সংবাদ

পারিশ্রমিক কমাতে কোয়াবের নতুন ফর্মুলা

বাজেট সংকটে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

বাজেট সংকটে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট

জাতীয় লিগ ও বিসিএলের ব্যবস্থাপনা উন্নত হলেও ক্রিকেটারদের সারা বছরের ভরণপোষণের মূল উৎস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) দেখা দিয়েছে তীব্র অর্থ সংকট।

২০২৭ সালের আসন্ন লিগে ক্লাবগুলোর বাজেট সংকট এবং ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত দর হাঁকানোর কারণে বড় দলগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। প্রায় হাফডজন শীর্ষ ক্রিকেটার ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক চাচ্ছেন, যা ক্লাবগুলোর বহনক্ষমতার বাইরে।

গত ১৭ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইতিহাস গড়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এখনো গত আসরের পুরোপুরি পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারেনি। দলটির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা অর্থ সংকটে আছেন।

তিনি বলেন, লোকমান ভাই আমাকে সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্রিকেট কমিটিতে আর কেউ সেভাবে অর্থ দিয়ে এগিয়ে না আসায় আমার একার ওপর অনেক চাপ পড়ে গেছে। তারপরও আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি মোহামেডানের সুনাম ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আগামী বছর মোহামেডানের পক্ষে কাগজে-কলমে এক নম্বর দল গড়া সম্ভব নাও হতে পারে। শুধু মোহামেডান নয়, ঐতিহ্যবাহী আবাহনী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অবস্থাও বেশ দুর্বল।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ সিনিয়র ক্রিকেটাররা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন, আমরা সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেই ক্লাব ক্রিকেটের অর্থ সংকট, মোহামেডানের বড় অঙ্কের পেমেন্ট বাকি এবং বেশ কটি দলের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া নিয়ে নিজেরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা ক্লাব ও ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। আমি তথা আমরা কোয়াব কর্তারা জানি, এবছর ক্লাবগুলোর অর্থ সংকট চলছে। তারা আগের মতো ক্রিকেটারদের ডিমান্ড ফুলফিল করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আমরা মাঝামাঝি একটা অবস্থানে থেকে পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছি। যাতে ক্লাবের ওপরও বাড়তি চাপ না পড়ে আবার ক্রিকেটাররাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই উপায় খোঁজার চেষ্টা করছি।

এই সংকট কাটাতে ম্যাচভিত্তিক পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়েছে কোয়াব। প্রস্তাব অনুযায়ী ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ম্যাচপিছু ৪ লাখ টাকা ধরা হলে ১৬ ম্যাচে তারা পাবেন ৬৪ লাখ টাকা, যা তাদের দাবিকৃত ১ কোটি টাকার তুলনায় অনেক কম। একইভাবে অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্যও ম্যাচভিত্তিক পারিশ্রমিক নির্ধারণের পরিকল্পনা চলছে, যাতে ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয় পক্ষই সুরক্ষিত থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাজেট সংকটে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় লিগ ও বিসিএলের ব্যবস্থাপনা উন্নত হলেও ক্রিকেটারদের সারা বছরের ভরণপোষণের মূল উৎস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) দেখা দিয়েছে তীব্র অর্থ সংকট।

২০২৭ সালের আসন্ন লিগে ক্লাবগুলোর বাজেট সংকট এবং ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত দর হাঁকানোর কারণে বড় দলগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। প্রায় হাফডজন শীর্ষ ক্রিকেটার ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক চাচ্ছেন, যা ক্লাবগুলোর বহনক্ষমতার বাইরে।

গত ১৭ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইতিহাস গড়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এখনো গত আসরের পুরোপুরি পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারেনি। দলটির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা অর্থ সংকটে আছেন।

তিনি বলেন, লোকমান ভাই আমাকে সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু ক্রিকেট কমিটিতে আর কেউ সেভাবে অর্থ দিয়ে এগিয়ে না আসায় আমার একার ওপর অনেক চাপ পড়ে গেছে। তারপরও আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি মোহামেডানের সুনাম ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আগামী বছর মোহামেডানের পক্ষে কাগজে-কলমে এক নম্বর দল গড়া সম্ভব নাও হতে পারে। শুধু মোহামেডান নয়, ঐতিহ্যবাহী আবাহনী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের অবস্থাও বেশ দুর্বল।

উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনসহ সিনিয়র ক্রিকেটাররা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন, আমরা সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেই ক্লাব ক্রিকেটের অর্থ সংকট, মোহামেডানের বড় অঙ্কের পেমেন্ট বাকি এবং বেশ কটি দলের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া নিয়ে নিজেরা আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা ক্লাব ও ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। আমি তথা আমরা কোয়াব কর্তারা জানি, এবছর ক্লাবগুলোর অর্থ সংকট চলছে। তারা আগের মতো ক্রিকেটারদের ডিমান্ড ফুলফিল করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আমরা মাঝামাঝি একটা অবস্থানে থেকে পরিস্থিতির ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছি। যাতে ক্লাবের ওপরও বাড়তি চাপ না পড়ে আবার ক্রিকেটাররাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই উপায় খোঁজার চেষ্টা করছি।

এই সংকট কাটাতে ম্যাচভিত্তিক পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়েছে কোয়াব। প্রস্তাব অনুযায়ী ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ম্যাচপিছু ৪ লাখ টাকা ধরা হলে ১৬ ম্যাচে তারা পাবেন ৬৪ লাখ টাকা, যা তাদের দাবিকৃত ১ কোটি টাকার তুলনায় অনেক কম। একইভাবে অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্যও ম্যাচভিত্তিক পারিশ্রমিক নির্ধারণের পরিকল্পনা চলছে, যাতে ক্লাব ও খেলোয়াড় উভয় পক্ষই সুরক্ষিত থাকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত