সংবাদ

জোড়াফুলের অধিকার কার, উপ-নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের দরবারে মমতা


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

জোড়াফুলের অধিকার কার, উপ-নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের দরবারে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের উপ-নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি বিরোধ এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দলীয় নাম ও ঐতিহ্যবাহী 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপ-নির্বাচনের মুখে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
​গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে এক নির্দেশে জানায়, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। পরবর্তীতে আগামী ৬ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে কমিশন দুটি গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' ও 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে 'ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'খাম' প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালের ইলেকশন সিম্বলস অর্ডারের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশন জানায়, নির্বাচনের পূর্বে এই বিরোধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
​তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করছেন না। দলীয় নাম ও প্রতীক পুনরুদ্ধারে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি। পক্ষান্তরে নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, প্রতীক বিরোধের দরুন নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন থমকে না যায়, সে জন্য এই অস্থায়ী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
​নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপ-নির্বাচনের প্রচার ও প্রার্থী মনোনয়নের কার্যক্রমের মধ্যে প্রতীকসংক্রান্ত এই জটিলতা বড় ভূমিকা রাখছে। সুপ্রিম কোর্ট এখন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আইনি বৈধতা পরীক্ষা করে দেখবে। শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনে দুই পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও বহুদিনের পরিচিত 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীকের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জোড়াফুলের অধিকার কার, উপ-নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের দরবারে মমতা

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের উপ-নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও নাম ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি বিরোধ এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দলীয় নাম ও ঐতিহ্যবাহী 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপ-নির্বাচনের মুখে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
​গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে এক নির্দেশে জানায়, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীক কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। পরবর্তীতে আগামী ৬ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে কমিশন দুটি গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' ও 'ফুটবল খেলোয়াড়' প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষকে 'ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং 'খাম' প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৯৬৮ সালের ইলেকশন সিম্বলস অর্ডারের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশন জানায়, নির্বাচনের পূর্বে এই বিরোধের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয় বলেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
​তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই আবেদনে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।
ইতিপূর্বে কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করছেন না। দলীয় নাম ও প্রতীক পুনরুদ্ধারে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি। পক্ষান্তরে নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, প্রতীক বিরোধের দরুন নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন থমকে না যায়, সে জন্য এই অস্থায়ী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
​নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপ-নির্বাচনের প্রচার ও প্রার্থী মনোনয়নের কার্যক্রমের মধ্যে প্রতীকসংক্রান্ত এই জটিলতা বড় ভূমিকা রাখছে। সুপ্রিম কোর্ট এখন কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আইনি বৈধতা পরীক্ষা করে দেখবে। শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনে দুই পক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও বহুদিনের পরিচিত 'জোড়া ঘাসফুল' প্রতীকের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত