পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, বমি ভাব কিংবা বদহজমকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব উপসর্গ কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। পিত্তথলির ক্যানসার এমনই একটি রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করায় দেরিতে শনাক্ত হয়।
পিত্তথলি কী কাজ করে
লিভারের নিচে থাকা নাশপাতির মতো ছোট অঙ্গটির নাম পিত্তথলি বা গলব্লাডার। এর
প্রধান কাজ হলো লিভারে তৈরি পিত্তরস জমা রাখা। খাবার হজমের সময়, বিশেষ করে চর্বি হজমে
এই পিত্তরস ভূমিকা রাখে।
পিত্তথলির ভেতরের আবরণ বা দেয়ালের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থেকে সাধারণত এই
ক্যানসারের শুরু হয়। পরে তা আশপাশের টিস্যু বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শুরুতে কেন বোঝা কঠিন
পিত্তথলির ক্যানসারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই উল্লেখযোগ্য
উপসর্গ থাকে না। পরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, সেগুলোর কিছু আবার পিত্তথলিতে পাথর বা হজমের
সাধারণ সমস্যার সঙ্গেও মিলে যেতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিতভাবে
ক্যানসার ধরা পড়ে।
যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে
পিত্তথলির ক্যানসারে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—
·
পেটের ওপরের ডানদিকে বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
·
কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
·
বারবার বমি ভাব বা বমি
·
ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস
·
পেটে চাকা বা অস্বাভাবিক ফোলা অনুভূত হওয়া
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে পিত্তথলির ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য অনেক
রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে
পিত্তথলির ক্যানসার যে কারও হতে পারে।
তবে কিছু বিষয় এ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত—
বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি
বাড়ে এবং নারীদের মধ্যে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
পিত্তথলিতে পাথর: দীর্ঘদিনের গলস্টোন
থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পিত্তথলির পলিপ: কিছু ধরনের পলিপ ক্যানসারের
ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ: পিত্তথলিতে দীর্ঘদিন
প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন কিছু
ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধূমপান: ধূমপানও ঝুঁকি বাড়ানোর
অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে এসব ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে পিত্তথলির ক্যানসার হবে, এমন নয়। বিশেষ করে
পিত্তথলিতে পাথর থাকা অধিকাংশ মানুষেরই শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হয় না।
কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়
রোগের সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি,
সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে বায়োপসির প্রয়োজনও
হতে পারে।
চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ করা যেতে পারে।
রোগ ছড়িয়ে পড়লে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
পিত্তনালিতে বাধা তৈরি হলে বিশেষ পদ্ধতিতে তা দূর করার ব্যবস্থাও করা হয়।
উন্নত পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ কমানো এবং জীবনযাত্রার
মান বজায় রাখতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া হতে পারে।
পিত্তথলির ক্যানসার তুলনামূলক বিরল হলেও এর উপসর্গ দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় সচেতন
থাকা জরুরি। পেটের ওপরের ডানদিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা জন্ডিসের
মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, বমি ভাব কিংবা বদহজমকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা হিসেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এসব উপসর্গ কখনো কখনো গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। পিত্তথলির ক্যানসার এমনই একটি রোগ, যা প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করায় দেরিতে শনাক্ত হয়।
পিত্তথলি কী কাজ করে
লিভারের নিচে থাকা নাশপাতির মতো ছোট অঙ্গটির নাম পিত্তথলি বা গলব্লাডার। এর
প্রধান কাজ হলো লিভারে তৈরি পিত্তরস জমা রাখা। খাবার হজমের সময়, বিশেষ করে চর্বি হজমে
এই পিত্তরস ভূমিকা রাখে।
পিত্তথলির ভেতরের আবরণ বা দেয়ালের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থেকে সাধারণত এই
ক্যানসারের শুরু হয়। পরে তা আশপাশের টিস্যু বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শুরুতে কেন বোঝা কঠিন
পিত্তথলির ক্যানসারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই উল্লেখযোগ্য
উপসর্গ থাকে না। পরে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়, সেগুলোর কিছু আবার পিত্তথলিতে পাথর বা হজমের
সাধারণ সমস্যার সঙ্গেও মিলে যেতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথরের অস্ত্রোপচারের সময় পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিতভাবে
ক্যানসার ধরা পড়ে।
যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে
পিত্তথলির ক্যানসারে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—
·
পেটের ওপরের ডানদিকে বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
·
কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
·
বারবার বমি ভাব বা বমি
·
ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া বা জন্ডিস
·
পেটে চাকা বা অস্বাভাবিক ফোলা অনুভূত হওয়া
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে পিত্তথলির ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য অনেক
রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে
পিত্তথলির ক্যানসার যে কারও হতে পারে।
তবে কিছু বিষয় এ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত—
বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি
বাড়ে এবং নারীদের মধ্যে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
পিত্তথলিতে পাথর: দীর্ঘদিনের গলস্টোন
থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
পিত্তথলির পলিপ: কিছু ধরনের পলিপ ক্যানসারের
ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ: পিত্তথলিতে দীর্ঘদিন
প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন কিছু
ক্ষেত্রে এ রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধূমপান: ধূমপানও ঝুঁকি বাড়ানোর
অন্যতম কারণ হতে পারে।
তবে এসব ঝুঁকির কারণ থাকলেই যে পিত্তথলির ক্যানসার হবে, এমন নয়। বিশেষ করে
পিত্তথলিতে পাথর থাকা অধিকাংশ মানুষেরই শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হয় না।
কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়
রোগের সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি,
সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে বায়োপসির প্রয়োজনও
হতে পারে।
চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি অপসারণ করা যেতে পারে।
রোগ ছড়িয়ে পড়লে কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা ইমিউনোথেরাপির মতো চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
পিত্তনালিতে বাধা তৈরি হলে বিশেষ পদ্ধতিতে তা দূর করার ব্যবস্থাও করা হয়।
উন্নত পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ কমানো এবং জীবনযাত্রার
মান বজায় রাখতে প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া হতে পারে।
পিত্তথলির ক্যানসার তুলনামূলক বিরল হলেও এর উপসর্গ দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় সচেতন
থাকা জরুরি। পেটের ওপরের ডানদিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা জন্ডিসের
মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

আপনার মতামত লিখুন