সংবাদ

শিক্ষা দিবস: বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবি


বাবুল কান্তি দাশ
বাবুল কান্তি দাশ
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ এএম

শিক্ষা দিবস: বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবি
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন

১৭ সেপ্টেম্বর আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দিনটির তাৎপর্য সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন। ১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ যে রক্তাক্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তা পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। ছাত্রসমাজ সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করে রাজপথে নিয়ে আসে। তাদের দাবি ছিল গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা। তাদের কাছে শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাস বা সার্টিফিকেট অর্জনের বিষয় ছিল না; শিক্ষা ছিল মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শক্তি।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার পর শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এস এম শরীফকে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। কমিশন ১৯৫৯ সালের আগস্টে ২৪ অধ্যায়ে বিভক্ত একটি শিক্ষা প্রতিবেদন দেয়। এর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ছাত্রদের আশঙ্কা ছিল, প্রস্তাবিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেবে এবং বৈষম্য আরও বাড়াবে।

এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠনগুলো রাজপথে নামে। ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে সংহতি জানান। সেদিন পুলিশের গুলিতে মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ, বাবুলসহ অনেকে নিহত হন। টঙ্গীতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিক নিহত হন। আহত ও গ্রেপ্তার হন বহু মানুষ। রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা পায় শিক্ষা দিবস হিসেবে।

শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান ও সমতা নিশ্চিত করতে পারিনি। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে গণমুখী, সার্বজনীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে, কাঠামোগত পরিবর্তনও এসেছে। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় রয়েছে বড় বৈষম্য। একই দেশের শিক্ষকদের আর্থসামাজিক মর্যাদাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। অথচ শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, শিক্ষক সেই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান নিশ্চিত না করে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা কঠিন।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। শিক্ষা যেন ক্রমেই জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা অর্জনের পরিবর্তে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল, সার্টিফিকেট ও চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চা প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না। শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করতে পারে, কিন্তু সুশিক্ষিত মানুষ হতে হলে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, সুশিক্ষার লক্ষণ হলো তা মানুষকে মুক্তি দেয়। সেই মুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়; চিন্তা, বিবেক ও মানবিকতারও মুক্তি। তাই শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল, মানবিক ও সুনাগরিক তৈরি করা। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—তিন ক্ষেত্রেই এ দায়িত্ব রয়েছে।

আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, শিক্ষার বিস্তারও ঘটেছে। কিন্তু মান নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। পাঠ্যক্রমের ঘন ঘন পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ এবং শিক্ষা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু চাকরির জন্য নয়, জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল শিক্ষা ছিল—শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, এটি মানুষের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শিক্ষা হতে হবে গণমুখী, সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন। শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে।

শিক্ষা দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়; এটি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। যে ছাত্রসমাজ রক্ত দিয়ে শিক্ষার অধিকার ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল, তাদের আত্মত্যাগকে যথাযথভাবে স্মরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানাতে হবে।

৬৪ বছর পরও ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের অনেক আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ। সেই অপূর্ণতা পূরণের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। শিক্ষা যেন শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম না হয়ে মানুষ হওয়ার পথ দেখায়—শিক্ষা দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: শিক্ষক, কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিক্ষা দিবস: বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

১৭ সেপ্টেম্বর আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দিনটির তাৎপর্য সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন। ১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্রসমাজ যে রক্তাক্ত আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তা পরবর্তী সময়ে বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তির আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। ছাত্রসমাজ সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করে রাজপথে নিয়ে আসে। তাদের দাবি ছিল গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা। তাদের কাছে শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাস বা সার্টিফিকেট অর্জনের বিষয় ছিল না; শিক্ষা ছিল মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শক্তি।

১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করার পর শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর এস এম শরীফকে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। কমিশন ১৯৫৯ সালের আগস্টে ২৪ অধ্যায়ে বিভক্ত একটি শিক্ষা প্রতিবেদন দেয়। এর বিভিন্ন সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ছাত্রদের আশঙ্কা ছিল, প্রস্তাবিত শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে দেবে এবং বৈষম্য আরও বাড়াবে।

এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসংগঠনগুলো রাজপথে নামে। ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এতে সংহতি জানান। সেদিন পুলিশের গুলিতে মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ, বাবুলসহ অনেকে নিহত হন। টঙ্গীতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিক নিহত হন। আহত ও গ্রেপ্তার হন বহু মানুষ। রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকারের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা পায় শিক্ষা দিবস হিসেবে।

শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান ও সমতা নিশ্চিত করতে পারিনি। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে গণমুখী, সার্বজনীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে, কাঠামোগত পরিবর্তনও এসেছে। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় রয়েছে বড় বৈষম্য। একই দেশের শিক্ষকদের আর্থসামাজিক মর্যাদাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। অথচ শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, শিক্ষক সেই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান নিশ্চিত না করে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠা কঠিন।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি। শিক্ষা যেন ক্রমেই জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিকতা অর্জনের পরিবর্তে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল, সার্টিফিকেট ও চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠছে। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চা প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না। শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করতে পারে, কিন্তু সুশিক্ষিত মানুষ হতে হলে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, সুশিক্ষার লক্ষণ হলো তা মানুষকে মুক্তি দেয়। সেই মুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়; চিন্তা, বিবেক ও মানবিকতারও মুক্তি। তাই শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল, মানবিক ও সুনাগরিক তৈরি করা। পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—তিন ক্ষেত্রেই এ দায়িত্ব রয়েছে।

আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, শিক্ষার বিস্তারও ঘটেছে। কিন্তু মান নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। পাঠ্যক্রমের ঘন ঘন পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ এবং শিক্ষা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু চাকরির জন্য নয়, জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূল শিক্ষা ছিল—শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, এটি মানুষের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। শিক্ষা হতে হবে গণমুখী, সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন। শিক্ষার মধ্য দিয়ে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে হবে।

শিক্ষা দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়; এটি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন। যে ছাত্রসমাজ রক্ত দিয়ে শিক্ষার অধিকার ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল, তাদের আত্মত্যাগকে যথাযথভাবে স্মরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানাতে হবে।

৬৪ বছর পরও ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের অনেক আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ। সেই অপূর্ণতা পূরণের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। শিক্ষা যেন শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম না হয়ে মানুষ হওয়ার পথ দেখায়—শিক্ষা দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: শিক্ষক, কধুরখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত