ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র বিদ্যুৎ-সংকটে টাঙ্গাইলের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এর ওপর বিদ্যুতের এমন সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পেছনে খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলার অটোরিকশা ও ইজিবাইক চার্জ দিতেই প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে–যা দুটি উপজেলার মোট চাহিদার কাছাকাছি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীন টাঙ্গাইল সদরের তিনটি ফিডারে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি (৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট) বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির মাঝেই কেবল পিডিবির আওতাধীন এলাকায় দৈনিক ৩৩ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিপুল বিস্তৃত এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে চাহিদার মাত্র অর্ধেক (৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ)। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রতিদিন ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে চলাচলকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিশেষ করে রাত আটটার পর বিদ্যুতের পিক আওয়ারে জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে শত শত যানবাহন একসঙ্গে চার্জে বসানো হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অটোরিকশা এখন হাজারো মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে গ্যারেজে ১০০ থেকে ১২০ টাকা লাগে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাতে চার্জ দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে, আর বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এলাকার কারখানাগুলো। টাঙ্গাইল পৌরসভার শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, 'গরমে রাতে ঘুমানো যায় না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।'
টাঙ্গাইল পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার বলেন, 'গ্রাহকদের যেখানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানে হাজার হাজার ইজিবাইক চার্জে প্রচুর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। তবে পৌরসভা ও বিআরটিএ সক্রিয় না হলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অবৈধ চার্জিং গ্যারেজের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং পিক আওয়ারে চার্জিং বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘন ঘন লোডশেডিং ও তীব্র বিদ্যুৎ-সংকটে টাঙ্গাইলের জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষ। এর ওপর বিদ্যুতের এমন সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পেছনে খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলার অটোরিকশা ও ইজিবাইক চার্জ দিতেই প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে–যা দুটি উপজেলার মোট চাহিদার কাছাকাছি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীন টাঙ্গাইল সদরের তিনটি ফিডারে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি (৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট) বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ঘাটতির মাঝেই কেবল পিডিবির আওতাধীন এলাকায় দৈনিক ৩৩ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিপুল বিস্তৃত এলাকায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ২১০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে মিলছে চাহিদার মাত্র অর্ধেক (৪৭ থেকে ৫০ শতাংশ)। ফলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রতিদিন ৮৫ থেকে ৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে চলাচলকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিশেষ করে রাত আটটার পর বিদ্যুতের পিক আওয়ারে জেলার বিভিন্ন গ্যারেজে শত শত যানবাহন একসঙ্গে চার্জে বসানো হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অটোরিকশাচালক ও গ্যারেজ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অটোরিকশা এখন হাজারো মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। প্রতিটি গাড়ি চার্জ দিতে গ্যারেজে ১০০ থেকে ১২০ টাকা লাগে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই রাতে চার্জ দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে, আর বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এলাকার কারখানাগুলো। টাঙ্গাইল পৌরসভার শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, 'গরমে রাতে ঘুমানো যায় না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।'
টাঙ্গাইল পিডিবির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর তালুকদার বলেন, 'গ্রাহকদের যেখানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেওয়া যাচ্ছে না, সেখানে হাজার হাজার ইজিবাইক চার্জে প্রচুর বিদ্যুৎ যাচ্ছে। তবে পৌরসভা ও বিআরটিএ সক্রিয় না হলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অবৈধ চার্জিং গ্যারেজের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে ব্যাটারিচালিত যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা, অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং পিক আওয়ারে চার্জিং বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন