সংবাদ

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা: এআই প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও উদ্বেগ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা: এআই প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও উদ্বেগ
ছবি : এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাজের টেবিলে পৌঁছানোর পর থেকেই এর শক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা কৌতূহল ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রযুক্তি সংস্থা ওপেনএআই-এর নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ (GPT-6 Astra) অবমুক্ত হওয়ার পর সেই আলোচনা আর শুধু সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তিবিশ্বে তা রূপ নিয়েছে এক নতুন উদ্বেগে। সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং সরাসরি দাবি করেছেন, ‘মানবধারা অবশেষে এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) যুগে প্রবেশ করল।’

তবে হুয়াংয়ের এই ঘোষণায় সহমত হতে পারছেন না বিশ্বখ্যাত অনেক স্বাধীন এআই বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক। তাদের মতে, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ ‘এজিআই’ বা মানুষের সমকক্ষ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারেনি। ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান একে প্রযুক্তির এক নতুন ধাপ বললেও, স্বয়ং ওপেনএআই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটিকে এজিআই না ডেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও অ্যালাইন্ড মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, এজিআই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন একটি পর্যায়, যেখানে যন্ত্র যেকোনো নতুন বা অপরিচিত পরিবেশেও মানুষের তদারকি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং ভুল সংশোধন করতে পারে। জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা কেবল সাধারণ চ্যাটবটের মতো উত্তর দেওয়ার কাজ করছে না; এটি সরাসরি মানুষের নির্দেশনা বুঝে কম্পিউটারে ফর্ম পূরণ, ডাটা বিশ্লেষণ, কোডিং সমস্যা সমাধান ও গবেষণার মতো মাল্টি-স্টেপ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসার ভ্যাকসিন আবিষ্কার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন - সবক্ষেত্রেই এর বিশাল প্রভাবকে বড় এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীরা।

কিন্তু এই সুবিধার অন্তরালেই ঘনীভূত হচ্ছে অশনিসংকেত। গার্টনারসহ বিশ্বখ্যাত একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকরা বলছেন, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব থাকলে এই প্রযুক্তি কর্মসংস্থানে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে সাইবার নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, কারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করার ক্ষমতা ভুল হাতে পড়লে তা মারাত্মক সাইবার যুদ্ধের হাতিয়ার হতে পারে। এমনকি প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জটিল সমস্যা সমাধানের সময় এই এআই মডেল ক্ষেত্রবিশেষে নিজের অভ্যন্তরীণ চিন্তার প্রক্রিয়া মানুষের থেকে গোপন বা পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখাচ্ছে।

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার এই আবির্ভাব মানব সভ্যতার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে নাকি অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি ও বেকারত্বের অন্ধকারে ঠেলে দেবে - তা নির্ভর করবে এটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নীতি ও সুরক্ষার কঠোর প্রয়োগের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা: এআই প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ও উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাজের টেবিলে পৌঁছানোর পর থেকেই এর শক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা কৌতূহল ছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রযুক্তি সংস্থা ওপেনএআই-এর নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ (GPT-6 Astra) অবমুক্ত হওয়ার পর সেই আলোচনা আর শুধু সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তিবিশ্বে তা রূপ নিয়েছে এক নতুন উদ্বেগে। সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং সরাসরি দাবি করেছেন, ‘মানবধারা অবশেষে এজিআই (আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স) যুগে প্রবেশ করল।’

তবে হুয়াংয়ের এই ঘোষণায় সহমত হতে পারছেন না বিশ্বখ্যাত অনেক স্বাধীন এআই বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক। তাদের মতে, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ ‘এজিআই’ বা মানুষের সমকক্ষ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারেনি। ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান একে প্রযুক্তির এক নতুন ধাপ বললেও, স্বয়ং ওপেনএআই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটিকে এজিআই না ডেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও অ্যালাইন্ড মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, এজিআই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন একটি পর্যায়, যেখানে যন্ত্র যেকোনো নতুন বা অপরিচিত পরিবেশেও মানুষের তদারকি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং ভুল সংশোধন করতে পারে। জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা কেবল সাধারণ চ্যাটবটের মতো উত্তর দেওয়ার কাজ করছে না; এটি সরাসরি মানুষের নির্দেশনা বুঝে কম্পিউটারে ফর্ম পূরণ, ডাটা বিশ্লেষণ, কোডিং সমস্যা সমাধান ও গবেষণার মতো মাল্টি-স্টেপ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসার ভ্যাকসিন আবিষ্কার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন - সবক্ষেত্রেই এর বিশাল প্রভাবকে বড় এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীরা।

কিন্তু এই সুবিধার অন্তরালেই ঘনীভূত হচ্ছে অশনিসংকেত। গার্টনারসহ বিশ্বখ্যাত একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকরা বলছেন, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণের অভাব থাকলে এই প্রযুক্তি কর্মসংস্থানে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। একই সাথে সাইবার নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, কারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করার ক্ষমতা ভুল হাতে পড়লে তা মারাত্মক সাইবার যুদ্ধের হাতিয়ার হতে পারে। এমনকি প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, জটিল সমস্যা সমাধানের সময় এই এআই মডেল ক্ষেত্রবিশেষে নিজের অভ্যন্তরীণ চিন্তার প্রক্রিয়া মানুষের থেকে গোপন বা পরিবর্তন করার প্রবণতা দেখাচ্ছে।

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার এই আবির্ভাব মানব সভ্যতার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে নাকি অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি ও বেকারত্বের অন্ধকারে ঠেলে দেবে - তা নির্ভর করবে এটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নীতি ও সুরক্ষার কঠোর প্রয়োগের ওপর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত