সংবাদ

সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে দেরি কেন


মিথুশিলাক মুরমু
মিথুশিলাক মুরমু
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে দেরি কেন
দিনাজপুরে সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি এখন আর নেই। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দিনাজপুর যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। গিয়েছিলাম ঐতিহাসিক সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি স্মরণ করতে। কিন্তু রড, ইট, পাথর, বালি ও কংক্রিটে নির্মিত সেই ভাস্কর্যটি এখন আর নেই। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মুখে সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। উপমহাদেশের বীরযোদ্ধা সিধু-কানুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভাস্কর্যের ধ্বংসাবশেষও যেন আমাদের ইতিহাসের প্রতি এক ধরনের অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত ভাস্কর্যটি তিনটি স্তরে সাজানো হয়েছিল। প্রথম অংশে ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবীদের স্মরণে মুর‌্যাল। দ্বিতীয় স্তরে ছিল কমরেড ইলা মিত্র, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, কমরেড গুরুদাস তালুকদার ও খোকা বাইশের মুর‌্যালের প্রতিকৃতি। তৃতীয় অংশে ছিল ব্রিটিশবিরোধী মহান সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর নায়ক সিধু-কানু ভ্রাতৃদ্বয়ের ভাস্কর্য। তাদের হাতে ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহের চিরন্তন স্মারক তীর-ধনুক। বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে তাদের উপস্থাপন করা হয়েছিল। নিচের দুটি অংশ অক্ষত থাকলেও সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি উপড়ে ফেলা হয়েছে।

ভাস্কর্যটি ভাঙার ঘটনা নিয়ে আদিবাসী নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের মুর‌্যালের কোনো ক্ষতি না করে শুধু সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি কেন ভেঙে ফেলা হলো? তাদের আশঙ্কা, এর পেছনে আদিবাসীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানকে অস্বীকার করার মানসিকতা কাজ করতে পারে। বিষয়টি সত্য হলে তা অবশ্যই উদ্বেগের। কারণ কোনো জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মারক ধ্বংস করা শুধু একটি স্থাপনা নষ্ট করা নয়; এর সঙ্গে সেই জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও ইতিহাসের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে।

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের স্মারক হিসেবে সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে কান্তনগর মোড়ে স্থাপন করা হয়। দিনাজপুরের কান্তনগর মোড় বা ১০ মাইলের ঐতিহাসিক তেভাগা চত্বরে নির্মিত স্মারকটি ছিল এই অঞ্চলের কৃষক ও আদিবাসী মানুষের সংগ্রামের একটি দৃশ্যমান প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভাস্কর্যটির সঙ্গে নিজেদের ইতিহাস ও অধিকার আদায়ের চেতনার সম্পর্ক তৈরি করেছিল। সেখানে বারবার গিয়ে তারা অতীতের সংগ্রামকে স্মরণ করতেন।

সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের রাজপথে আদিবাসী ছাত্র-জনতা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী মুক্তি মোর্চাসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেন। সেদিন প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি দিনাজপুরের ডিসি‘র কাছে হস্তান্তর করা হয়। নয় দফা দাবির মধ্যে সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙচুরকারীদের শাস্তির দাবিও ছিল।

জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, দিনাজপুরের ডিসি তখন বলেছিলেন, সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তা বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন পরও সেই ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থার অবসান হলো কি?

১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর বাংলার কৃষকদের ওপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ আরও তীব্র হয়। কৃষকেরা নিজেদের শ্রম ও উৎপাদন খরচ বহন করেও উৎপাদিত ফসলের বড় অংশ জোতদারদের দিতে বাধ্য হতেন। এরই প্রেক্ষাপটে তেভাগা আন্দোলনের দাবি ছিল, উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক এবং এক-তৃতীয়াংশ জমির মালিক পাবেন। ১৯৪৬-৪৮ সালের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সাঁওতালদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। হাজী মোহাম্মদ দানেশ এ অঞ্চলের কৃষক ও সাঁওতালদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সাঁওতালদের সংগ্রামের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৮৫৫ সালে সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো ও ঝানোসহ সাঁওতাল নেতারা জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। তাদের আন্দোলনে সাঁওতালদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার খেটে খাওয়া মানুষও যুক্ত হয়েছিল। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম উপমহাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।

সিধু-কানুর স্মৃতি ধরে রাখতে ভারতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের নামে স্থাপনা ও ভাস্কর্য রয়েছে। তাদের নামে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে সিধু-কানুর স্মৃতি শুধু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নয়, উপমহাদেশের শোষণবিরোধী সংগ্রামেরও অংশ।

দিনাজপুরের কান্তনগর মোড়ে স্থাপিত ভাস্কর্যটি চিত্রশিল্পী প্রদ্যোত কুমার দাসের নকশায় নির্মিত হয়েছিল। বহু মিটিং, আন্দোলন ও দাবির পর এই স্মারক নির্মিত হয়। তাই এটি শুধু একটি ভাস্কর্য নয়; এর সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষক, শ্রমজীবী ও আদিবাসী মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

একটি ঐতিহাসিক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার পর তা পুনর্নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাস্কর্যটির ধ্বংসাবশেষ যদি সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে তার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ইতিহাসের কোনো স্মারক ধ্বংসের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

সাঁওতাল বিদ্রোহের মহানায়ক সিধু-কানু শুধু একটি জনগোষ্ঠীর বীর নন। শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। তাই তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো এবং কান্তনগর মোড়ে তাদের ভাস্কর্য দ্রুত স্বস্থানে পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের সব ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মারকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ইতিহাসের স্মারক রক্ষা মানে শুধু অতীতকে রক্ষা করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াও।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: কলামিস্ট]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনে দেরি কেন

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাম্প্রতিক সময়ে দিনাজপুর যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। গিয়েছিলাম ঐতিহাসিক সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি স্মরণ করতে। কিন্তু রড, ইট, পাথর, বালি ও কংক্রিটে নির্মিত সেই ভাস্কর্যটি এখন আর নেই। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মুখে সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। উপমহাদেশের বীরযোদ্ধা সিধু-কানুর স্মৃতিবিজড়িত এই ভাস্কর্যের ধ্বংসাবশেষও যেন আমাদের ইতিহাসের প্রতি এক ধরনের অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূলত ভাস্কর্যটি তিনটি স্তরে সাজানো হয়েছিল। প্রথম অংশে ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহ ও তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবীদের স্মরণে মুর‌্যাল। দ্বিতীয় স্তরে ছিল কমরেড ইলা মিত্র, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, কমরেড গুরুদাস তালুকদার ও খোকা বাইশের মুর‌্যালের প্রতিকৃতি। তৃতীয় অংশে ছিল ব্রিটিশবিরোধী মহান সাঁওতাল বিদ্রোহের অমর নায়ক সিধু-কানু ভ্রাতৃদ্বয়ের ভাস্কর্য। তাদের হাতে ছিল সাঁওতাল বিদ্রোহের চিরন্তন স্মারক তীর-ধনুক। বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে তাদের উপস্থাপন করা হয়েছিল। নিচের দুটি অংশ অক্ষত থাকলেও সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি উপড়ে ফেলা হয়েছে।

ভাস্কর্যটি ভাঙার ঘটনা নিয়ে আদিবাসী নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ রয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের মুর‌্যালের কোনো ক্ষতি না করে শুধু সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি কেন ভেঙে ফেলা হলো? তাদের আশঙ্কা, এর পেছনে আদিবাসীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদানকে অস্বীকার করার মানসিকতা কাজ করতে পারে। বিষয়টি সত্য হলে তা অবশ্যই উদ্বেগের। কারণ কোনো জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংগ্রামের স্মারক ধ্বংস করা শুধু একটি স্থাপনা নষ্ট করা নয়; এর সঙ্গে সেই জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও ইতিহাসের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে।

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের স্মারক হিসেবে সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে কান্তনগর মোড়ে স্থাপন করা হয়। দিনাজপুরের কান্তনগর মোড় বা ১০ মাইলের ঐতিহাসিক তেভাগা চত্বরে নির্মিত স্মারকটি ছিল এই অঞ্চলের কৃষক ও আদিবাসী মানুষের সংগ্রামের একটি দৃশ্যমান প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভাস্কর্যটির সঙ্গে নিজেদের ইতিহাস ও অধিকার আদায়ের চেতনার সম্পর্ক তৈরি করেছিল। সেখানে বারবার গিয়ে তারা অতীতের সংগ্রামকে স্মরণ করতেন।

সিধু-কানুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পর ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের রাজপথে আদিবাসী ছাত্র-জনতা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী মুক্তি মোর্চাসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অংশ নেন। সেদিন প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি দিনাজপুরের ডিসি‘র কাছে হস্তান্তর করা হয়। নয় দফা দাবির মধ্যে সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ এবং ভাঙচুরকারীদের শাস্তির দাবিও ছিল।

জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, দিনাজপুরের ডিসি তখন বলেছিলেন, সিধু-কানুর ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তা বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত দিন পরও সেই ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থার অবসান হলো কি?

১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর বাংলার কৃষকদের ওপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ আরও তীব্র হয়। কৃষকেরা নিজেদের শ্রম ও উৎপাদন খরচ বহন করেও উৎপাদিত ফসলের বড় অংশ জোতদারদের দিতে বাধ্য হতেন। এরই প্রেক্ষাপটে তেভাগা আন্দোলনের দাবি ছিল, উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ কৃষক এবং এক-তৃতীয়াংশ জমির মালিক পাবেন। ১৯৪৬-৪৮ সালের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী সাঁওতালদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। হাজী মোহাম্মদ দানেশ এ অঞ্চলের কৃষক ও সাঁওতালদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সাঁওতালদের সংগ্রামের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৮৫৫ সালে সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরব, ফুলো ও ঝানোসহ সাঁওতাল নেতারা জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। তাদের আন্দোলনে সাঁওতালদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার খেটে খাওয়া মানুষও যুক্ত হয়েছিল। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই সংগ্রাম উপমহাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিয়েছে।

সিধু-কানুর স্মৃতি ধরে রাখতে ভারতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পার্ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের নামে স্থাপনা ও ভাস্কর্য রয়েছে। তাদের নামে স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে সিধু-কানুর স্মৃতি শুধু সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নয়, উপমহাদেশের শোষণবিরোধী সংগ্রামেরও অংশ।

দিনাজপুরের কান্তনগর মোড়ে স্থাপিত ভাস্কর্যটি চিত্রশিল্পী প্রদ্যোত কুমার দাসের নকশায় নির্মিত হয়েছিল। বহু মিটিং, আন্দোলন ও দাবির পর এই স্মারক নির্মিত হয়। তাই এটি শুধু একটি ভাস্কর্য নয়; এর সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষক, শ্রমজীবী ও আদিবাসী মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

একটি ঐতিহাসিক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার পর তা পুনর্নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভাস্কর্যটির ধ্বংসাবশেষ যদি সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে তার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ইতিহাসের কোনো স্মারক ধ্বংসের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

সাঁওতাল বিদ্রোহের মহানায়ক সিধু-কানু শুধু একটি জনগোষ্ঠীর বীর নন। শোষণ, বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। তাই তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো এবং কান্তনগর মোড়ে তাদের ভাস্কর্য দ্রুত স্বস্থানে পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের সব ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্মারকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ইতিহাসের স্মারক রক্ষা মানে শুধু অতীতকে রক্ষা করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াও।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: কলামিস্ট]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত