চরল দেবীর (৪৮) ধারণা, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীরের ওপারেই তার বাড়ি ভারতের বিহারে। সেই প্রাচীর পার হয়ে বাড়ি ফেরার আকুলতায় কেঁদে কেঁদে দুই বছরে তিনি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন তিনি।
চরল দেবীর মতোই আরেক বন্দি শ্রী গোবিন্দ বিহারী (৪৭)। ২০১১ সালে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল তার। সাজা শেষ হওয়ার পর আরও ১৪ বছর ধরে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
তাদের দুজনের মতো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাহীন অবস্থায় প্রকোষ্ঠে দিন কাটাচ্ছেন ৪৫ জন ভারতীয় নাগরিক। সাজা শেষ বা আদালত থেকে মুক্তির আদেশ মিললেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া না পাওয়ায় তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন থমকে আছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন সময় ধরা পড়েন এসব ভারতীয় নাগরিক। অনেকের আদালত থেকে কোনো সাজাই হয়নি, আবার অধিকাংশের সাজা ছিল ১৫ দিন থেকে ২ বছর। সাজা ভোগ শেষ হওয়ায় প্রশাসনিকভাবে তাদের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে অধিকাংশের প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশন বা দিল্লির সবুজ সংকেত না মেলায় আটকে আছে তাদের ফেরা।
বন্দিদের মধ্যে ৭ জন নারী এবং ২৪ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবীণ। দীর্ঘ সময় বন্দী গৃহবাসে তাদের অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এএইচএম মোস্তফা কামাল সৈকত জানান, দীর্ঘ অনিয়ন্ত্রিত বন্দিদশা তীব্র বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধির জন্ম দেয়। দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো জরুরি।
প্রবীণ এই বন্দিদের শারীরিক ব্যাধি ও মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। বছরখানেক আগে এক ভারতীয় বন্দির মৃত্যুর পর তার মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষণে শুধু কক্ষ ভাড়াবাবদ ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ লাখ টাকা।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, বাংলাদেশের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতির অভাবে তাদের মুক্তি মিলছে না।
যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘ভারতীয় এই বন্দিদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে আমরা আন্তরিক। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে সাড়া না মিললে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত পাঠানোর বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চরল দেবীর (৪৮) ধারণা, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীরের ওপারেই তার বাড়ি ভারতের বিহারে। সেই প্রাচীর পার হয়ে বাড়ি ফেরার আকুলতায় কেঁদে কেঁদে দুই বছরে তিনি এখন মানসিকভাবে অসুস্থ। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন তিনি।
চরল দেবীর মতোই আরেক বন্দি শ্রী গোবিন্দ বিহারী (৪৭)। ২০১১ সালে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ১ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল তার। সাজা শেষ হওয়ার পর আরও ১৪ বছর ধরে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
তাদের দুজনের মতো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজাহীন অবস্থায় প্রকোষ্ঠে দিন কাটাচ্ছেন ৪৫ জন ভারতীয় নাগরিক। সাজা শেষ বা আদালত থেকে মুক্তির আদেশ মিললেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাড়া না পাওয়ায় তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন থমকে আছে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সীমান্তপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন সময় ধরা পড়েন এসব ভারতীয় নাগরিক। অনেকের আদালত থেকে কোনো সাজাই হয়নি, আবার অধিকাংশের সাজা ছিল ১৫ দিন থেকে ২ বছর। সাজা ভোগ শেষ হওয়ায় প্রশাসনিকভাবে তাদের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে অধিকাংশের প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশন বা দিল্লির সবুজ সংকেত না মেলায় আটকে আছে তাদের ফেরা।
বন্দিদের মধ্যে ৭ জন নারী এবং ২৪ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবীণ। দীর্ঘ সময় বন্দী গৃহবাসে তাদের অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এএইচএম মোস্তফা কামাল সৈকত জানান, দীর্ঘ অনিয়ন্ত্রিত বন্দিদশা তীব্র বিষণ্ণতা ও মানসিক ব্যাধির জন্ম দেয়। দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো জরুরি।
প্রবীণ এই বন্দিদের শারীরিক ব্যাধি ও মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। বছরখানেক আগে এক ভারতীয় বন্দির মৃত্যুর পর তার মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষণে শুধু কক্ষ ভাড়াবাবদ ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১ লাখ টাকা।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, বাংলাদেশের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতির অভাবে তাদের মুক্তি মিলছে না।
যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘ভারতীয় এই বন্দিদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে আমরা আন্তরিক। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে সাড়া না মিললে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের ফেরত পাঠানোর বিকল্প আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন