একটি স্মার্টফোন ঘিরে মানুষের আগ্রহ কখনো কখনো কেন এত তীব্র হয়ে ওঠে, সেই প্রশ্ন নতুন নয়। বিশেষ করে আইফোনের নতুন মডেল বাজারে আসার সময় এ নিয়ে আলোচনা বাড়ে। সম্প্রতি মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিমের লাশ হয়ে ফেরার ঘটনা বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের মহারাষ্ট্রে
নতুন আইফোন কেনার আকাঙ্ক্ষা ও পারিবারিক আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে এক তরুণের আত্মহত্যার
চেষ্টা এবং তাকে থামাতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তী
প্রতিবেদনে পারিবারিক টানাপোড়েনের বিষয়টি উঠে আসে। তাই ঘটনাটিকে শুধু একটি ফোন কেনার
বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়।
তবু প্রশ্ন থাকে-বাজারে স্যামসাং,
গুগল, শাওমি, ভিভো, অপ্পোসহ নানা ব্র্যান্ডের শক্তিশালী স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও আইফোন
কেন এত আকর্ষণ তৈরি করে?
হার্ডওয়্যারের বাইরে ব্যবহার-অভিজ্ঞতা
আইফোনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ
এর সমন্বিত ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল নিজেই আইফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি ও
নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ এবং বিভিন্ন সেবার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায়
রাখা সহজ হয়।
একই ব্যবহারকারী যদি ম্যাক, অ্যাপল
ওয়াচ, এয়ারপডস বা আইক্লাউড ব্যবহার করেন, তাহলে এসব ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান
ও কাজের সমন্বয় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযুক্ত পণ্যব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের
একই ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকতে উৎসাহিত করতে পারে।
ব্র্যান্ড-ইমেজের প্রভাব
আইফোনের আকর্ষণ শুধু প্রযুক্তিগত
সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের প্রচার, নকশা, বিজ্ঞাপন, পণ্য উন্মোচনের আয়োজন এবং
অ্যাপলের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড-ইমেজ মিলিয়ে অনেকের কাছে আইফোন একটি বিশেষ পরিচয়ের প্রতীক
হয়ে উঠেছে।
নতুন মডেল বাজারে আসার পর আনবক্সিং
ভিডিও, ক্যামেরা পরীক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ এবং বিভিন্ন পর্যালোচনা
এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ফোন কেনার বিষয়টি ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বাইরে সামাজিক
আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বেশি দাম কি আকর্ষণ বাড়ায়
তুলনামূলক বেশি দাম কোনো পণ্যকে
অনেকের চোখে প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আইফোনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক
প্রভাব কাজ করতে পারে। তবে বেশি দাম মানেই সব দিক থেকে বেশি সক্ষমতা—এমন সিদ্ধান্তে
পৌঁছানো ঠিক নয়।
একই দামের মধ্যে অন্য ব্র্যান্ডের
কোনো ফোনে বেশি র্যাম, দ্রুত চার্জিং, বড় ব্যাটারি বা উন্নত জুম ক্যামেরা থাকতে পারে।
তাই ফোন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও বাজেট বিবেচনা করা জরুরি।
পুরোনো ব্যবহারকারীদের আনুগত্য
একবার কেউ আইফোনের সঙ্গে অ্যাপল
ওয়াচ, এয়ারপডস, আইক্লাউড ও অন্যান্য সেবায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়াকে
অনেক সময় ঝামেলার মনে হতে পারে। ডিভাইস ও সেবাগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা ব্যবহারকারীর
ব্র্যান্ড-আনুগত্য বাড়াতে পারে।
২০২৬ সালের একটি মার্কিন জরিপে
৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ আইফোন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পরবর্তী ফোন কেনার সময়ও তাঁরা আইফোন
বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে জরিপটি ৫ হাজার মার্কিন উত্তরদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তাই এই ফলাফল বিশ্বের সব আইফোন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে
না।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর
আইফোন অন্য সব স্মার্টফোনের চেয়ে
ভালো কি না, তার একক কোনো উত্তর নেই। কারও কাছে ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ, কারও কাছে গেমিং,
ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং বা সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা বেশি জরুরি।
আইফোনের আকর্ষণের পেছনে তাই একাধিক
কারণ কাজ করে—ব্র্যান্ডের পরিচিতি, নকশা, সফটওয়্যার, ইকোসিস্টেম, সামাজিক প্রভাব এবং
নতুন মডেল ঘিরে তৈরি প্রত্যাশা। তবে কোনো প্রযুক্তিপণ্য কেনার সিদ্ধান্ত যেন আর্থিক
চাপ, অন্ধ অনুকরণ বা সামাজিক প্রতিযোগিতার কারণ না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্টফোন মানুষের প্রয়োজন মেটানোর
একটি যন্ত্র। এর দাম বা ব্র্যান্ড যতই মূল্যবান হোক, মানুষের জীবন ও পারিবারিক নিরাপত্তার
চেয়ে তা কখনোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি স্মার্টফোন ঘিরে মানুষের আগ্রহ কখনো কখনো কেন এত তীব্র হয়ে ওঠে, সেই প্রশ্ন নতুন নয়। বিশেষ করে আইফোনের নতুন মডেল বাজারে আসার সময় এ নিয়ে আলোচনা বাড়ে। সম্প্রতি মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিমের লাশ হয়ে ফেরার ঘটনা বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের মহারাষ্ট্রে
নতুন আইফোন কেনার আকাঙ্ক্ষা ও পারিবারিক আর্থিক সংকটকে কেন্দ্র করে এক তরুণের আত্মহত্যার
চেষ্টা এবং তাকে থামাতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তী
প্রতিবেদনে পারিবারিক টানাপোড়েনের বিষয়টি উঠে আসে। তাই ঘটনাটিকে শুধু একটি ফোন কেনার
বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যথাযথ নয়।
তবু প্রশ্ন থাকে-বাজারে স্যামসাং,
গুগল, শাওমি, ভিভো, অপ্পোসহ নানা ব্র্যান্ডের শক্তিশালী স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও আইফোন
কেন এত আকর্ষণ তৈরি করে?
হার্ডওয়্যারের বাইরে ব্যবহার-অভিজ্ঞতা
আইফোনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ
এর সমন্বিত ব্যবহার-অভিজ্ঞতা। অ্যাপল নিজেই আইফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি ও
নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ এবং বিভিন্ন সেবার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায়
রাখা সহজ হয়।
একই ব্যবহারকারী যদি ম্যাক, অ্যাপল
ওয়াচ, এয়ারপডস বা আইক্লাউড ব্যবহার করেন, তাহলে এসব ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান
ও কাজের সমন্বয় তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। এ ধরনের আন্তঃসংযুক্ত পণ্যব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের
একই ব্র্যান্ডের মধ্যে থাকতে উৎসাহিত করতে পারে।
ব্র্যান্ড-ইমেজের প্রভাব
আইফোনের আকর্ষণ শুধু প্রযুক্তিগত
সক্ষমতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের প্রচার, নকশা, বিজ্ঞাপন, পণ্য উন্মোচনের আয়োজন এবং
অ্যাপলের প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড-ইমেজ মিলিয়ে অনেকের কাছে আইফোন একটি বিশেষ পরিচয়ের প্রতীক
হয়ে উঠেছে।
নতুন মডেল বাজারে আসার পর আনবক্সিং
ভিডিও, ক্যামেরা পরীক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ এবং বিভিন্ন পর্যালোচনা
এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে ফোন কেনার বিষয়টি ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বাইরে সামাজিক
আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বেশি দাম কি আকর্ষণ বাড়ায়
তুলনামূলক বেশি দাম কোনো পণ্যকে
অনেকের চোখে প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আইফোনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক
প্রভাব কাজ করতে পারে। তবে বেশি দাম মানেই সব দিক থেকে বেশি সক্ষমতা—এমন সিদ্ধান্তে
পৌঁছানো ঠিক নয়।
একই দামের মধ্যে অন্য ব্র্যান্ডের
কোনো ফোনে বেশি র্যাম, দ্রুত চার্জিং, বড় ব্যাটারি বা উন্নত জুম ক্যামেরা থাকতে পারে।
তাই ফোন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও বাজেট বিবেচনা করা জরুরি।
পুরোনো ব্যবহারকারীদের আনুগত্য
একবার কেউ আইফোনের সঙ্গে অ্যাপল
ওয়াচ, এয়ারপডস, আইক্লাউড ও অন্যান্য সেবায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়াকে
অনেক সময় ঝামেলার মনে হতে পারে। ডিভাইস ও সেবাগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা ব্যবহারকারীর
ব্র্যান্ড-আনুগত্য বাড়াতে পারে।
২০২৬ সালের একটি মার্কিন জরিপে
৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ আইফোন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পরবর্তী ফোন কেনার সময়ও তাঁরা আইফোন
বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে জরিপটি ৫ হাজার মার্কিন উত্তরদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তাই এই ফলাফল বিশ্বের সব আইফোন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে
না।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর
আইফোন অন্য সব স্মার্টফোনের চেয়ে
ভালো কি না, তার একক কোনো উত্তর নেই। কারও কাছে ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ, কারও কাছে গেমিং,
ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং বা সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা বেশি জরুরি।
আইফোনের আকর্ষণের পেছনে তাই একাধিক
কারণ কাজ করে—ব্র্যান্ডের পরিচিতি, নকশা, সফটওয়্যার, ইকোসিস্টেম, সামাজিক প্রভাব এবং
নতুন মডেল ঘিরে তৈরি প্রত্যাশা। তবে কোনো প্রযুক্তিপণ্য কেনার সিদ্ধান্ত যেন আর্থিক
চাপ, অন্ধ অনুকরণ বা সামাজিক প্রতিযোগিতার কারণ না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্টফোন মানুষের প্রয়োজন মেটানোর
একটি যন্ত্র। এর দাম বা ব্র্যান্ড যতই মূল্যবান হোক, মানুষের জীবন ও পারিবারিক নিরাপত্তার
চেয়ে তা কখনোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আপনার মতামত লিখুন