চুল পড়া কিংবা মাথার সামনের অংশ পাতলা হয়ে যাওয়াকে অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করেন। তবে বাস্তবে অল্প বয়সেও চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ২০-এর কোঠায় কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া, মাথার ওপরের অংশ পাতলা হওয়া কিংবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার পেছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ।
ভারতের চিকিৎসক রাশি সোনির
মতে, তরুণদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস
ও জীবনযাপনও ভূমিকা রাখতে পারে।
বংশগত টাক পড়ার প্রবণতা
তরুণ বয়সে ধীরে ধীরে কপালের দুই
পাশের চুল উঠে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশ পাতলা হয়ে আসা অনেক সময় অ্যান্ড্রোজেনেটিক
অ্যালোপেসিয়ার লক্ষণ। এটি বংশগত চুল পড়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরনগুলোর একটি।
জেনেটিক কারণে চুলের ফলিকল অ্যান্ড্রোজেন
হরমোনের একটি রূপ ডিএইচটির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। সময়ের সঙ্গে ফলিকল ছোট হয়ে
গেলে চুলের বৃদ্ধি দুর্বল হয় এবং নতুন চুল আগের তুলনায় পাতলা ও ছোট হয়ে আসে।
শুধু মায়ের পরিবারের কাছ থেকেই
টাক পড়ার জিন আসে—এমন ধারণা ঠিক নয়। চুল পড়ার বংশগত প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে পরিবারের
উভয় দিকের ইতিহাসই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের চাপেও বাড়তে পারে চুল পড়া
পরীক্ষা বা কাজের চাপ, দীর্ঘদিনের
দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, দ্রুত ওজন কমানো কিংবা কোনো অসুস্থতার পরও অতিরিক্ত চুল ঝরতে
পারে।
এ ক্ষেত্রে টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম
নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল একই সময়ে ঝরে পড়ার
পর্যায়ে চলে যায়। কোনো মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হওয়ায় অনেক
সময় দুটির মধ্যে সম্পর্ক বুঝতে অসুবিধা হয়।
ক্রিয়েটিন কি চুল পড়ার কারণ?
জিমে ব্যায়াম করা তরুণদের মধ্যে
ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে চুল পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার
কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।
কিছু গবেষণায় ক্রিয়েটিন গ্রহণের
সঙ্গে ডিএইচটির মাত্রার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ডিএইচটি বাড়লেই
যে চুল পড়বে, এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।
খাবারের ঘাটতিও প্রভাব ফেলতে পারে
অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, অতিরিক্ত
কড়াকড়ি ডায়েট কিংবা আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত
হতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়াতেও তার
প্রভাব পড়তে পারে।
তবে চুল পড়া শুরু হলেই নিজের
ইচ্ছায় ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু হলে বিষয়টি
শুধু বয়সের কারণে হচ্ছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন, পারিবারিক ইতিহাস, সাম্প্রতিক
মানসিক চাপ, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া দরকার। সমস্যা ক্রমে বাড়তে থাকলে চর্মরোগ
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুল পড়া কিংবা মাথার সামনের অংশ পাতলা হয়ে যাওয়াকে অনেকেই বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করেন। তবে বাস্তবে অল্প বয়সেও চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ২০-এর কোঠায় কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া, মাথার ওপরের অংশ পাতলা হওয়া কিংবা হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার পেছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ।
ভারতের চিকিৎসক রাশি সোনির
মতে, তরুণদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস
ও জীবনযাপনও ভূমিকা রাখতে পারে।
বংশগত টাক পড়ার প্রবণতা
তরুণ বয়সে ধীরে ধীরে কপালের দুই
পাশের চুল উঠে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশ পাতলা হয়ে আসা অনেক সময় অ্যান্ড্রোজেনেটিক
অ্যালোপেসিয়ার লক্ষণ। এটি বংশগত চুল পড়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরনগুলোর একটি।
জেনেটিক কারণে চুলের ফলিকল অ্যান্ড্রোজেন
হরমোনের একটি রূপ ডিএইচটির প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। সময়ের সঙ্গে ফলিকল ছোট হয়ে
গেলে চুলের বৃদ্ধি দুর্বল হয় এবং নতুন চুল আগের তুলনায় পাতলা ও ছোট হয়ে আসে।
শুধু মায়ের পরিবারের কাছ থেকেই
টাক পড়ার জিন আসে—এমন ধারণা ঠিক নয়। চুল পড়ার বংশগত প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে পরিবারের
উভয় দিকের ইতিহাসই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের চাপেও বাড়তে পারে চুল পড়া
পরীক্ষা বা কাজের চাপ, দীর্ঘদিনের
দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, দ্রুত ওজন কমানো কিংবা কোনো অসুস্থতার পরও অতিরিক্ত চুল ঝরতে
পারে।
এ ক্ষেত্রে টেলোজেন ইফ্লুভিয়াম
নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল একই সময়ে ঝরে পড়ার
পর্যায়ে চলে যায়। কোনো মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হওয়ায় অনেক
সময় দুটির মধ্যে সম্পর্ক বুঝতে অসুবিধা হয়।
ক্রিয়েটিন কি চুল পড়ার কারণ?
জিমে ব্যায়াম করা তরুণদের মধ্যে
ক্রিয়েটিন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে চুল পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার
কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।
কিছু গবেষণায় ক্রিয়েটিন গ্রহণের
সঙ্গে ডিএইচটির মাত্রার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ডিএইচটি বাড়লেই
যে চুল পড়বে, এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।
খাবারের ঘাটতিও প্রভাব ফেলতে পারে
অপর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, অতিরিক্ত
কড়াকড়ি ডায়েট কিংবা আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত
হতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়াতেও তার
প্রভাব পড়তে পারে।
তবে চুল পড়া শুরু হলেই নিজের
ইচ্ছায় ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে
পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু হলে বিষয়টি
শুধু বয়সের কারণে হচ্ছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চুল পড়ার ধরন, পারিবারিক ইতিহাস, সাম্প্রতিক
মানসিক চাপ, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া দরকার। সমস্যা ক্রমে বাড়তে থাকলে চর্মরোগ
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে কারণ শনাক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

আপনার মতামত লিখুন