আলু সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ঘরের ঠান্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গাকেই উপযুক্ত মনে করা হয়। তবে ফ্রিজে আলু রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিল সতর্কতা। এর কারণ, কম তাপমাত্রায় আলুর শর্করার পরিবর্তন এবং পরে উচ্চ তাপে রান্নার সময় অ্যাক্রিলামাইড তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার
ভিত্তিতে সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি
(FSA) জানিয়েছে, ঘরের ফ্রিজে আলু রাখলে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণের
তুলনায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না।
অ্যাক্রিলামাইড নিয়ে কেন ছিল উদ্বেগ
আলু ও পাউরুটির মতো শ্বেতসারসমৃদ্ধ
খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। FSA-এর তথ্য অনুযায়ী,
সাধারণত ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় রান্নার সময় এ রাসায়নিক তৈরি হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
আগে ধারণা করা হতো, ফ্রিজে রাখলে
আলুর মধ্যে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। পরে উচ্চ তাপে ভাজা বা রোস্ট করার সময় সেই
শর্করা থেকে বেশি অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা পর্যালোচনা
করে কমিটি অন দ্য টক্সিসিটি অব কেমিক্যালস ইন ফুড, কনজিউমার প্রোডাক্টস অ্যান্ড দ্য
এনভায়রনমেন্ট ফ্রিজে আলু রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পায়নি। এরপর
FSA তাদের আগের নির্দেশনা পরিবর্তন করেছে।
তাহলে আলু কোথায় রাখবেন?
ফ্রিজে রাখা কিংবা ঘরের ঠান্ডা,
শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ—দুই পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য। বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে
প্রচলিত পদ্ধতিতে আলু রাখা যেতে পারে। আবার খাদ্য অপচয় কমানো বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণের
প্রয়োজন হলে ফ্রিজও ব্যবহার করা যায়।
ডিপ ফ্রিজে রাখা যাবে?
সেদ্ধ বা আংশিক সেদ্ধ আলু ডিপ
ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব। রান্না হয়ে যাওয়া বাড়তি আলুও এভাবে রাখা যায়।
ডিপ ফ্রিজ থেকে বের করার পর আলু
রোস্ট বা ভাজা যায়। তবে রান্নার সময় আলুর ভেতরের অংশও ভালোভাবে গরম হয়েছে কি না, তা
নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও মচমচে করে খেতে চাইলে সামান্য
তেল মাখিয়ে ওভেনে গরম করা যেতে পারে। ফলে আগে থেকে সংরক্ষণ করা আলুও পরে সহজে বিভিন্ন
পদ তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, ফ্রিজে আলু রাখাকে
এখন আর আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে সংরক্ষণের পদ্ধতি যাই হোক, আলু
নষ্ট হয়ে গেছে কি না এবং রান্নার সময় যথাযথভাবে গরম হয়েছে কি না-সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আলু সংরক্ষণের জন্য সাধারণত ঘরের ঠান্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গাকেই উপযুক্ত মনে করা হয়। তবে ফ্রিজে আলু রাখা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছিল সতর্কতা। এর কারণ, কম তাপমাত্রায় আলুর শর্করার পরিবর্তন এবং পরে উচ্চ তাপে রান্নার সময় অ্যাক্রিলামাইড তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার
ভিত্তিতে সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি
(FSA) জানিয়েছে, ঘরের ফ্রিজে আলু রাখলে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণের
তুলনায় অ্যাক্রিলামাইড তৈরির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না।
অ্যাক্রিলামাইড নিয়ে কেন ছিল উদ্বেগ
আলু ও পাউরুটির মতো শ্বেতসারসমৃদ্ধ
খাবার বেশি তাপমাত্রায় রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। FSA-এর তথ্য অনুযায়ী,
সাধারণত ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় রান্নার সময় এ রাসায়নিক তৈরি হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
আগে ধারণা করা হতো, ফ্রিজে রাখলে
আলুর মধ্যে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। পরে উচ্চ তাপে ভাজা বা রোস্ট করার সময় সেই
শর্করা থেকে বেশি অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা পর্যালোচনা
করে কমিটি অন দ্য টক্সিসিটি অব কেমিক্যালস ইন ফুড, কনজিউমার প্রোডাক্টস অ্যান্ড দ্য
এনভায়রনমেন্ট ফ্রিজে আলু রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পায়নি। এরপর
FSA তাদের আগের নির্দেশনা পরিবর্তন করেছে।
তাহলে আলু কোথায় রাখবেন?
ফ্রিজে রাখা কিংবা ঘরের ঠান্ডা,
শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ—দুই পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য। বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে
প্রচলিত পদ্ধতিতে আলু রাখা যেতে পারে। আবার খাদ্য অপচয় কমানো বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণের
প্রয়োজন হলে ফ্রিজও ব্যবহার করা যায়।
ডিপ ফ্রিজে রাখা যাবে?
সেদ্ধ বা আংশিক সেদ্ধ আলু ডিপ
ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব। রান্না হয়ে যাওয়া বাড়তি আলুও এভাবে রাখা যায়।
ডিপ ফ্রিজ থেকে বের করার পর আলু
রোস্ট বা ভাজা যায়। তবে রান্নার সময় আলুর ভেতরের অংশও ভালোভাবে গরম হয়েছে কি না, তা
নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও মচমচে করে খেতে চাইলে সামান্য
তেল মাখিয়ে ওভেনে গরম করা যেতে পারে। ফলে আগে থেকে সংরক্ষণ করা আলুও পরে সহজে বিভিন্ন
পদ তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, ফ্রিজে আলু রাখাকে
এখন আর আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে সংরক্ষণের পদ্ধতি যাই হোক, আলু
নষ্ট হয়ে গেছে কি না এবং রান্নার সময় যথাযথভাবে গরম হয়েছে কি না-সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন