জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ এখন পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে ক্ষতবশত বাংলাদেশ মেরামতে তার সরকার ‘রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ (3R) কৌশল অনুসরণ করছে।
সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যয় জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, দলমত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যেন প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারে পৌঁছায়।
দেশের অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে তিনি জানান, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টিকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালু করার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।
শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে কারিকুলামে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্রমের অংশ হিসেবে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে তিনি জানান, গত জুনে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
প্রযুক্তির সমবণ্টনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) যেন নতুন কোনো বৈষম্য তৈরি না করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ন্যায়বিচার মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘে এক পরিবারের বিরল ইতিহাস নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি এক বিরল রেকর্ড, যেখানে একই পরিবারের তিন সদস্য - বাবা, মা ও ছেলে - রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। গুম, খুন, অপহরণ, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে দেশ এখন পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে ক্ষতবশত বাংলাদেশ মেরামতে তার সরকার ‘রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ (3R) কৌশল অনুসরণ করছে।
সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যয় জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, দলমত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যেন প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবারে পৌঁছায়।
দেশের অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে তিনি জানান, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়টিকে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের নগদ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালু করার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে।
শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে কারিকুলামে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্রমের অংশ হিসেবে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে তিনি জানান, গত জুনে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
প্রযুক্তির সমবণ্টনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) যেন নতুন কোনো বৈষম্য তৈরি না করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ন্যায়বিচার মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘে এক পরিবারের বিরল ইতিহাস নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি এক বিরল রেকর্ড, যেখানে একই পরিবারের তিন সদস্য - বাবা, মা ও ছেলে - রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন