সংবাদ

টাঙ্গাইলে সেতুর ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ


রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

টাঙ্গাইলে সেতুর ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ
ছবি : সংবাদ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাতে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতে দেখে কাজে বাধা দেন। সে সময় কাজটি বন্ধ করা হলেও পরে রাতেই পুনরায় ওই বাঁশ দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আজ সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই সেতুটি নির্মাণে নানা অনিয়ম করা হচ্ছিল। সর্বশেষ রাতের আঁধারে রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। তারা নিম্নমানের এই কাজ ভেঙে ফেলে নতুন করে রড দিয়ে স্ল্যাব তৈরির এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রেলিংয়ের পাশে ফুটপাতের চার ইঞ্চি স্ল্যাবের নিচে একটি শাটারিং করতে হয়, যা পরে সরানো যায় না। কাঠ বা বাঁশ দিয়ে শাটারিংটি করে তার ওপর রড ও পলিথিন বিছিয়ে ঢালাই করা হয়। স্থানীয় লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে রডের বদলে বাঁশ বলায় ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’

তবে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়েই রাতে কাজ করেছে। নির্দিষ্ট জায়গায় স্ল্যাব ঢালাই করে তা বসানোর নিয়ম থাকলেও তারা সরাসরি কাঠ ও বাঁশ দিয়ে শাটারিং করে সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে ঢালাই দিয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।’

তিনি জানান, নিম্নমানের এই কাজ ভেঙে আবার নতুন করে করানো হবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টাঙ্গাইলে সেতুর ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত রোববার রাতে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতে দেখে কাজে বাধা দেন। সে সময় কাজটি বন্ধ করা হলেও পরে রাতেই পুনরায় ওই বাঁশ দিয়ে ঢালাই সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আজ সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের একটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই সেতুটি নির্মাণে নানা অনিয়ম করা হচ্ছিল। সর্বশেষ রাতের আঁধারে রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। তারা নিম্নমানের এই কাজ ভেঙে ফেলে নতুন করে রড দিয়ে স্ল্যাব তৈরির এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রেলিংয়ের পাশে ফুটপাতের চার ইঞ্চি স্ল্যাবের নিচে একটি শাটারিং করতে হয়, যা পরে সরানো যায় না। কাঠ বা বাঁশ দিয়ে শাটারিংটি করে তার ওপর রড ও পলিথিন বিছিয়ে ঢালাই করা হয়। স্থানীয় লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে রডের বদলে বাঁশ বলায় ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।’

তবে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান সংবাদকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়েই রাতে কাজ করেছে। নির্দিষ্ট জায়গায় স্ল্যাব ঢালাই করে তা বসানোর নিয়ম থাকলেও তারা সরাসরি কাঠ ও বাঁশ দিয়ে শাটারিং করে সামান্য কিছু রড ব্যবহার করে ঢালাই দিয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।’

তিনি জানান, নিম্নমানের এই কাজ ভেঙে আবার নতুন করে করানো হবে এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত