পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ কাটিয়ে বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি এক যৌথ সভা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।
মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি গভীর পর্যালোচনার পাশাপাশি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে ডিএসই এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাজারে নতুন আইপিও ও আকর্ষণীয় আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকটে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এই মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। বাজারের আস্থা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সকল অংশীজনকে একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাজারকে কোনোভাবে দমন না করে এটিকে একটি পরিপালনসম্মত, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধিকে ডিএসইর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি বাজারের একটি বড় দুর্বলতা। এই সংকট কাটাতে নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফির ৫০ শতাংশ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রোকার হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করে না, বরং কেবল নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলেই কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান চালানো হবে।
সিসি অ্যাকাউন্ট বা শেয়ারের সম্পদে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘাটতি শুধু একক কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমই নয়, বরং পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত মানদণ্ড নির্ধারণের জোরালো দাবি জানান। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; বরং লেনদেনের ধরন, শেয়ারের দামে এর প্রকৃত প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীর আর্থিক সক্ষমতাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডিএসই ও ডিবিএর শীর্ষ নেতারা বাজারের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরাজমান উদ্বেগ কাটিয়ে বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি এক যৌথ সভা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।
মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি গভীর পর্যালোচনার পাশাপাশি স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে ডিএসই এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম সচল রাখা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাজারে নতুন আইপিও ও আকর্ষণীয় আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকটে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এই মতবিনিময় সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। বাজারের আস্থা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সকল অংশীজনকে একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাজারকে কোনোভাবে দমন না করে এটিকে একটি পরিপালনসম্মত, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বড় উদ্যোগের কথা জানিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধিকে ডিএসইর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি বাজারের একটি বড় দুর্বলতা। এই সংকট কাটাতে নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফির ৫০ শতাংশ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্রোকার হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করে না, বরং কেবল নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলেই কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধান চালানো হবে।
সিসি অ্যাকাউন্ট বা শেয়ারের সম্পদে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘাটতি শুধু একক কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমই নয়, বরং পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত মানদণ্ড নির্ধারণের জোরালো দাবি জানান। তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়; বরং লেনদেনের ধরন, শেয়ারের দামে এর প্রকৃত প্রভাব এবং বিনিয়োগকারীর আর্থিক সক্ষমতাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডিএসই ও ডিবিএর শীর্ষ নেতারা বাজারের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন