ভাই না ভালা, কী শুরু করলেন সাত সক্কাল বেলা! এইভাবে যদি সবাই পয়জন খায়া মইরা যায়, তায়লে এই দেশ স্বাধীন কোইরে লাভ কী হোইলে? এই দেশে থাকপে কারা, সাঁপ ব্যাঙ, সেলিনা হোসেন?
তুই বাঙাল এর মধ্যে পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেনের নাম আবার পেলি কোথায়?
না কোই পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেন লিখছিলেন, “পোকা-মাকড়ের ঘর বসতি” তাই সংক্ষেপে কোইলাম এইভাবে যদি সবাই পয়জন খায়া মইরা যায়, তায়লে এই দেশে থাকপে কারা, সাঁপ ব্যাঙ, সেলিনা হোসেন, মানে পুকা মাকড়?
ওরে উড়ঝুড়ে বাঙাল আমিতো তোকে বলিনি যে দেশে সাঁপ ব্যাঙ, পোকা মাকড়রা বসবাস করছে...
ঠিক আছে আপনে কন নাই যে দেশে সাঁপ ব্যাঙ, পোকা মাকড় বসবাস করছে কিন্তু আপনে কোইছেন বর্তমান দেশের যা অবস্থা তাতে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই...সব যদি বিষ খায়া মইরা যায়, তখন দেশে থাকপে কারা সাঁপ ব্যাঙ আর পুরষ্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেন মানে পোকা মাকড়...
নারে ভাই তুই আমার কথার মানেই বুঝবার চেষ্টা করিস নাই, আমি বলেছি “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই, আর তুই ভাবছিস আমি বলেছি, বিষ দে, বিষ খাই, বিষের নিচে খাওন নাই! আমিতো কখোনাই বলি নাই যে, তুই বিষ মানে পয়জন খা। আমার বিশ মানে বিশ বিশ, মানে, আঠারো, উনিশ-বিশ, সেই বিশ, মানে সংখ্যার বিশ, অনেকে বলে কুড়ি...
হ হ, হুনছি হুনছি, বাপ দাদাগো আমলে পাবলিকে কোইতো, কুড়িতে বুড়ি, মাইনে যেই মাইয়া কুড়ি বছরেও কুমারী হ্যেরে বিয়া করলে ডাব পাইবানা, পাইবা ঝুনা নারিকেল!
তোর যত উড়ঝুড়ে কথা। আমি বলছি, আজকাল বাংলাদেশে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে, কেউ আর অল্পস্বল্প ঘুষ খায় না, ঘুষ খেলেও মিনিমাম, বিশ হাজারের নিচে ঘুষ খায় না! তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেউ ঘুষ খায় না, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ চলে না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরির বিধি মালার মধ্যে ঘুষ খাওয়া অ্যালও না। তাই বেচারি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর মাঝে মানে ঘুষ কেলেংকারীতে জড়ায় না।
ওম্মারে মা, এটা আপনে কী বলচেন যে, সরকারি অফিসাররা নজীরবিহীন, মানে বেনজীর ঘুষ খেলো হাজার কোটি টাকা, তার পাসপোর্ট পনেরোটা, স্থাবর সম্পত্তির হিসাব নিতে ষোল জন দুদকের বাঘা বাঘা মোমেনুল মোমেন লাগছে হিসাব নিতে, আর আপনে মিয়া বলচেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরির বিধিমালার মধ্যে ঘুষ খাওয়া অ্যালও না!
আরে সেতো তুই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের কতা বলছিস, সেদিন শেষ। এখন জেন-জি’র যুগ। বর্তমানে যেসব প্রতিনিধিরা জাতিস্বংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে সব নতুন প্রজন্মের সন্তান,“জেন-জি” এঁদের মাঝে তুই কিছুতেই বলতে পারবি না যে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই...”
তাহলে আপনি বলচেন যে, এই বিশ বিষ নয়/ আসলে তো সংখ্যা সে/ বিশের নিচে ঘুষ খেলে/ বাংলার পাবলিকের/ সন্মান যায় রে...”
বাহ্ বাঙাল দেখি আবার স্বভাব কবি ডি.এল.রায়ের মতো পাঁচ লাইনের লিমেরিক লিখে ফেললি!
গুরু লিমেরিক কী?
আরে লিমেরিক হলো আয়ারল্যান্ডের একটা জায়গার নাম। এই জায়গার অধিবাসীরা পাঁচ লাইনের হাস্যরসাত্মক ছড়া বলতো। যেটা পরে ইংরেজি সাহিত্যে প্রবেশ করে, আর “ননসেন্স রাইম” নামে খ্যাতি পায়।
হেঁ হেঁ কি যে কন, দোয়েল শালিকের দেশে ব্যেবাগ বাঙালিই ননসেন্স কবি, আপনে হুনচেন না, স্বর্গীয় হোমো স্যারও পাবলিকরে দিয়া কবিতা ল্যেইখ্যা নিজের নামে চালাইতো! কবিতা আমাগো রক্তে আছে। যার জন্য আমাগো সিনেমার নায়িকা ববিতা, মৌমিতা, কবিতা, সবাইরে নিয়া কতো কবি কবিতা লিখছে, তার শেষ নাই।
তুই তোর নায়িকা ববিতা, মৌমিতা, কবিতা, নিয়ে থাক, কিন্তু আমার কথা হচ্ছে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই” তোর এই যে কর্মচারীরা সকলে মিলে হাজার কোটি টাকার ঘুষ খাচ্ছে এটা বন্ধ কোরবি কীভাবে?
হায়রে কপাল মন্দ/ চোখ থাকিতে অন্ধ/ নিশিদিন জ্বইল্লা পুইড়া/ ঘুষ টুষ খাওন/ শেষ তো হোইবো রে...”
তোর মুখে ফুল চন্দন। এবার বাংলাদেশে ঘুষ খাওয়া বন্ধ হবে! বলিস কী?
ক্যান আপনে শুনেন নাই। সব ঘুষখোর চান্দাবাজ গো, লিস্টি বানাইবার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি হোইছে, অলরেডি বিশ লক্ষ নাম লিষ্ট করা হোইছে...
বিশলক্ষ, ঘুষখোর চাঁদাবাজ, এতো দেখছি, ঠগ বাছতে গাঁ’উজাড়! এ্যতো লোক রাখার জেল পাবি কোথায়? পৃথিবীর যে সব দেশে জেল বন্ধ হোচ্ছে সে গুলো কি ভাড়া নিবি?
আরে হালায়, আপনে আছেন আপনের তালে, এইটা মিয়া আপনেরে বুঝতে হোইবো, লিস্ট করা মানে অ্যারেস্ট করা না...
ও রে বাব্ববা, যাক ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। আমি তো ভেবেছিলাম লিস্টে যাদের নাম থাকবে তাদের ধরে ধরে জেলে পুরবে!
আরে না, আগে লিস্ট হোউক পরে ডিসিশন লোইবো কী করবো না করবো...
থাক তাহলে আর চিন্তা নেই, লিস্টে নাম থাকলেও অ্যারেস্টতো আর হবো না!
জয়য়য়...থাক বাবা ব্যান্ড সঙ্গীত না গাইলেও চলবে...
সেইটাই ভালা বর্তমানে ব্যান্ড সঙ্গীত, ব্যান্ড...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভাই না ভালা, কী শুরু করলেন সাত সক্কাল বেলা! এইভাবে যদি সবাই পয়জন খায়া মইরা যায়, তায়লে এই দেশ স্বাধীন কোইরে লাভ কী হোইলে? এই দেশে থাকপে কারা, সাঁপ ব্যাঙ, সেলিনা হোসেন?
তুই বাঙাল এর মধ্যে পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেনের নাম আবার পেলি কোথায়?
না কোই পুরষ্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেন লিখছিলেন, “পোকা-মাকড়ের ঘর বসতি” তাই সংক্ষেপে কোইলাম এইভাবে যদি সবাই পয়জন খায়া মইরা যায়, তায়লে এই দেশে থাকপে কারা, সাঁপ ব্যাঙ, সেলিনা হোসেন, মানে পুকা মাকড়?
ওরে উড়ঝুড়ে বাঙাল আমিতো তোকে বলিনি যে দেশে সাঁপ ব্যাঙ, পোকা মাকড়রা বসবাস করছে...
ঠিক আছে আপনে কন নাই যে দেশে সাঁপ ব্যাঙ, পোকা মাকড় বসবাস করছে কিন্তু আপনে কোইছেন বর্তমান দেশের যা অবস্থা তাতে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই...সব যদি বিষ খায়া মইরা যায়, তখন দেশে থাকপে কারা সাঁপ ব্যাঙ আর পুরষ্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রদ্ধেয় সেলিনা হোসেন মানে পোকা মাকড়...
নারে ভাই তুই আমার কথার মানেই বুঝবার চেষ্টা করিস নাই, আমি বলেছি “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই, আর তুই ভাবছিস আমি বলেছি, বিষ দে, বিষ খাই, বিষের নিচে খাওন নাই! আমিতো কখোনাই বলি নাই যে, তুই বিষ মানে পয়জন খা। আমার বিশ মানে বিশ বিশ, মানে, আঠারো, উনিশ-বিশ, সেই বিশ, মানে সংখ্যার বিশ, অনেকে বলে কুড়ি...
হ হ, হুনছি হুনছি, বাপ দাদাগো আমলে পাবলিকে কোইতো, কুড়িতে বুড়ি, মাইনে যেই মাইয়া কুড়ি বছরেও কুমারী হ্যেরে বিয়া করলে ডাব পাইবানা, পাইবা ঝুনা নারিকেল!
তোর যত উড়ঝুড়ে কথা। আমি বলছি, আজকাল বাংলাদেশে যেকোনো প্রতিষ্ঠানে, কেউ আর অল্পস্বল্প ঘুষ খায় না, ঘুষ খেলেও মিনিমাম, বিশ হাজারের নিচে ঘুষ খায় না! তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেউ ঘুষ খায় না, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘুষ চলে না। এটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরির বিধি মালার মধ্যে ঘুষ খাওয়া অ্যালও না। তাই বেচারি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এর মাঝে মানে ঘুষ কেলেংকারীতে জড়ায় না।
ওম্মারে মা, এটা আপনে কী বলচেন যে, সরকারি অফিসাররা নজীরবিহীন, মানে বেনজীর ঘুষ খেলো হাজার কোটি টাকা, তার পাসপোর্ট পনেরোটা, স্থাবর সম্পত্তির হিসাব নিতে ষোল জন দুদকের বাঘা বাঘা মোমেনুল মোমেন লাগছে হিসাব নিতে, আর আপনে মিয়া বলচেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরির বিধিমালার মধ্যে ঘুষ খাওয়া অ্যালও না!
আরে সেতো তুই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের কতা বলছিস, সেদিন শেষ। এখন জেন-জি’র যুগ। বর্তমানে যেসব প্রতিনিধিরা জাতিস্বংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে সব নতুন প্রজন্মের সন্তান,“জেন-জি” এঁদের মাঝে তুই কিছুতেই বলতে পারবি না যে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই...”
তাহলে আপনি বলচেন যে, এই বিশ বিষ নয়/ আসলে তো সংখ্যা সে/ বিশের নিচে ঘুষ খেলে/ বাংলার পাবলিকের/ সন্মান যায় রে...”
বাহ্ বাঙাল দেখি আবার স্বভাব কবি ডি.এল.রায়ের মতো পাঁচ লাইনের লিমেরিক লিখে ফেললি!
গুরু লিমেরিক কী?
আরে লিমেরিক হলো আয়ারল্যান্ডের একটা জায়গার নাম। এই জায়গার অধিবাসীরা পাঁচ লাইনের হাস্যরসাত্মক ছড়া বলতো। যেটা পরে ইংরেজি সাহিত্যে প্রবেশ করে, আর “ননসেন্স রাইম” নামে খ্যাতি পায়।
হেঁ হেঁ কি যে কন, দোয়েল শালিকের দেশে ব্যেবাগ বাঙালিই ননসেন্স কবি, আপনে হুনচেন না, স্বর্গীয় হোমো স্যারও পাবলিকরে দিয়া কবিতা ল্যেইখ্যা নিজের নামে চালাইতো! কবিতা আমাগো রক্তে আছে। যার জন্য আমাগো সিনেমার নায়িকা ববিতা, মৌমিতা, কবিতা, সবাইরে নিয়া কতো কবি কবিতা লিখছে, তার শেষ নাই।
তুই তোর নায়িকা ববিতা, মৌমিতা, কবিতা, নিয়ে থাক, কিন্তু আমার কথা হচ্ছে “বিশ দে, বিশ খাই, বিশের নিচে খাওয়া নাই” তোর এই যে কর্মচারীরা সকলে মিলে হাজার কোটি টাকার ঘুষ খাচ্ছে এটা বন্ধ কোরবি কীভাবে?
হায়রে কপাল মন্দ/ চোখ থাকিতে অন্ধ/ নিশিদিন জ্বইল্লা পুইড়া/ ঘুষ টুষ খাওন/ শেষ তো হোইবো রে...”
তোর মুখে ফুল চন্দন। এবার বাংলাদেশে ঘুষ খাওয়া বন্ধ হবে! বলিস কী?
ক্যান আপনে শুনেন নাই। সব ঘুষখোর চান্দাবাজ গো, লিস্টি বানাইবার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি হোইছে, অলরেডি বিশ লক্ষ নাম লিষ্ট করা হোইছে...
বিশলক্ষ, ঘুষখোর চাঁদাবাজ, এতো দেখছি, ঠগ বাছতে গাঁ’উজাড়! এ্যতো লোক রাখার জেল পাবি কোথায়? পৃথিবীর যে সব দেশে জেল বন্ধ হোচ্ছে সে গুলো কি ভাড়া নিবি?
আরে হালায়, আপনে আছেন আপনের তালে, এইটা মিয়া আপনেরে বুঝতে হোইবো, লিস্ট করা মানে অ্যারেস্ট করা না...
ও রে বাব্ববা, যাক ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। আমি তো ভেবেছিলাম লিস্টে যাদের নাম থাকবে তাদের ধরে ধরে জেলে পুরবে!
আরে না, আগে লিস্ট হোউক পরে ডিসিশন লোইবো কী করবো না করবো...
থাক তাহলে আর চিন্তা নেই, লিস্টে নাম থাকলেও অ্যারেস্টতো আর হবো না!
জয়য়য়...থাক বাবা ব্যান্ড সঙ্গীত না গাইলেও চলবে...
সেইটাই ভালা বর্তমানে ব্যান্ড সঙ্গীত, ব্যান্ড...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন