গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের ‘চরের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত কুন্দেরপাড়ায় আবারও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় কুন্দেরপাড়া, পূর্ব বাটিকামারী, বাটিকামারী ও পারদিয়ারাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ চরম ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়েছে দুর্গম চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারের ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্রসহ অন্তত অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র রূপ নেয়। ভাঙনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারের ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র, কয়েকটি মাদ্রাসা, স্থানীয় হাটবাজার ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়।
গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, 'এটি চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ভাঙন প্রতিরোধে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।'
একই উদ্বেগের কথা জানিয়ে কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা বেগম বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি এখন একেবারে নদীর কূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বাটিকামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি নির্মাণ করেছিল, সেটিও এখন চরম নদীভাঙন ঝুঁকিতে। কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র ও ঝুঁকির বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রকল্প না থাকলেও ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের ‘চরের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত কুন্দেরপাড়ায় আবারও তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় কুন্দেরপাড়া, পূর্ব বাটিকামারী, বাটিকামারী ও পারদিয়ারাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ চরম ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়েছে দুর্গম চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারের ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্রসহ অন্তত অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র রূপ নেয়। ভাঙনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারের ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র, কয়েকটি মাদ্রাসা, স্থানীয় হাটবাজার ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়।
গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, 'এটি চরাঞ্চলের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ভাঙন প্রতিরোধে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরের শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।'
একই উদ্বেগের কথা জানিয়ে কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজমা বেগম বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি এখন একেবারে নদীর কূল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বাটিকামারী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারটি নির্মাণ করেছিল, সেটিও এখন চরম নদীভাঙন ঝুঁকিতে। কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র ও ঝুঁকির বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রকল্প না থাকলেও ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন