সংবাদ

মেলার ইজারার টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে


প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর)
প্রতিনিধি, মিঠাপুকুর (রংপুর)
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ পিএম

মেলার ইজারার টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
গৌড় সাহা বারুণী মেলা। ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী মেলার ইজারার ৫০ হাজার টাকা দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গৌড় সাহা বারুণী মেলা’ প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। মেলার আগে ইউএনও কার্যালয় থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দরদাতা হিসেবে ইজারা পান মিলনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকমল হোসেন। ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মেলা চলায় ইজারার পুরো টাকা ইউএনও কার্যালয়ের মাধ্যমে আদায় করা হয়। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।

‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী, কোনো বিশেষ উৎসবের ইজারালব্ধ অর্থ ইজারা প্রদানের সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি চালানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতে ও উপজেলা রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউএনও অফিসের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে দিয়ে ওই টাকা কালেকশন করা হলেও তা নির্ধারিত সময়ে জমা না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

মেলার ইজারার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া সব কাগজপত্র তাদের কাছে আছে এবং টাকাটি অফিসে জমা আছে। তবে অর্থবছর পার হয়ে গেলেও কেন জমা হয়নি–এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, ইজারার টাকা জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই এবং তারা যেকোনো সময় এটি জমা দিতে পারেন।

অন্যদিকে, ইউএনও মো. পারভেজ বলেন, 'মেলার টাকা উপজেলা রাজস্ব তহবিলে জমা হয়। টাকা জমা হতে ধরাবাঁধা সময় নেই। এই মেলার টাকা জমা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব।'

মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানান, ২০১৫ সালে চৌধুরী গোপালপুর মেলার অর্থ এসিল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে সরকারি খাতে জমা দেওয়া হলেও এ বছর জেলা প্রশাসকের অনুমতি না মেলায় তাদের অফিস থেকে মেলার কোনো আয়োজন করা হয়নি। ইউএনও অফিস কীভাবে এ মেলা পরিচালনা করেছে এবং ইজারার টাকা আদায় করেছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

ঘটনাটিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেনজু। তিনি বলেন, ইজারার টাকা হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই; ব্যাংকের মাধ্যমে বা সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস টাকা আটকে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের খেয়ানত।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ইউএনওর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেলার ইজারার টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একটি ঐতিহ্যবাহী মেলার ইজারার ৫০ হাজার টাকা দীর্ঘ পাঁচ মাসেও সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘গৌড় সাহা বারুণী মেলা’ প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। মেলার আগে ইউএনও কার্যালয় থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দরদাতা হিসেবে ইজারা পান মিলনপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকমল হোসেন। ১৪ ও ১৫ এপ্রিল মেলা চলায় ইজারার পুরো টাকা ইউএনও কার্যালয়ের মাধ্যমে আদায় করা হয়। তবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।

‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী, কোনো বিশেষ উৎসবের ইজারালব্ধ অর্থ ইজারা প্রদানের সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি চালানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতে ও উপজেলা রাজস্ব তহবিলে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইউএনও অফিসের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে দিয়ে ওই টাকা কালেকশন করা হলেও তা নির্ধারিত সময়ে জমা না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

মেলার ইজারার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া সব কাগজপত্র তাদের কাছে আছে এবং টাকাটি অফিসে জমা আছে। তবে অর্থবছর পার হয়ে গেলেও কেন জমা হয়নি–এমন প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, ইজারার টাকা জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই এবং তারা যেকোনো সময় এটি জমা দিতে পারেন।

অন্যদিকে, ইউএনও মো. পারভেজ বলেন, 'মেলার টাকা উপজেলা রাজস্ব তহবিলে জমা হয়। টাকা জমা হতে ধরাবাঁধা সময় নেই। এই মেলার টাকা জমা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব।'

মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান জানান, ২০১৫ সালে চৌধুরী গোপালপুর মেলার অর্থ এসিল্যান্ড অফিসের মাধ্যমে সরকারি খাতে জমা দেওয়া হলেও এ বছর জেলা প্রশাসকের অনুমতি না মেলায় তাদের অফিস থেকে মেলার কোনো আয়োজন করা হয়নি। ইউএনও অফিস কীভাবে এ মেলা পরিচালনা করেছে এবং ইজারার টাকা আদায় করেছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।

ঘটনাটিকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুল আনাম বেনজু। তিনি বলেন, ইজারার টাকা হাতে নেওয়ার সুযোগ নেই; ব্যাংকের মাধ্যমে বা সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস টাকা আটকে রাখা চরম দায়িত্বহীনতা ও রাষ্ট্রীয় তহবিলের খেয়ানত।

এ ব্যাপারে রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ইউএনওর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত