সরকারবিরোধী মতপ্রকাশ করলেই কাউকে ধরে আনা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে যদি দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক করতে হলে উচ্চতর আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থের বাইরে রেখে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া সেমিনারে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান, এই সংকট সরকারের তৈরি নয় বরং এর পেছনে গভীর বৈশ্বিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপথে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সাময়িকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এই বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে একটি মহল জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লকডাউনের নামে কিংবা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখল করে রাখার হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার তার ভুলত্রুটি বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বিরোধীদলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং শুধু সমস্যা তুলে না ধরে সংকটের সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিগত দিনে মানুষ যেন মামলা করতে সাহস না পায় সেজন্য দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে হবে।
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হওয়ার মতো উদ্বেগজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারবিরোধী মতপ্রকাশ করলেই কাউকে ধরে আনা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে যদি দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক করতে হলে উচ্চতর আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থের বাইরে রেখে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া সেমিনারে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী জানান, এই সংকট সরকারের তৈরি নয় বরং এর পেছনে গভীর বৈশ্বিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্রপথে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সাময়িকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।
কিন্তু এই বাস্তব সমস্যাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে একটি মহল জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লকডাউনের নামে কিংবা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথ দখল করে রাখার হুমকি কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদলের সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকার তার ভুলত্রুটি বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে বিরোধীদলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং শুধু সমস্যা তুলে না ধরে সংকটের সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিগত দিনে মানুষ যেন মামলা করতে সাহস না পায় সেজন্য দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে হবে।
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হওয়ার মতো উদ্বেগজনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন