সংবাদ

সদর থানার দেয়ালঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা, জনদুর্ভোগ চরমে


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

সদর থানার দেয়ালঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা, জনদুর্ভোগ চরমে
সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট, সরু হয়ে গেছে মূল সড়ক। ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে সরু হয়ে পড়েছে বড় বাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কটি। ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল করে এসব দোকানপাট ও স্থাপনা তোলায় যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা থমকে গেছে। বর্তমানে সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলেও থামেনি দখলদারত্ব, সরানো হয়নি এসব অবৈধ স্থাপনা। সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পাকাপুল থেকে বড় বাজার যাওয়ার পথটি আগে থেকেই সরু। এর ওপর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা স্থাপনার কারণে একটি ভ্যান বা ইজিবাইকও স্বাচ্ছন্দ্যে পাশ কাটাতে পারে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন পথচারীরা।

সদর থানার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দা চিকিৎসক মিনহাজ আহমেদ বলেন, 'থানার দেয়াল ঘেঁষে সড়কের ওপর এমনভাবে স্থাপনা বসানো হয়েছে যে বাসা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বের করতেই বেগ পেতে হয়। সড়কের প্রায় অর্ধেকই দখল হয়ে রয়েছে। এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি।'

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলীনুর খান বাবুল বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা শহরবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রশাসনিক নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর এসব টিকে থাকে, তা বোধগম্য নয়। দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করে পথ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।'

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, 'পাকাপুল থেকে বড় বাজার সড়কটির প্রস্থ মাত্র ১৬ থেকে ১৮ ফুট। গত ৩০ বছরে শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও রাস্তা বড় হয়নি। উল্টো থানার দেয়ালঘেঁষে সড়ক দখল করে রাখায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সড়কগুলো প্রশস্ত করতে পুরো শহরের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া জরুরি।'

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত হোসেন জানান, সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নিজ দায়িত্বে দোকান সরিয়ে নিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মাইকিংও করা হয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সদর থানার দেয়ালঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার কারণে সরু হয়ে পড়েছে বড় বাজারসংলগ্ন প্রধান সড়কটি। ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল করে এসব দোকানপাট ও স্থাপনা তোলায় যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা থমকে গেছে। বর্তমানে সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হলেও থামেনি দখলদারত্ব, সরানো হয়নি এসব অবৈধ স্থাপনা। সরেজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরা শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পাকাপুল থেকে বড় বাজার যাওয়ার পথটি আগে থেকেই সরু। এর ওপর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা স্থাপনার কারণে একটি ভ্যান বা ইজিবাইকও স্বাচ্ছন্দ্যে পাশ কাটাতে পারে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন পথচারীরা।

সদর থানার দক্ষিণ পাশের বাসিন্দা চিকিৎসক মিনহাজ আহমেদ বলেন, 'থানার দেয়াল ঘেঁষে সড়কের ওপর এমনভাবে স্থাপনা বসানো হয়েছে যে বাসা থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বের করতেই বেগ পেতে হয়। সড়কের প্রায় অর্ধেকই দখল হয়ে রয়েছে। এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি।'

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলীনুর খান বাবুল বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা শহরবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রশাসনিক নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর এসব টিকে থাকে, তা বোধগম্য নয়। দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করে পথ উন্মুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।'

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, 'পাকাপুল থেকে বড় বাজার সড়কটির প্রস্থ মাত্র ১৬ থেকে ১৮ ফুট। গত ৩০ বছরে শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও রাস্তা বড় হয়নি। উল্টো থানার দেয়ালঘেঁষে সড়ক দখল করে রাখায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সড়কগুলো প্রশস্ত করতে পুরো শহরের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া জরুরি।'

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত হোসেন জানান, সদর থানার দেয়ালঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নিজ দায়িত্বে দোকান সরিয়ে নিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মাইকিংও করা হয়েছে। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ সম্পন্ন করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত