সংবাদ

কৃষক বাঁচাতে হবে, দেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

কৃষক বাঁচাতে হবে, দেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

কৃষকরাই দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং তারাই মূল দেশ গড়ার কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন।

এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের ঘাম, শ্রম এবং নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলেই আজ ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা কখনো দুর্নীতি করেন না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে প্রতিনিয়ত অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।

কৃষকদের কাজের যথাযথ সম্মান জানাতে ও তাদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খুব শীঘ্রই 'রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দল, মত ও পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও সামগ্রিক উন্নতির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং এই দাবিগুলোকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদিত শস্য যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে কৃষকদের নিজেদের আরও বেশি সচেতন, সজাগ ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার তিন হাজার কোটি টাকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ সব কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

এছাড়া সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ প্রদানসহ কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে নেওয়া সরকারের নানা কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই দেশের কৃষকেরা এর সুফল হাতে পাবেন।

বৈঠকে কৃষক সমিতির নেতারা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কৃষকদের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কৃষক দিবস' উদযাপন, শস্য বিমা চালু, জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা, খামারে সোলার প্যানেল ব্যবহার এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঈশ্বরদীতে সত্তর ঊর্ধ্ব প্রবীণ কৃষকদের সংবর্ধনা ও মেলা আয়োজনের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলে রাষ্ট্রপতি সেই মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কৃষক বাঁচাতে হবে, দেশ গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃষকরাই দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং তারাই মূল দেশ গড়ার কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন।

এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের ঘাম, শ্রম এবং নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ফলেই আজ ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা কখনো দুর্নীতি করেন না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে প্রতিনিয়ত অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।

কৃষকদের কাজের যথাযথ সম্মান জানাতে ও তাদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খুব শীঘ্রই 'রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার' চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দল, মত ও পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও সামগ্রিক উন্নতির জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে এবং এই দাবিগুলোকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদিত শস্য যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে কৃষকদের নিজেদের আরও বেশি সচেতন, সজাগ ও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার তিন হাজার কোটি টাকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ সব কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।

এছাড়া সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ প্রদানসহ কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে নেওয়া সরকারের নানা কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই দেশের কৃষকেরা এর সুফল হাতে পাবেন।

বৈঠকে কৃষক সমিতির নেতারা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, কৃষকদের স্বীকৃতিস্বরূপ 'কৃষক দিবস' উদযাপন, শস্য বিমা চালু, জেলা-উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহের দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে আধুনিক হিমাগার স্থাপন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা, খামারে সোলার প্যানেল ব্যবহার এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঈশ্বরদীতে সত্তর ঊর্ধ্ব প্রবীণ কৃষকদের সংবর্ধনা ও মেলা আয়োজনের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলে রাষ্ট্রপতি সেই মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত