নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা যখন একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নতুন আলোচনার বিষয়। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তুলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে এবার সরাসরি টেলিফোনে কথা বললেন তৃণমূল নেত্রী।
শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তাঁকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন কি বাংলার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় স্তরে আরও কাছাকাছি আনছে?
তবে এই যোগাযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে গেলে বাংলার ইতিহাসের দিকে তাকানো জরুরি। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। সেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল সিপিএম-বিরোধী আন্দোলন।
দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক সংঘাত বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল ও সিপিএমকে দুই বিপরীত মেরুতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলায় তৃণমূল ও সিপিএমের রাজনৈতিক সংঘাতের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না। আপাতত তেমন কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত নেই। রাজ্যে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। সিপিএমের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগকে তাই এখনই নতুন রাজনৈতিক জোটের সূচনা বলা যায় না।
তবে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে এই যোগাযোগ একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। যে নেত্রী একসময় বাংলায় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিই এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের পথে হাঁটছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে যোগাযোগ কতটা বাড়তে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন এই সান্নিধ্য কি কেবল নির্বাচন কমিশন বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের বৃহত্তর সমীকরণ তৈরির পথ খুলে দেবে।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা যখন একজোট হওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নতুন আলোচনার বিষয়। যে সিপিএমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে তুলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে এবার সরাসরি টেলিফোনে কথা বললেন তৃণমূল নেত্রী।
শুধু তাই নয়, আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তাঁকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন কি বাংলার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় স্তরে আরও কাছাকাছি আনছে?
তবে এই যোগাযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে গেলে বাংলার ইতিহাসের দিকে তাকানো জরুরি। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট। সেই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল সিপিএম-বিরোধী আন্দোলন।
দীর্ঘদিনের সেই রাজনৈতিক সংঘাত বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল ও সিপিএমকে দুই বিপরীত মেরুতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলায় তৃণমূল ও সিপিএমের রাজনৈতিক সংঘাতের উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না। আপাতত তেমন কোনও সমঝোতার ইঙ্গিত নেই। রাজ্যে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। সিপিএমের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগকে তাই এখনই নতুন রাজনৈতিক জোটের সূচনা বলা যায় না।
তবে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে এই যোগাযোগ একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। যে নেত্রী একসময় বাংলায় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানোর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনিই এখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের পথে হাঁটছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রয়োজনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে যোগাযোগ কতটা বাড়তে পারে, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন এই সান্নিধ্য কি কেবল নির্বাচন কমিশন বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের বৃহত্তর সমীকরণ তৈরির পথ খুলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন