল্লেখ্য যে, আগে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে পেতেন। অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ে ভাতার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যারা আগে কোনো মোবাইল ভাতা পেতেন না, তারা এখন থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে এই ভাতা পাবেন। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে এই গ্রেডগুলোর জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রস্তাব করা হলেও সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
সচিব কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক প্রায় সব যোগাযোগই মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদেরও কাজের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। তাই সব স্তরের কর্মচারীদের এই সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত যৌক্তিক। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর বিশাল আর্থিক সংশ্লেষ এবং দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম অংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর হবে। এর ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ নিয়মিত সামরিক-অসামরিক কর্মচারী এবং ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন।
মোবাইল ভাতার বাইরেও এবারের বেতনস্কেলে মানবিক একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা সরকারি চাকুরেদের পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় পরিবর্তন আসছে। প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের (১ থেকে ২০) কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে কেবল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য এই সুবিধা সীমিত থাকলেও এখন থেকে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরাও দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য এই মাসিক ভাতা পাবেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিজিটাল যোগাযোগে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাতার পরিধি বাড়ানো হলেও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষায় ভাতার হারে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। উল্লেখ্য যে, আগে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে পেতেন। অর্থাৎ উচ্চপর্যায়ে ভাতার পরিমাণ কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যারা আগে কোনো মোবাইল ভাতা পেতেন না, তারা এখন থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে এই ভাতা পাবেন। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে এই গ্রেডগুলোর জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রস্তাব করা হলেও সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমাতে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
সচিব কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক প্রায় সব যোগাযোগই মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মচারীদেরও কাজের প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। তাই সব স্তরের কর্মচারীদের এই সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত যৌক্তিক। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর বিশাল আর্থিক সংশ্লেষ এবং দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে এটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম অংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর হবে। এর ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ নিয়মিত সামরিক-অসামরিক কর্মচারী এবং ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন।
মোবাইল ভাতার বাইরেও এবারের বেতনস্কেলে মানবিক একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা সরকারি চাকুরেদের পরিবারগুলোতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/

আপনার মতামত লিখুন