সংবাদ

মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে


আবু সালেহ, ঠাকুরগাঁও
আবু সালেহ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে
ছবি : সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবেশন করা দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম এই ঘটনা ঘটে। পরে পাশের আরও দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একইভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, বিকেল পর্যন্ত ভর্তি হওয়া ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই বমি করছে ও পেটের ব্যথায় ভুগছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

অসুস্থ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, ‘দুধ খাওয়ার পরই সবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। প্যাকেটজাত দুধ তিতা ও নষ্ট ছিল। আমরা শিক্ষক ও ম্যাডামকে বললেও তারা আমাদের খেয়ে নিতে বলেন।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, দুধের গুণগত মান যাচাই না করেই শিশুদের তা পান করতে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই আজ কোমলমতি শিশুরা হাসপাতালে কষ্ট পাচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থীর বড় ধরনের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি সংবাদকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। দুধ প্যাকেটজাত থাকায় দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকেরা বিষয়টি আগেই টের পাননি।’

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, শিশুরা আপাতত আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। কেন এবং কোন খাবারে এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবার ও দুধের প্যাকেট জব্দ করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে অসুস্থতার আসল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ (আরডি ইউএইচটি মিল্ক) দুধ সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আবু রিয়াল বলেন, ‘গতকালই দুধগুলো পৌঁছানো হয়েছিল। অন্য কোনো স্কুলে সমস্যা না হলেও এই তিনটি স্কুলে কেন এমন হলো, তা বুঝতে পারছি না।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে তিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পেটে ব্যথা, বমি ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবেশন করা দুধের স্বাদ তিতা ছিল এবং তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম এই ঘটনা ঘটে। পরে পাশের আরও দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একইভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, বিকেল পর্যন্ত ভর্তি হওয়া ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই বমি করছে ও পেটের ব্যথায় ভুগছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

অসুস্থ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, ‘দুধ খাওয়ার পরই সবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। প্যাকেটজাত দুধ তিতা ও নষ্ট ছিল। আমরা শিক্ষক ও ম্যাডামকে বললেও তারা আমাদের খেয়ে নিতে বলেন।’

অভিভাবকদের অভিযোগ, দুধের গুণগত মান যাচাই না করেই শিশুদের তা পান করতে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই আজ কোমলমতি শিশুরা হাসপাতালে কষ্ট পাচ্ছে। কোনো শিক্ষার্থীর বড় ধরনের ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি সংবাদকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। দুধ প্যাকেটজাত থাকায় দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষকেরা বিষয়টি আগেই টের পাননি।’

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের দেখতে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, শিশুরা আপাতত আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। কেন এবং কোন খাবারে এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবার ও দুধের প্যাকেট জব্দ করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে অসুস্থতার আসল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ (আরডি ইউএইচটি মিল্ক) দুধ সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আবু রিয়াল বলেন, ‘গতকালই দুধগুলো পৌঁছানো হয়েছিল। অন্য কোনো স্কুলে সমস্যা না হলেও এই তিনটি স্কুলে কেন এমন হলো, তা বুঝতে পারছি না।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত