দীর্ঘদিন ধরে যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করছেন, সেটি যদি কাগজে-কলমে অন্য কারও নামে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। একইভাবে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম অন্য কেউ ব্যবহার করলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ মোবাইল নম্বর এখন ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিয়ম মেনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন বা ওনারশিপ ট্রান্সফার করা যায়।
মালিকানা পরিবর্তনে যা করতে হবে
সিমটি যে অপারেটরের, সেই অপারেটরের নির্ধারিত কাস্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সাধারণ নিয়মে সিমের বর্তমান নিবন্ধিত মালিক এবং নতুন মালিক—দুজনের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়।
প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পাশাপাশি নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে বর্তমান ও নতুন মালিককে একসঙ্গে গ্রামীণফোন সেন্টার বা এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে উপস্থিত হতে হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি/এসএনআইডিসহ অনুমোদিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন। নতুন মালিকের ক্ষেত্রে এনআইডি/এসএনআইডি গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে অপারেটরটি।
খরচ কত
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের ফি অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে। গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মূল্য ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা নিলে এর সঙ্গে এলাকাভেদে ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা সিটির মধ্যে সাধারণত ৮০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬০ টাকা ডেলিভারি চার্জ উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রবির সিম সার্ভিস পেজে ওনারশিপ ট্রান্সফার ফ্রি দেখানো হচ্ছে। তাই সিমের মালিকানা পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্ধারিত ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সিমের মালিক মারা গেলে
মৃত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম উত্তরাধিকারীর নামে নেওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মতো নয়। গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের মালিকানা পরিবর্তনে মৃত্যুসনদ, উত্তরাধিকার/ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র লাগে। এ প্রক্রিয়ার ফিও সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের চেয়ে আলাদা।
বর্তমান মালিককে খুঁজে না পেলে
অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমের প্রকৃত মালিককে পাওয়া না গেলে মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ সাধারণ প্রক্রিয়ায় আগের নিবন্ধিত মালিকের উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে নিজের পরিস্থিতি জানানোই নিরাপদ। অন্যের এনআইডি বা পরিচয় ব্যবহার করে সিম নিজের নামে নিবন্ধনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
ঘরে বসে মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ
কিছু অপারেটর নির্দিষ্ট এলাকায় হোম সার্ভিসের মাধ্যমে সিমের মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিচ্ছে। গ্রামীণফোনের অনলাইন শপের মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট ও ওনারশিপ ট্রান্সফারের হোম সার্ভিস বর্তমানে ৬৪ জেলার মহানগর ও জেলা শহরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে অনলাইন বা হোম সার্ভিস নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং মোট খরচ আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্দেশনা থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
আগে যাচাই করুন সিমটি কার নামে
আপনি নিয়মিত যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন, সেটি নিজের এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অন্যের নামে নিবন্ধিত থাকলে বৈধ প্রক্রিয়ায় যত দ্রুত সম্ভব মালিকানা নিজের নামে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করছেন, সেটি যদি কাগজে-কলমে অন্য কারও নামে নিবন্ধিত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। একইভাবে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম অন্য কেউ ব্যবহার করলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ মোবাইল নম্বর এখন ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিয়ম মেনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন বা ওনারশিপ ট্রান্সফার করা যায়।
মালিকানা পরিবর্তনে যা করতে হবে
সিমটি যে অপারেটরের, সেই অপারেটরের নির্ধারিত কাস্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সাধারণ নিয়মে সিমের বর্তমান নিবন্ধিত মালিক এবং নতুন মালিক—দুজনের উপস্থিতি প্রয়োজন হয়।
প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখানোর পাশাপাশি নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে বর্তমান ও নতুন মালিককে একসঙ্গে গ্রামীণফোন সেন্টার বা এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে উপস্থিত হতে হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি/এসএনআইডিসহ অনুমোদিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন। নতুন মালিকের ক্ষেত্রে এনআইডি/এসএনআইডি গ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে অপারেটরটি।
খরচ কত
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের ফি অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে। গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মূল্য ভ্যাটসহ ১১৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে হোম সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা নিলে এর সঙ্গে এলাকাভেদে ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা সিটির মধ্যে সাধারণত ৮০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬০ টাকা ডেলিভারি চার্জ উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রবির সিম সার্ভিস পেজে ওনারশিপ ট্রান্সফার ফ্রি দেখানো হচ্ছে। তাই সিমের মালিকানা পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্ধারিত ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সিমের মালিক মারা গেলে
মৃত ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম উত্তরাধিকারীর নামে নেওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মতো নয়। গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের মালিকানা পরিবর্তনে মৃত্যুসনদ, উত্তরাধিকার/ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র লাগে। এ প্রক্রিয়ার ফিও সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের চেয়ে আলাদা।
বর্তমান মালিককে খুঁজে না পেলে
অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমের প্রকৃত মালিককে পাওয়া না গেলে মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি জটিল হতে পারে। কারণ সাধারণ প্রক্রিয়ায় আগের নিবন্ধিত মালিকের উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে নিজের পরিস্থিতি জানানোই নিরাপদ। অন্যের এনআইডি বা পরিচয় ব্যবহার করে সিম নিজের নামে নিবন্ধনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
ঘরে বসে মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ
কিছু অপারেটর নির্দিষ্ট এলাকায় হোম সার্ভিসের মাধ্যমে সিমের মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিচ্ছে। গ্রামীণফোনের অনলাইন শপের মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট ও ওনারশিপ ট্রান্সফারের হোম সার্ভিস বর্তমানে ৬৪ জেলার মহানগর ও জেলা শহরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে অনলাইন বা হোম সার্ভিস নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং মোট খরচ আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্দেশনা থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
আগে যাচাই করুন সিমটি কার নামে
আপনি নিয়মিত যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন, সেটি নিজের এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অন্যের নামে নিবন্ধিত থাকলে বৈধ প্রক্রিয়ায় যত দ্রুত সম্ভব মালিকানা নিজের নামে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন