ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া ভায়া ধুরধুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিন কিলোমিটার সংস্কারকাজের মধ্যে মাত্র এক কিলোমিটার শেষ করে বাকি অংশ ঠিকাদার ফেলে রাখায় এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কটি বেশ কয়েক বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির তিন কিলোমিটার অংশ পুনর্নির্মাণের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই কোটি সাত লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ‘মেসার্স সাইফুল ইসলাম’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার গত মে মাস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারের কাজ শেষ করে হঠাৎ করেই বাকি অংশ ফেলে রেখে চলে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে খোয়া ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে থাকায় প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বড় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় মালামাল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের এই অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে অনেক শিক্ষার্থী যানবাহনে না চড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যাতায়াত করছে। ছলিমপুরের এক শিক্ষক জানান, শিক্ষকরাও এই পথ দিয়ে স্কুলে আসার সময় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন টিউশনি করতে গিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অটোরিকশায় চলাচলের সময় কোথায় গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় তাড়া করে।’
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মুস্তফা বলেন, ‘আমাদের এমপি সাহেব নিজেই কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। অথচ এত দিনেও রাস্তা হলো না। শুনেছি ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছে। প্রতিদিন কত গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টায়, তার ইয়ত্তা নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক কিলোমিটার কাজ শেষ করে বিলের আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো এক টাকাও দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া বাজারে বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ আটকে আছে। বর্ষা কমলে দ্রুতই বাকি কাজ শেষ করে দেব।’
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় বিটুমিনের কাজ করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া ভায়া ধুরধুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিন কিলোমিটার সংস্কারকাজের মধ্যে মাত্র এক কিলোমিটার শেষ করে বাকি অংশ ঠিকাদার ফেলে রাখায় এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত সড়কটি বেশ কয়েক বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির তিন কিলোমিটার অংশ পুনর্নির্মাণের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই কোটি সাত লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ‘মেসার্স সাইফুল ইসলাম’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার গত মে মাস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটারের কাজ শেষ করে হঠাৎ করেই বাকি অংশ ফেলে রেখে চলে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে খোয়া ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে থাকায় প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। বড় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ থাকায় মালামাল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়কের এই অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে অনেক শিক্ষার্থী যানবাহনে না চড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যাতায়াত করছে। ছলিমপুরের এক শিক্ষক জানান, শিক্ষকরাও এই পথ দিয়ে স্কুলে আসার সময় প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিন টিউশনি করতে গিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অটোরিকশায় চলাচলের সময় কোথায় গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় তাড়া করে।’
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মুস্তফা বলেন, ‘আমাদের এমপি সাহেব নিজেই কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। অথচ এত দিনেও রাস্তা হলো না। শুনেছি ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছে। প্রতিদিন কত গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টায়, তার ইয়ত্তা নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক কিলোমিটার কাজ শেষ করে বিলের আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো এক টাকাও দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া বাজারে বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ আটকে আছে। বর্ষা কমলে দ্রুতই বাকি কাজ শেষ করে দেব।’
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় বিটুমিনের কাজ করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।

আপনার মতামত লিখুন