রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি এসি বাসে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন একজন। কয়েকদিন আগেও যে ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা, সেখানে নিচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
চিত্রটি দেখা গেছে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। এর আগে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
শীর্ষ সারির একটি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই যাত্রী প্রতিবেদনকে জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েকটি বাসের কাউন্টার ঘুরেছেন। কিন্তু এসি বাসের সব কটিই ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিতে দেখেছেন। আসন ও সময় পছন্দ হওয়ায় তিনি ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছেন।
সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে দেখা গেছে একই চিত্র। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দূরপাল্লার সব বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ১০০ টাকা। আবার কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সায়েদাবাদে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সহকারী মো. সোহান বলেন, সব যাত্রী বাড়তি ২০০ টাকা দিচ্ছেন না। কোনো কোচে যাত্রীর সংকট হলে ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে হয়।
সোহান জানান, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসে তারা কক্সবাজারের ভাড়া রাখছেন স্লিপার কোচে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা।
এসি সেবা দেওয়া কক্সবাজারের আরেকটি বাস সেন্টমার্টিন লেক্সাস এক্সপ্রেসে ভাড়া রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সোহেল জানান, আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই পরিবহনে চট্টগ্রামের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। আগে নেওয়া হতো ৮০০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি টিকিটে অন্তত ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সকালে টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের টিকেট কেনেন এক নারী। তিনি নন-এসি বাসের দুটি টিকিট কেটেছিলেন ১ হাজার ১০০ টাকায়। আগে প্রতি টিকিট রাখা হতো ৫০০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে এসি বাসগুলোও ১০০ টাকা বেশি দরে টিকিট বিক্রি করছে। ফাল্গুনী এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে খুলনার এসি বাসের ভাড়া রাখা হচ্ছে এক হাজার টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ৯০০ টাকা। হানিফ পরিবহন খুলনায় নন-এসি বাসে ৭৪০ টাকায় টিকিট বিক্রি করছিল। আগে প্রতি টিকিটে দাম রাখত ৬৯০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার বাসে টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা বাড়তি রাখা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। দূরপাল্লা, রাজধানীসহ শহরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির কথা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়ার হার শুধু ডিজেল-চালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী অন্য যানবাহনের ভাড়াও সরকার ঠিক করে দেয় না। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস নামের একটি এসি বাসে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য টিকিট কেটেছিলেন একজন। কয়েকদিন আগেও যে ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা, সেখানে নিচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
চিত্রটি দেখা গেছে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে। এর আগে বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
শীর্ষ সারির একটি জাতীয় দৈনিকে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই যাত্রী প্রতিবেদনকে জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েকটি বাসের কাউন্টার ঘুরেছেন। কিন্তু এসি বাসের সব কটিই ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নিতে দেখেছেন। আসন ও সময় পছন্দ হওয়ায় তিনি ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছেন।
সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে দেখা গেছে একই চিত্র। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর দূরপাল্লার সব বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ১০০ টাকা। আবার কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সায়েদাবাদে ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সহকারী মো. সোহান বলেন, সব যাত্রী বাড়তি ২০০ টাকা দিচ্ছেন না। কোনো কোচে যাত্রীর সংকট হলে ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে হয়।
সোহান জানান, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসে তারা কক্সবাজারের ভাড়া রাখছেন স্লিপার কোচে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা।
এসি সেবা দেওয়া কক্সবাজারের আরেকটি বাস সেন্টমার্টিন লেক্সাস এক্সপ্রেসে ভাড়া রাখা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সোহেল জানান, আগে এই ভাড়া ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই পরিবহনে চট্টগ্রামের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। আগে নেওয়া হতো ৮০০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি টিকিটে অন্তত ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সকালে টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের টিকেট কেনেন এক নারী। তিনি নন-এসি বাসের দুটি টিকিট কেটেছিলেন ১ হাজার ১০০ টাকায়। আগে প্রতি টিকিট রাখা হতো ৫০০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে এসি বাসগুলোও ১০০ টাকা বেশি দরে টিকিট বিক্রি করছে। ফাল্গুনী এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে খুলনার এসি বাসের ভাড়া রাখা হচ্ছে এক হাজার টাকা। আগে এই ভাড়া ছিল ৯০০ টাকা। হানিফ পরিবহন খুলনায় নন-এসি বাসে ৭৪০ টাকায় টিকিট বিক্রি করছিল। আগে প্রতি টিকিটে দাম রাখত ৬৯০ টাকা।
ফুলবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলার বাসে টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা বাড়তি রাখা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। দূরপাল্লা, রাজধানীসহ শহরের বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির কথা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়ার হার শুধু ডিজেল-চালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সরকার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে না। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী অন্য যানবাহনের ভাড়াও সরকার ঠিক করে দেয় না। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন ও এসি বাসের ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

আপনার মতামত লিখুন