সংবাদ

রণক্ষেত্র মিরপুর: ৪ মামলায় আসামি দুই হাজার, গ্রেপ্তার ৩০


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

রণক্ষেত্র মিরপুর: ৪ মামলায় আসামি দুই হাজার, গ্রেপ্তার ৩০
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অভিযুক্ত করায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজারে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
​আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান সার্বিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিরপুর থানায় গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা রুজু করেছে। এ সব মামলায় প্রতিটিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।
​উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত পর্যবেক্ষণ করতে গতকাল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া সিটি করপোরেশনের যানবাহনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর তিনি বলেন, "হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।"
​ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের অভিমুখে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচতলার ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে উচ্ছেদ কাজে নিয়োজিত ভেকুর আঘাতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূচনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
​অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে আত্মরক্ষার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরিস্থিতি চলাকালে উত্তেজিত জনতা সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ফলে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর প্রধান সড়কে সাময়িকভাবে সকল ধরনের যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায় এবং ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আহত হন। প্রাথমিক বিশৃঙ্খলার পর দুপুরের দিকে সিটি করপোরেশন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


রণক্ষেত্র মিরপুর: ৪ মামলায় আসামি দুই হাজার, গ্রেপ্তার ৩০

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার জেরে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অভিযুক্ত করায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজারে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
​আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান সার্বিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিরপুর থানায় গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে একটি, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা রুজু করেছে। এ সব মামলায় প্রতিটিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।
​উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত পর্যবেক্ষণ করতে গতকাল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং আগুনে পুড়ে যাওয়া সিটি করপোরেশনের যানবাহনগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর তিনি বলেন, "হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।"
​ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের অভিমুখে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচতলার ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে উচ্ছেদ কাজে নিয়োজিত ভেকুর আঘাতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূচনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
​অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর চড়াও হলে সংঘর্ষের রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে আত্মরক্ষার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরিস্থিতি চলাকালে উত্তেজিত জনতা সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ফলে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর প্রধান সড়কে সাময়িকভাবে সকল ধরনের যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায় এবং ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আহত হন। প্রাথমিক বিশৃঙ্খলার পর দুপুরের দিকে সিটি করপোরেশন পুনরায় অভিযান পরিচালনা করে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত