সংবাদ

কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে দুর্নীতি: প্লট পায়নি ১১৫ পরিবার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে দুর্নীতি: প্লট পায়নি ১১৫ পরিবার
চট্টগ্রামের কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্রকল্প এলাকা।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্লট প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে শুরুতে মাটি ভরাট না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একের পর এক দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি গত ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে। অন্যদিকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার পরও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হয়েছেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রশাসন) আজিজ হায়দার ভূঁইয়া। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৃথক তিনটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাদের ‘খুঁটির জোর’ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রমতে, ১১ বছর আগে আবাসন প্লট কিনে ১১৫ পরিবার এখনো প্লট বুঝে পায়নি। এতে ১১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটি ভরাটের টাকা আত্মসাতের কারণে পুরো প্রকল্পটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪ হাজার ২৩৭ দশমিক ২১ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদিত হয়। কিন্তু ২০২৬ সাল গড়ালেও ১৬ দশমিক ২৮ একরের এই প্রকল্পটি শেষ হয়নি। উপরন্তু তথ্য গোপন করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৫০ দশমিক ০৯ লাখ টাকার সংশোধিত আরআরডিপিপি অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থাৎ চক্রটি মাটি ভরাটের টাকা চুরির পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৪২ দশমিক ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাটি ভরাট না করেই আওয়ামী লীগ আমলের ঠিকাদারকে অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই সময় নানা আলোচনার পর দুদক থেকে তদন্ত করা হয়। দুদকের কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানী তদন্ত ও এলজিইডির সহায়তায় মাটি ভরাটের পরিমাণ নির্ণয় করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চারজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি

দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারির পত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজে নিয়োজিত তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান প্রকল্পের স্থানে মাটি ভরাট না করে ২ কোটি টাকার ভুয়া বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

দুদকের অনুসন্ধানী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলাসহ পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেন। পরে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সুপারিশে তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি এখনো চলমান।

ঘটনার প্রায় ১১ বছর পার হলেও প্রকল্পের কোনো অংশে এখনো মাটি ভরাট করা হয়নি। অথচ রহস্যজনক কারণে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে প্রকল্পের প্লট বরাদ্দপ্রাপকদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জড়িতরা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রয়যোগ্য প্রতি কাঠা জমির মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বাড়িয়েছে। প্রকল্পে মাটি ভরাট না হওয়ায় বারবার অডিট আপত্তি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলেও রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা পড়ে আছে। এর নেপথ্যে আছেন গোপালগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম এবং মিরপুর গৃহসংস্থার বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ। শাস্তির পরিবর্তে তারা প্রাইজ পোস্টিং ভাগিয়ে নিয়েছেন। আশরাফুজ্জামান পলাশ খুলনায় পদায়ন পেয়ে ‘রাজারহালে’ দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের সাইট

অভিযোগ রয়েছে, কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্প কেলেংকারির মূল কারিগর অলিউল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের কথা গোপন রেখে আরডিপিপি অনুমোদন করেন। এ কাজে কাওসারও জড়িত। দুদক মামলা দায়ের করায় অলিউল ইসলাম তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে প্রকল্প পরিচালকের স্মারক নং-২০১, তারিখ ১৮-৮-২০২৬-এ মাটি ভরাটের কাজ শুরু করার জন্য দুদকে চিঠি দেন (দুদক স্মারক নং-২৩৬২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৬)। মূলত প্রকল্প পরিচালককে পরিষ্কারভাবে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য হলো, টানা ১১ বছরেও প্রকল্পের সমাপ্তি না ঘটিয়ে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৬ দশমিক ৩০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই কাজ পুনরায় করার কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ তফসিল-২০২২ (২য় সংশোধনী) অনুযায়ী ৪৩ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৫৩ ঘনমিটার মাটিভরাট বাবদ অতিরিক্ত ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার ৬৪৯ টাকা ব্যয় হবে। 

সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে এবং সন্দেহভাজনদের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় না আনে সর্বমোট ১৯ কোটি ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৩০ টাকা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপকদেরই বহন করতে হবে।

মামলার কপি

অভিযোগ রয়েছে, সন্দেহভাজনরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদকের তদন্ত ও আইএমইডিপির বিরূপ মন্তব্যের বিষয়টি গোপন রেখে তৎকালীন উপদেষ্টার কাছে আরডিপিপি অনুমোদন করেন। ওই আরআরডিপিপিতে অতিরিক্ত বিল প্রদানকৃত অর্থ ফেরত আনার কোনো নির্দেশনা ছাড়াই চুরি করা মাটির পরিমাণ নতুন কাজে অন্তর্ভুক্ত করে একই কাজে দুইবার অর্থ খরচের পথ সুগম করা হয়েছে। একই স্থানে নতুন করে সরকারি টাকায় আবার মাটি ভরাট করে আলামত নষ্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম মুঠোফোনে বলেন, ওই প্রকল্প সম্পর্কে তার জানা ছিল না। এরপরও তিনি খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে দুর্নীতি: প্লট পায়নি ১১৫ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিসমত-জাফরাবাদ আবাসন প্লট প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে শুরুতে মাটি ভরাট না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একের পর এক দুর্নীতির কারণে প্রকল্পটি গত ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে। অন্যদিকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থাকার পরও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হয়েছেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রশাসন) আজিজ হায়দার ভূঁইয়া। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৃথক তিনটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এরপরও অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। তাদের ‘খুঁটির জোর’ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রমতে, ১১ বছর আগে আবাসন প্লট কিনে ১১৫ পরিবার এখনো প্লট বুঝে পায়নি। এতে ১১৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটি ভরাটের টাকা আত্মসাতের কারণে পুরো প্রকল্পটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪ হাজার ২৩৭ দশমিক ২১ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদিত হয়। কিন্তু ২০২৬ সাল গড়ালেও ১৬ দশমিক ২৮ একরের এই প্রকল্পটি শেষ হয়নি। উপরন্তু তথ্য গোপন করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৫০ দশমিক ০৯ লাখ টাকার সংশোধিত আরআরডিপিপি অনুমোদন করা হয়েছে। অর্থাৎ চক্রটি মাটি ভরাটের টাকা চুরির পাশাপাশি সরকারের অতিরিক্ত ১ হাজার ৪৪২ দশমিক ৮৮ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাটি ভরাট না করেই আওয়ামী লীগ আমলের ঠিকাদারকে অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই সময় নানা আলোচনার পর দুদক থেকে তদন্ত করা হয়। দুদকের কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানী তদন্ত ও এলজিইডির সহায়তায় মাটি ভরাটের পরিমাণ নির্ণয় করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চারজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নথি

দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারির পত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের মাটি ভরাট কাজে নিয়োজিত তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান প্রকল্পের স্থানে মাটি ভরাট না করে ২ কোটি টাকার ভুয়া বিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

দুদকের অনুসন্ধানী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলাসহ পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের সুপারিশ করেন। পরে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সুপারিশে তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি এখনো চলমান।

ঘটনার প্রায় ১১ বছর পার হলেও প্রকল্পের কোনো অংশে এখনো মাটি ভরাট করা হয়নি। অথচ রহস্যজনক কারণে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে প্রকল্পের প্লট বরাদ্দপ্রাপকদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জড়িতরা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রয়যোগ্য প্রতি কাঠা জমির মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বাড়িয়েছে। প্রকল্পে মাটি ভরাট না হওয়ায় বারবার অডিট আপত্তি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলেও রহস্যজনক কারণে তা ধামাচাপা পড়ে আছে। এর নেপথ্যে আছেন গোপালগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম এবং মিরপুর গৃহসংস্থার বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ। শাস্তির পরিবর্তে তারা প্রাইজ পোস্টিং ভাগিয়ে নিয়েছেন। আশরাফুজ্জামান পলাশ খুলনায় পদায়ন পেয়ে ‘রাজারহালে’ দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের সাইট

অভিযোগ রয়েছে, কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্প কেলেংকারির মূল কারিগর অলিউল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের কথা গোপন রেখে আরডিপিপি অনুমোদন করেন। এ কাজে কাওসারও জড়িত। দুদক মামলা দায়ের করায় অলিউল ইসলাম তার অপকর্ম ধামাচাপা দিতে প্রকল্প পরিচালকের স্মারক নং-২০১, তারিখ ১৮-৮-২০২৬-এ মাটি ভরাটের কাজ শুরু করার জন্য দুদকে চিঠি দেন (দুদক স্মারক নং-২৩৬২, তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৬)। মূলত প্রকল্প পরিচালককে পরিষ্কারভাবে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য হলো, টানা ১১ বছরেও প্রকল্পের সমাপ্তি না ঘটিয়ে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৬ দশমিক ৩০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই কাজ পুনরায় করার কারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ তফসিল-২০২২ (২য় সংশোধনী) অনুযায়ী ৪৩ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৫৩ ঘনমিটার মাটিভরাট বাবদ অতিরিক্ত ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার ৬৪৯ টাকা ব্যয় হবে। 

সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে এবং সন্দেহভাজনদের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় না আনে সর্বমোট ১৯ কোটি ৪২ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৩০ টাকা সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপকদেরই বহন করতে হবে।

মামলার কপি

অভিযোগ রয়েছে, সন্দেহভাজনরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুদকের তদন্ত ও আইএমইডিপির বিরূপ মন্তব্যের বিষয়টি গোপন রেখে তৎকালীন উপদেষ্টার কাছে আরডিপিপি অনুমোদন করেন। ওই আরআরডিপিপিতে অতিরিক্ত বিল প্রদানকৃত অর্থ ফেরত আনার কোনো নির্দেশনা ছাড়াই চুরি করা মাটির পরিমাণ নতুন কাজে অন্তর্ভুক্ত করে একই কাজে দুইবার অর্থ খরচের পথ সুগম করা হয়েছে। একই স্থানে নতুন করে সরকারি টাকায় আবার মাটি ভরাট করে আলামত নষ্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম মুঠোফোনে বলেন, ওই প্রকল্প সম্পর্কে তার জানা ছিল না। এরপরও তিনি খোঁজখবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত