সংবাদ

শিশু ক্যান্সার: ভয় নয় সচেতনতা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

শিশু ক্যান্সার: ভয় নয় সচেতনতা

"ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা"; এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত শনিবার রাজধানী ঢাকায় পালিত হয়েছে জাতীয় শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস।

প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচিগুলোর আয়োজন করা হয়। বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসার একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলেও বাংলাদেশেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে সচেতনতার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ে নানা জটিলতার কারণে অনেক শিশু সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে শিশু ক্যানসার বিষয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন।

পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিশু অনুষদের ডিন ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, "এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়, শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।"

১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের সূচনা হলেও ২০১০ সাল থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া তার বক্তব্যে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "শিশু ক্যানসার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব।"

চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, শরীরে কালশিটে দাগ, হাড়ের ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যানসার নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন হলেও, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। দেরিতে রোগ শনাক্তকরণ এবং উচ্চ ব্যয় এই চিকিৎসার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই দেশব্যাপী ক্যানসার নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশু ক্যান্সার: ভয় নয় সচেতনতা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

"ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা"; এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত শনিবার রাজধানী ঢাকায় পালিত হয়েছে জাতীয় শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস।

প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচিগুলোর আয়োজন করা হয়। বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসার একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলেও বাংলাদেশেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে সচেতনতার অভাব এবং রোগ নির্ণয়ে নানা জটিলতার কারণে অনেক শিশু সঠিক সময়ে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ডা. মো. নজরুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে শিশু ক্যানসার বিষয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ জোর দেন।

পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিশু অনুষদের ডিন ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম বলেন, "এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়, শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।"

১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের সূচনা হলেও ২০১০ সাল থেকে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া তার বক্তব্যে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "শিশু ক্যানসার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করলে ভুল ধারণা দূর করা সম্ভব।"

চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, শরীরে কালশিটে দাগ, হাড়ের ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যানসার নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন হলেও, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। দেরিতে রোগ শনাক্তকরণ এবং উচ্চ ব্যয় এই চিকিৎসার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তাই দেশব্যাপী ক্যানসার নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত