তারকা বলতে সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে অভিনেতা, গায়ক কিংবা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। কিন্তু চীনের শহরগুলোতে তারকার সংজ্ঞাটা যেন একটু আলাদা। সেখানে ব্যস্ততম সড়ক, মেট্রোস্টেশন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্কয়ারের বিশাল বিলবোর্ড দখল করে আছে বিজ্ঞানীদের মুখ। বিনোদন জগতের তারকাদের বদলে এসব প্রচারণায় উঠে এসেছে দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের কীর্তি।
চীনের বিভিন্ন শহরের বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে দেশটির মিসাইল ও মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম পথিকৃৎ চিয়ান শুয়েসেন, পরমাণু পদার্থবিজ্ঞানী তেং চিয়াক্সিয়ান এবং কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের ছবি। পাশাপাশি চীনের মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা নভোচারীদের ছবিও স্থান পেয়েছে অনেক বিলবোর্ডে।
বিজ্ঞানীদের এভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার পেছনে রয়েছে চীনের একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধ। দেশটিতে জ্ঞান, গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চাকে অত্যন্ত মর্যাদার চোখে দেখা হয়। দেশের অগ্রগতিতে যাঁরা অবদান রাখেন, তাঁদেরই প্রকৃত নায়ক হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা রয়েছে। ফলে বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিকে শুধু প্রচারণা নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিজ্ঞানীদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, অন্য দেশগুলোর শহরেও এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
বিজ্ঞানীরাই অনুপ্রেরণার
মুখ
চীনে বিজ্ঞান ও গবেষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সমাজে বিজ্ঞানীদের মর্যাদাও তৈরি হয়েছে আলাদা জায়গায়।
এই সংস্কৃতির প্রভাব শিশুদের স্বপ্নেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও চীনের শিশুদের বড় একটি অংশ মহাকাশচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে-এমন তুলনাও করা হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশাল আকারের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের অবদানের তথ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই গর্ব অনুভব করেন। তাঁদের কাছে পর্দার জনপ্রিয় মুখের চেয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া গবেষক, উদ্ভাবক ও মহাকাশচারীরাই বেশি সম্মানের।
চীনের এই চিত্র তাই শুধু বিলবোর্ডের পরিবর্তন নয়; বরং একটি সমাজ কোন ধরনের মানুষকে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে সামনে রাখতে চায়, তারও প্রতিফলন।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তারকা বলতে সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে অভিনেতা, গায়ক কিংবা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। কিন্তু চীনের শহরগুলোতে তারকার সংজ্ঞাটা যেন একটু আলাদা। সেখানে ব্যস্ততম সড়ক, মেট্রোস্টেশন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ স্কয়ারের বিশাল বিলবোর্ড দখল করে আছে বিজ্ঞানীদের মুখ। বিনোদন জগতের তারকাদের বদলে এসব প্রচারণায় উঠে এসেছে দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের কীর্তি।
চীনের বিভিন্ন শহরের বিলবোর্ডে দেখা যাচ্ছে দেশটির মিসাইল ও মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম পথিকৃৎ চিয়ান শুয়েসেন, পরমাণু পদার্থবিজ্ঞানী তেং চিয়াক্সিয়ান এবং কৃষিবিজ্ঞানী ইউয়ান লংপিংয়ের ছবি। পাশাপাশি চীনের মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা নভোচারীদের ছবিও স্থান পেয়েছে অনেক বিলবোর্ডে।
বিজ্ঞানীদের এভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার পেছনে রয়েছে চীনের একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক মূল্যবোধ। দেশটিতে জ্ঞান, গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চাকে অত্যন্ত মর্যাদার চোখে দেখা হয়। দেশের অগ্রগতিতে যাঁরা অবদান রাখেন, তাঁদেরই প্রকৃত নায়ক হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা রয়েছে। ফলে বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিকে শুধু প্রচারণা নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিজ্ঞানীদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, অন্য দেশগুলোর শহরেও এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্মের কাছে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।
বিজ্ঞানীরাই অনুপ্রেরণার
মুখ
চীনে বিজ্ঞান ও গবেষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সমাজে বিজ্ঞানীদের মর্যাদাও তৈরি হয়েছে আলাদা জায়গায়।
এই সংস্কৃতির প্রভাব শিশুদের স্বপ্নেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও চীনের শিশুদের বড় একটি অংশ মহাকাশচারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে-এমন তুলনাও করা হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশাল আকারের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি ও তাঁদের অবদানের তথ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই গর্ব অনুভব করেন। তাঁদের কাছে পর্দার জনপ্রিয় মুখের চেয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া গবেষক, উদ্ভাবক ও মহাকাশচারীরাই বেশি সম্মানের।
চীনের এই চিত্র তাই শুধু বিলবোর্ডের পরিবর্তন নয়; বরং একটি সমাজ কোন ধরনের মানুষকে আদর্শ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে সামনে রাখতে চায়, তারও প্রতিফলন।

আপনার মতামত লিখুন