সংবাদ

আইনশৃঙ্খলার লাগাম কার হাতে?


আবদুল হামিদ মাহবুব
আবদুল হামিদ মাহবুব
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ এএম

আইনশৃঙ্খলার লাগাম কার হাতে?
মিরপুরে সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠী স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে

ক্ষোভ সামলে রাখা কঠিন। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়, “দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি।” দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখলে সত্যিই প্রশ্ন জাগে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার মন্ত্রণালয় কি যথাযথভাবে কাজ করছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কোথায়? অন্যায় যখন প্রকাশ্যেই ঘটে, তখন পুলিশ কেন অনেক সময় দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকে?

মিরপুরে সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক প্রভাব ও জমি দখলের স্বার্থ। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি জানত, তারপরও কেন কার্যকর প্রতিরোধ দেখা গেল না, সেটি তদন্ত করে জনগণের সামনে পরিষ্কার করা জরুরি।

ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। এবার লক্ষ্য একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অভিযোগের কেন্দ্রে আবারও জমি দখলের স্বার্থ। প্রশ্ন তাই সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের হাত-পা বাঁধা?

দেশের মানুষ এমন বাংলাদেশ চায় না, যেখানে জমি দখল, হামলা, লুটপাট কিংবা ভয় দেখানো একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্ষমতার প্রদর্শনী হয়ে উঠবে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অতীতের দলীয় পদ-পদবির প্রভাব থাকার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। কেউ বর্তমানে পদে নেই, কিন্তু ‘সাবেক’ পরিচয়টুকুই যদি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে সেটিও রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার কাছে তাই প্রথম প্রশ্নটি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে, দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে।

যেসব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যকর কমিটি নেই, সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই কিংবা একই এলাকায় একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের আলাদা নেতৃত্ব দাবি করে, সেখানেই তৈরি হয় নিয়ন্ত্রণের সংকট। একই এলাকায় কেউ নিজেকে মূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছে, অন্য কেউ পুরোনো পদ-পদবির পরিচয়ে প্রভাব দেখাচ্ছে, আবার আরেকটি পক্ষ নিজেদের আলাদা বলয় তৈরি করছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কে কার কথা শুনবে, সেটিই অনেক সময় পরিষ্কার থাকে না।

এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার দায় শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও এর দায় নিতে হবে। সংগঠনগুলোকে নিয়মিত কমিটির আওতায় আনতে হবে, সাংগঠনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে, রাজনীতির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা হবে। পদ কোনো অপরাধের লাইসেন্স নয়।

একই সঙ্গে পদ-পদবি ঘিরে আর্থিক লেনদেন, প্রভাব বিস্তার কিংবা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগও জরুরি। রাজনৈতিক সংগঠনে পদ মানে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ নয়; বরং দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি।

এর পরের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পুলিশের। একটি থানার আওতায় যদি একাধিক রাজনৈতিক বলয় সক্রিয় থাকে, তাহলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও নানা দিক থেকে চাপ তৈরি হয়। এক পক্ষের সঙ্গে কথা বললে অন্য পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়; একজনের অভিযোগ আমলে নিলে আরেকজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত একজন পুলিশ সদস্য যদি মনে করেন, আইন প্রয়োগের আগে তাকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে, তাহলে আইনের শাসন দুর্বল হওয়াই স্বাভাবিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এখানেই আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

পুলিশকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে; অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির অনুমোদন নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি চলতে পারে না। পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামো থাকা দরকার, যাতে থানার কার্যক্রমে অযাচিত চাপ তৈরি না হয়।

পুলিশকে আইনের অধীনে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে, আবার সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ অন্যায় করলে তারও ব্যবস্থা হবে; কিন্তু রাজনৈতিক চাপে পুলিশ যেন আইন প্রয়োগ থেকে পিছিয়ে না যায়; এই নিশ্চয়তাও রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু থানার সমস্যা নয়। এটি মানুষের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার, ব্যবসার পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাতের আঁধারে জমি দখল, দিনের আলোয় লুটপাট কিংবা প্রকাশ্যে ত্রাস; এসব কোনো স্বাভাবিক সমাজের চিত্র হতে পারে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে; এ কথা বলার সময় হয়তো আসেনি। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই দায়িত্ব এখনই নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ; রাজনৈতিক পেশিশক্তির লাগাম টানা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের পেশাগত ভূমিকা পালনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। দেশের মানুষ কথার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। যারা অন্যায় করছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়; অপরাধটাই যেন তাদের পরিচয় হয়। আর যারা আইন রক্ষা করবে, তারা যেন রাজনৈতিক অসন্তোষের ভয়ে আইন প্রয়োগ থেকে পিছিয়ে না যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই; সরকার কি সত্যিই পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে চায়? তা হলে সময় এখনও আছে। দরকার শুধু দৃঢ় সিদ্ধান্ত, স্পষ্ট নির্দেশনা এবং তার বাস্তব প্রয়োগ।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক সভাপতি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আইনশৃঙ্খলার লাগাম কার হাতে?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ক্ষোভ সামলে রাখা কঠিন। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়, “দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি।” দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখলে সত্যিই প্রশ্ন জাগে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার মন্ত্রণালয় কি যথাযথভাবে কাজ করছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কোথায়? অন্যায় যখন প্রকাশ্যেই ঘটে, তখন পুলিশ কেন অনেক সময় দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকে?

মিরপুরে সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠী একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক প্রভাব ও জমি দখলের স্বার্থ। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি জানত, তারপরও কেন কার্যকর প্রতিরোধ দেখা গেল না, সেটি তদন্ত করে জনগণের সামনে পরিষ্কার করা জরুরি।

ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। এবার লক্ষ্য একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অভিযোগের কেন্দ্রে আবারও জমি দখলের স্বার্থ। প্রশ্ন তাই সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের হাত-পা বাঁধা?

দেশের মানুষ এমন বাংলাদেশ চায় না, যেখানে জমি দখল, হামলা, লুটপাট কিংবা ভয় দেখানো একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ক্ষমতার প্রদর্শনী হয়ে উঠবে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অতীতের দলীয় পদ-পদবির প্রভাব থাকার অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। কেউ বর্তমানে পদে নেই, কিন্তু ‘সাবেক’ পরিচয়টুকুই যদি এলাকায় প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে সেটিও রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার কাছে তাই প্রথম প্রশ্নটি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে, দ্বিতীয়টি রাজনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে।

যেসব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যকর কমিটি নেই, সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই কিংবা একই এলাকায় একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের আলাদা নেতৃত্ব দাবি করে, সেখানেই তৈরি হয় নিয়ন্ত্রণের সংকট। একই এলাকায় কেউ নিজেকে মূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছে, অন্য কেউ পুরোনো পদ-পদবির পরিচয়ে প্রভাব দেখাচ্ছে, আবার আরেকটি পক্ষ নিজেদের আলাদা বলয় তৈরি করছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কে কার কথা শুনবে, সেটিই অনেক সময় পরিষ্কার থাকে না।

এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার দায় শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও এর দায় নিতে হবে। সংগঠনগুলোকে নিয়মিত কমিটির আওতায় আনতে হবে, সাংগঠনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে, রাজনীতির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা হবে। পদ কোনো অপরাধের লাইসেন্স নয়।

একই সঙ্গে পদ-পদবি ঘিরে আর্থিক লেনদেন, প্রভাব বিস্তার কিংবা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগও জরুরি। রাজনৈতিক সংগঠনে পদ মানে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ নয়; বরং দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি।

এর পরের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পুলিশের। একটি থানার আওতায় যদি একাধিক রাজনৈতিক বলয় সক্রিয় থাকে, তাহলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও নানা দিক থেকে চাপ তৈরি হয়। এক পক্ষের সঙ্গে কথা বললে অন্য পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়; একজনের অভিযোগ আমলে নিলে আরেকজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত একজন পুলিশ সদস্য যদি মনে করেন, আইন প্রয়োগের আগে তাকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবতে হবে, তাহলে আইনের শাসন দুর্বল হওয়াই স্বাভাবিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এখানেই আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

পুলিশকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে; অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির অনুমোদন নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি চলতে পারে না। পুলিশের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামো থাকা দরকার, যাতে থানার কার্যক্রমে অযাচিত চাপ তৈরি না হয়।

পুলিশকে আইনের অধীনে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে, আবার সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ অন্যায় করলে তারও ব্যবস্থা হবে; কিন্তু রাজনৈতিক চাপে পুলিশ যেন আইন প্রয়োগ থেকে পিছিয়ে না যায়; এই নিশ্চয়তাও রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শুধু থানার সমস্যা নয়। এটি মানুষের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার, ব্যবসার পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাতের আঁধারে জমি দখল, দিনের আলোয় লুটপাট কিংবা প্রকাশ্যে ত্রাস; এসব কোনো স্বাভাবিক সমাজের চিত্র হতে পারে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে; এ কথা বলার সময় হয়তো আসেনি। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই দায়িত্ব এখনই নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ; রাজনৈতিক পেশিশক্তির লাগাম টানা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের পেশাগত ভূমিকা পালনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। দেশের মানুষ কথার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। যারা অন্যায় করছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নয়; অপরাধটাই যেন তাদের পরিচয় হয়। আর যারা আইন রক্ষা করবে, তারা যেন রাজনৈতিক অসন্তোষের ভয়ে আইন প্রয়োগ থেকে পিছিয়ে না যায়।

এখন প্রশ্ন একটাই; সরকার কি সত্যিই পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে চায়? তা হলে সময় এখনও আছে। দরকার শুধু দৃঢ় সিদ্ধান্ত, স্পষ্ট নির্দেশনা এবং তার বাস্তব প্রয়োগ।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: সাবেক সভাপতি, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত